ঢাকা রবিবার, ০৮ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২৩শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৭শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ০৮ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২৩শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

সৌদি-পাকিস্তান-তুরস্কের প্রতিরক্ষা জোটে যোগ দিতে পারে মিসর


সৌদি-পাকিস্তান-তুরস্কের প্রতিরক্ষা জোটে যোগ দিতে পারে মিসর

মিসর সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান এই বিষয়টি নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেছেন।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ ও আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষিতে তিন দেশ 'মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি' সই করার পরদিনই তিনি মিসরকে জোটে যুক্ত করার সম্ভাবনার কথা জানান।

আরও পড়ুন: ফিনল্যান্ডে নিখোঁজ ২৪ দিন পর নাফিস ইস্কান্দারের মরদেহ উদ্ধার

সংবাদমাধ্যম আরব নিউজ জানাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে গত শুক্রবার সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান এই চুক্তি সই করেছে।

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ওই যুদ্ধে আশপাশের দেশগুলোও জড়িয়ে পড়েছে এবং হরমুজ প্রণালি ও লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হয়েছে।

এই যুদ্ধের কারণে ইরান ও ইয়েমেনের তাদের মিত্র হুথিরা আরও সক্রিয় হয়ে উঠেছে এবং তারা উভয়েই সৌদি আরবে হামলা চালিয়েছে।

এর পাশাপাশি, গত মাসে ভূমধ্যসাগরের একটি মিসরীয় বন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনায়ও ড্রোন আক্রমণ ঘটেছে।

আরও পড়ুন: ফ্রান্স বিএনপিতে সাংগঠনিক সংকট, নতুন কমিটির নামে বিভ্রান্তি

এই অবস্থায়, তুরস্কের রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থা আনাদোলুকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হাকান ফিদান বলেছেন, তিনি আশা করছেন মিসরও 'মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে' যোগ দেবে।

তিনি মিসরকে 'সব বিষয়ে স্বাভাবিক অংশীদার' হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

তিনি বলেন, "আমি বিশ্বাস করি, পরবর্তী ধাপে মিসরও আমাদের এই জোটের অংশ হবে। আমরা ইতোমধ্যে একে অপরের সঙ্গে এমনভাবে কাজ করছি, যেন আমরা জোটের সদস্য।"

ফিদান আরও বলেন, "কিছু কারিগরি বিষয় রয়েছে। সেগুলো সমাধান হয়ে গেলে মিসরের এ জোটে না থাকার কোনও কারণ নেই।"

আরও পড়ুন: ছুটি ছাড়াই ৪২ শিক্ষককে নিয়ে কক্সবাজার ভ্রমণে দুই সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা

তিনি এই প্রতিরক্ষা চুক্তিকে একটি নির্দিষ্ট দেশকে লক্ষ্য করে করা হয়নি বলেও জানান।

বার্তাসংস্থা আনাদোলুর প্রতিবেদনে তার বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়, "আমরা কোনও অভিন্ন হুমকির কথা লিখিতভাবে উল্লেখ করিনি।"

এর আগে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, চুক্তি অনুযায়ী জোটের কোনও একটি সদস্যের ওপর হামলাকে সব সদস্যের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এর উদ্দেশ্য হলো 'সম্মিলিত প্রতিরোধ সক্ষমতা শক্তিশালী করা'।

সাক্ষাৎকারে হাকান ফিদান বলেন, এই চুক্তি 'এই অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী স্থিতিশীলতা আনার পথে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ'।

আরও পড়ুন: হামের টিকা বিতরণে অনিয়মের তদন্তে তিন সদস্যের কমিশন গঠন

একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, ভবিষ্যতে এই জোট আরও সম্প্রসারিত হতে পারে।

তিনি বলেন, "আমাদের প্রেসিডেন্টের ভাবনা অনুযায়ী, আমাদের শুধু তিনটি দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। আমাদের আরও বড় হতে হবে এবং প্রয়োজন হলে সব দেশকে এই ছাতার নিচে নিয়ে আসতে হবে।"

সূত্র: আরব নিউজ, রয়টার্স, আনাদোলু এজেন্সি

আরও পড়ুন: এইচএসসির খাতা পুনর্মূল্যায়ন আবেদনের সময়সীমা বৃদ্ধি, ২ লাখ ৭৮ হাজার ৮৮২ শিক্ষার্থী আবেদন করেছেন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া বিচারপতি খায়রুল হককে গ্রেপ্তার নয়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ৯ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৫:২৩ পি.এম


সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া বিচারপতি খায়রুল হককে গ্রেপ্তার নয়

সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে গ্রেফতার না করার নির্দেশনা দিয়ে হাইকোর্টের আদেশকে বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ, সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া।

রোববার (৯ আগস্ট) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে চার সদস্যের আপিল বিভাগ এই আদেশ প্রদান করেছেন।

আদালতে আবেদনের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী কামরুল হক সিদ্দিকী, সারা হোসেন, মোস্তাফিজুর রহমান খান এবং আইনজীবী মাহবুব শফিক, মোনায়েম নবী শাহীন প্রমুখ। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ মেহেদি হাসান চৌধুরী।

এর আগে, গত ১৭ মে হাইকোর্ট বেঞ্চ, বিচারপতি রাজিক–আল–জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে, রুলসহ এ আদেশ প্রদান করেছিল।

গত বছরের ২৪ জুলাই ধানমন্ডির নিজ বাসা থেকে বিচারপতি খায়রুল হককে গ্রেফতার করা হয়েছিল। পরবর্তীতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময়ে যাত্রাবাড়ীতে যুবদলকর্মী আবদুল কাইয়ুম আহাদ হত্যা মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। ৮ মার্চ হাইকোর্ট রুল মঞ্জুর করে চারটি মামলায় তাকে জামিন দেন। তারপর ১১ মার্চ তিনি দুদকের মামলায়ও জামিন পান। রাষ্ট্রপক্ষ এই জামিন স্থগিতের জন্য আবেদন করলেও, আপিল বিভাগ তা খারিজ করে দেয়।

১১ মার্চের পর, যাত্রাবাড়ী থানায় আরিফ ও আদাবর থানায় রুবেল হত্যা মামলায় তাকে নতুন করে গ্রেফতার দেখানো হয়। এসব মামলায় তিনি নিম্ন আদালতে জামিন চেয়ে ব্যর্থ হওয়ার পর হাইকোর্টে আবেদন করেন। তার পর ২৮ এপ্রিল যুবদলকর্মী হত্যা, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রায় জালিয়াতি এবং দুদকের করা—এই পাঁচ মামলায় আপিল বিভাগ বিচারপতি খায়রুল হকের জামিন বহাল রাখেন।

১২ মে তিনি যাত্রাবাড়ী ও আদাবর থানার দুটি হত্যা মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন পান। তার বিরুদ্ধে থাকা মোট সাতটি মামলায় সবকটিতে জামিন হওয়ার পর আইনজীবীরা জানান, আপাতত তার কারামুক্তিতে কোনো আইনি বাধা নেই। কিন্তু রাষ্ট্রপক্ষ হাইকোর্টের এই জামিন আদেশ স্থগিত করার জন্য আপিল বিভাগে আবেদন করে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বর্জ্যকে বোঝা নয়, জ্বালানিতে রূপান্তরের তাগিদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৯ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৫:২৯ পি.এম


বর্জ্যকে বোঝা নয়, জ্বালানিতে রূপান্তরের তাগিদ

বাংলাদেশের পৌর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এখনো যেন মূলত ‘সংগ্রহ, পরিবহন ও ফেলে দেওয়া’ নির্ভর। ফলে বর্জ্য পুনর্ব্যবহার, সম্পদ পুনরুদ্ধার ও জ্বালানি উৎপাদনের সুযোগগুলো সঠিকভাবে কাজে লাগছে না।

উন্মুক্ত স্থানে, জলাভূমি ও জলাশয়ে বর্জ্য ফেলানোর কারণে দূষণ, জলাবদ্ধতা, বায়ুদূষণ এবং জনস্বাস্থ্যঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্জ্যকে বোঝা হিসেবে না দেখে সম্পদ, জ্বালানি ও অর্থনৈতিক সুযোগে রূপান্তরের জন্য আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা।

রবিবার (৯ আগস্ট) জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) আয়োজিত ‘বাংলাদেশের পৌর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা : সমস্যা, চ্যালেঞ্জ ও টেকসই সমাধানের রূপরেখা’ শীর্ষক সেমিনারে এই আহ্বান জানানো হয়।

সেমিনারের সভাপতিত্ব করেন বাপার সভাপতি অধ্যাপক ড. নূর মোহাম্মদ তালুকদার। তিনি মন্তব্য করেন, ইউরোপের বর্জ্য ও বাংলাদেশের বর্জ্যের মধ্যে পার্থক্য বিদ্যমান। সুতরাং, দেশের বাস্তবতা বিবেচনায় প্রযুক্তির সঠিক নির্বাচন করা অপরিহার্য। পরিবেশ রক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থার মধ্যে সমন্বয় অপরিহার্য।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ ড. নাসির উদ্দীন খান। তিনি দাবি করেন যে, বাংলাদেশের বর্জ্যের ধরন ও আর্দ্রতা যদি বিবেচনায় নেওয়া হয়, তবে বায়োগ্যাস, কম্পোস্ট ও আরডিএফ (রিফিউজ ড্রাইভড ফুয়েল) প্রযুক্তি অধিক কার্যকর হতে পারে। সহজ প্রযুক্তি, দেশীয় বিনিয়োগ এবং স্থানীয় মানুষের সম্পৃক্ততায় বর্জ্যকে জ্বালানি ও অর্থনৈতিক সম্পদে রূপান্তর করা সম্ভব।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান বলেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার জন্য সামান্য বৃষ্টিতেই ঢাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। বর্জ্য ব্যবহারের জন্য দক্ষিণ কোরিয়ার একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা চলমান রয়েছে।

আলোচনায় অংশ নিয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের অতিরিক্ত প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মো. আরিফুর রহমান জানান, ‘ওয়েস্ট টু এনার্জি’ প্রকল্প চালু করার প্রক্রিয়া চলছে।

যদি প্রকল্পটি চালু হয়, তবে প্রতিদিন তিন হাজার টন বর্জ্য ব্যবহার করে ৪২ থেকে ৪৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে।

বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদনের সুযোগ যেভাবে যথাযথভাবে কাজে লাগানো হচ্ছে না, সেই বিষয়ে মন্তব্য করেন বাপার সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর কবির। তিনি বলেন, এ জন্য বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তর, বায়োগ্যাস-কম্পোস্ট ও আরডিএফ উৎপাদনের জন্য নীতিমালা প্রণয়ন, জাতীয় সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট গাইডলাইন ও ডেটাবেইস তৈরির পাশাপাশি পৃথক কার্বন ক্রেডিট সেল গঠনের সুপারিশ করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সালমান শাহ হত্যা: ডনকে কারাগারে রাখার আবেদন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৯ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৫:৩০ পি.এম


সালমান শাহ হত্যা: ডনকে কারাগারে রাখার আবেদন

বাংলা সিনেমার অমর নায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলার এজাহারনামীয় ৮ নম্বর আসামি, অভিনয়শিল্পী আশরাফুল হক ডনকে আদালতে আনা হয়েছে। রবিবার, ৯ আগস্ট, বিকেল ৩টার দিকে তাকে আদালতে উপস্থিত করা হয়। এ সময় তাকে সিএমএম আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়েছে।

এদিকে, যদি ডন জামিনে মুক্তি পেয়ে যান তাহলে তিনি তদন্তে বিঘ্ন সৃষ্টি করতে পারেন এবং পুনরায় পলাতক হতে পারেন—এমন আশঙ্কায় তাকে কারাগারে আটক রাখার জন্য আবেদন করা হয়েছে। সিআইডি এই আবেদনে উল্লেখ করেছে যে, দীর্ঘদিন ধরে ডন পলাতক ছিলেন। বর্তমানে, তাকে পুলিশ হেফাজতে এনে মামলার বিষয়ে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদের প্রক্রিয়া চলছে।

তিনি যদি জামিনে মুক্তি পেয়ে যান তাহলে তদন্ত কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি হতে পারে এবং পুনরায় পলাতক হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে। এ কারণেই ডনের জামিনের বিরুদ্ধে ঘোর বিরোধিতা করে তাকে জেলহাজতে আটক রাখার আবেদন করেছে সিআইডি।

এর আগে, রবিবার ভোর ৫টার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ ডনকে আটক করে।

মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর চিত্রনায়ক চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন ওরফে সালমান শাহকে অন্যান্য আসামি ও অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের সহযোগিতায় পূর্বপরিকল্পনার ভিত্তিতে হত্যা করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জুলাইয়ের অর্জন অর্থবহ করতে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা জরুরি: ঢাবি উপাচার্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ৯ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৫:৩১ পি.এম


জুলাইয়ের অর্জন অর্থবহ করতে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা জরুরি: ঢাবি উপাচার্য

 

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে প্রাপ্ত নতুন বাংলাদেশের অর্জনকে অর্থবহ করার জন্য গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, ন্যায়বিচার এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। তিনি অতীতের স্বৈরাচারী এবং ফ্যাসিবাদী রাজনৈতিক সংস্কৃতি থেকে শিক্ষা নিয়ে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ প্রতিষ্ঠার বিষয়টিও তুলে ধরেন।

রবিবার (৯ আগস্ট) ঢাকায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের উদ্যোগে আর সি মজুমদার আর্টস অডিটরিয়ামে আয়োজিত ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান: গণতান্ত্রিক পুনর্গঠন, আগামীর বাংলাদেশের প্রত্যাশা’ শীর্ষক আলোচনাসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আবুল কালাম সরকার, যেখানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য উল্লেখ করেন যে, কোনো ব্যক্তি একা একটি রাষ্ট্র বা প্রতিষ্ঠানকে পরিবর্তন বা ধ্বংস করতে পারে না। বরং, উপরে থেকে তৃণমূল পর্যন্ত একটি সহযোগী কাঠামো তৈরি না হলে স্বৈরাচারী ব্যবস্থা দীর্ঘদিন টিকে থাকতে পারে।

বিগত ১৭ বছরে রাষ্ট্র ও সমাজের বিভিন্ন স্তরে গড়ে ওঠা রাজনৈতিক সংস্কৃতির কারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিন্নমত দমন এবং গণরুম-গেস্টরুমের নামে শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে।

তিনি তার অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে বলেন, অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় সেই সময়ে শিক্ষকদের হয়রানি, চাকরিচ্যুতি ও মামলা-মোকদ্দমার শিকার হতে হয়েছে।

অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম আবারও বলেন, ক্ষমতা স্থায়ী নয়, দায়িত্বই মুখ্য। ‘আমি’ নয়, ‘দেশ’—এই চিন্তাভাবনাকে সামনে আনতে হবে। দীর্ঘদিনের জঞ্জাল একদিনে দূর করা সম্ভব নয় জানিয়ে তিনি সকলকে ধৈর্য ধারণ ও নিয়ম এবং ন্যায়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে আহ্বান জানান।

প্রতিহিংসার রাজনীতির বিরোধিতা করে উপাচার্য বলেন, ‘আমরা প্রতিহিংসার রাজনীতি চাই না, আমরা ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন চাই। অপরাধের বিচার হতে হবে, তবে তা প্রতিহিংসার ভিত্তিতে নয়, আইনের ভিত্তিতে।’

তিনি দেশে ফ্যাসিবাদী রাজনীতির পুনরুত্থান কিংবা সামাজিক সম্প্রীতি ও স্থিতিশীলতা নষ্ট হয় এমন কোনো কর্মকাণ্ড কাম্য নয় বিধায় মন্তব্য করেন।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের ভূমিকার কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ। তাদের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে কী প্রত্যাশা নিয়ে আন্দোলনে অংশগ্রহণ করতে হয়েছিল, তা বুঝতে হবে।

যৌক্তিক দাবিতে শিক্ষার্থীরা যখন রাজপথে রক্ত দিচ্ছিল, শিক্ষক হিসেবে তাদের পাশে থাকার নৈতিক দায়িত্ব ছিল বলেও উল্লেখ করেন উপাচার্য।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. এম এ কাউসার এবং সঞ্চালনা করেন সদস্যসচিব অধ্যাপক ড. মো. নুরুল আমিন। কোরআন তিলাওয়াত ও শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করে শুরু হওয়া এই আয়োজনের সময় শিক্ষার্থীরা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতিচারণা করেন। এ সময় কালের সাবেক ডিন অধ্যাপক ড. সদরুল আমিন, সংখ্যাতিরিক্ত অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া এবং বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৭শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫১
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪০
মাগরিব ০৫:১৬
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৮ সূর্যাস্ত : ০৫:১৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%