১০:৫৫ পি.এম
মহিলাদের আত্ম-কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে ক্ষুদ্রঋণ এবং দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণের সমাপ্তি অনুষ্ঠানে ৩৫ জন অদম্য নারী উদ্যোক্তার জন্য ৩৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার ক্ষুদ্রঋণ প্রদান করা হয়েছে।
আজ রোববার বিকেলে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে সেলাই ও এমব্রয়ডারি, গ্রাফিক্স ডিজাইন এবং অফিস অ্যাপ্লিকেশন কোর্সের সফল সমাপ্তি পর নারীদের হাতে প্রাতিষ্ঠানিক সার্টিফিকেট তুলে দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন: বাকেরগঞ্জে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও ড্রেন পরিষ্কার কার্যক্রম
এই প্রশিক্ষণ আয়োজন করা হয় জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় এবং জাতীয় মহিলা সংস্থা গাজীপুর জেলা কার্যালয়ের উদ্যোগে।
নারীদের ছাগল পালন, গরুর খামার, সবজি চাষ এবং টেইলারিং ব্যবসার মতো বিভিন্ন ক্ষুদ্র আয়ের উৎসে স্বাবলম্বী করতে এই অর্থ প্রদান করা হয়।
আর্থিক লেনদেনে শতভাগ স্বচ্ছতা ও আধুনিকতা নিশ্চিত করতে ঋণের এই অর্থ সরাসরি উপকারভোগীদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে প্রদান করা হবে।
অনুষ্ঠানে নিজের অনুভূতির কথা বলতে গিয়ে আবেগ ধরে রাখতে পারলেন না সেলাই ও এমব্রয়ডারি কোর্সের প্রশিক্ষণার্থী মৌ সাহা।
আরও পড়ুন: জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদ্যাপন
তিনি বলেন, "বর্তমানে আমি একটি পুরাতন সেলাই মেশিন দিয়ে এলাকার মানুষের কাপড় সেলাই করি। এই আয় দিয়েই আমাদের পুরো সংসার চলে।"
তিনি আরও জানান, "এই প্রশিক্ষণ আমার কাজের দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাস অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে। বর্তমানে আমি শুধু নিজের ভাগ্যই পরিবর্তন করিনি, বরং আমার সাথে আরও তিনজন অসহায় মহিলাকে নিয়ে কাজ করছি এবং তাদেরকেও স্বাবলম্বী করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।"
অন্যদিকে, ছোটখাটো পণ্য নিয়ে অনলাইন ব্যবসা শুরু করলেও প্রযুক্তির মারপ্যাঁচে প্রায়ই থমকে যেতেন পাপিয়া সুলতানা।
তিনি উল্লেখ করেন, "ফেসবুক পেজ চালানো, কাস্টমারদের মেসেজের জবাব দেওয়া কিংবা ব্যবসার হিসাব মেলাতে অন্যের ওপর নির্ভর করতে হতো। কিন্তু আজ তিনি নিজেই একজন পুরোদস্তুর ডিজিটাল উদ্যোক্তা। কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশন ট্রেডে প্রশিক্ষণ নিয়ে তিনি ঘুরে দাঁড়িয়েছেন।"
আরও পড়ুন: ঢাকায় গিয়ে ৫ দিন ধরে নিখোঁজ শিশু ইমাম, সন্ধান চেয়ে পরিবারের আকুতি
প্রশিক্ষণ গ্রহণকারী নারীদের অদম্য লড়াইয়ের গল্প শুনছিলেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া।
নারীদের এমন অদম্য ইচ্ছাশক্তি দেখে মুগ্ধ হয়ে তিনি তার বক্তব্যে বলেন, "আমার খুবই ভালো লেগেছে আপনারা নিজেরা কিছু করে স্বাবলম্বী হওয়ার চেষ্টা করছেন।"
তিনি বলেন, "আপনারা ট্রেনিং নিয়েছেন, এখন সেটাকে কাজে লাগাবেন। তার মাধ্যমে নিজের ভাগ্যের পরিবর্তন এবং অন্যের ভাগ্যও পরিবর্তন করবেন। আপনারা নিজেরা যেমন ট্রেনিং নিয়েছেন, তেমনি অন্যদেরকেও উৎসাহিত করবেন ট্রেনিং নেওয়ার জন্য। যে চেষ্টা করে, সে সফল হয়। আপনাদের প্রত্যেকের চেহারার মধ্যে একটা ইনস্পিরেশন আছে, কাজ করার ইচ্ছাশক্তি আছে।"
ডিজিটাল যুগের অপার সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক আরও বলেন, "এখনতো অনেক কিছুই সহজ হয়ে গিয়েছে। আগে একটা জামা তৈরি করলে সেটা বিক্রি করবেন কোথায় সেটা নিয়ে একটা টেনশন ছিল। আর এখন, ঘরে বসে অনলাইনে বিক্রি করা যায়।"
আরও পড়ুন: কোম্পানীগঞ্জে মাটিবাহী ট্রাকের চাপায় মাদরাসা ছাত্রের মৃত্যু
তিনি বলেন, "বর্তমান প্রেক্ষাপটের সুফলগুলোকে আপনাদের কাজে লাগাতে হবে। নারীরা এখন আর পিছিয়ে নেই। সমাজে আগে একটা মিসকনসেপশন ছিল। কিন্তু আজকের দিনে নারীরা সব থেকে বেশি এগিয়ে। বাংলাদেশের ৬৪ জেলার অর্ধেক জেলাতেই এখন জেলা প্রশাসক নারী। আমার সহধর্মিনীও আমার মতোই বাংলাদেশ সরকারের একজন যুগ্ম-সচিব।"
বর্তমান সরকারকে নারীবান্ধব উল্লেখ করে তিনি যেকোনো প্রয়োজনে নারীদের সরাসরি জেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানান।
সভাপতির বক্তব্যে সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সাজ্জাত হোসেন নারীদের এই অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও উদ্যোক্তা হওয়ার প্রচেষ্টাকে সাধুবাদ জানান এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য ও সার্বিক কার্যপদ্ধতি তুলে ধরেন জাতীয় মহিলা সংস্থা, গাজীপুর জেলা কার্যালয়ের জেলা কর্মকর্তা শাহনাজ পারভীন।
আরও পড়ুন: সিলেটে যান চলাচলে নতুন বিধিনিষেধ, রিকশা চলাচল নিষিদ্ধ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন