০৪:২৩ পি.এম
জাতীয় টাস্কফোর্সের বিশেষ অভিযানে লাগাতার ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগের প্রতিরোধের লক্ষ্য নিয়ে রাজধানীর বনানীর একটি নির্মাণাধীন আবাসিক ভবনে এডিস মশার লার্ভা কমিশনে পাওয়া গেছে। এই অপরাধের কারণে সংশ্লিষ্টদের ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করার ব্যবস্থা করা হয়েছে, এবং অনাদায়ে তিন মাসের কারাদণ্ডের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালতের পক্ষ থেকে।
শুক্রবার (২৬ জুন) তারিখে বনানীর ১৮, ২১ ও ২৪ নম্বর সড়কে এই অভিযানটি পরিচালিত হয়।
এই অভিযানের নেতৃত্ব দেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। অভিযান সমাপ্তির পর ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী জানিয়েছেন, টানা তিন দিনের অভিযানে বনানীর সরকারি কোয়ার্টার ও আশপাশের প্রায় ৫০ শতাংশ আবাসনে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে। বর্ষা মৌসুমের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে তিন মাসব্যাপী বিশেষ কর্মসূচির অধীনে প্রতিদিন এই পরিচ্ছন্নতা ও লার্ভা ধ্বংস কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
আরও পড়ুন: ডিসেম্বরে দেশে আসার সুযোগ নেই: নাহিদ ইসলাম
অভিযান চলাকালে বনানীর ২৪ নম্বর সড়কের একটি নির্মাণাধীন ভবনে মশার লার্ভা দৃষ্টি গোচর হওয়ায় ডিএনসিসির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মারুফা আক্তার নেলী দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ২৬৯ ধারায় ৫০ হাজার টাকা জরিমানা প্রকাশ করেন।
অভিযানের সময় স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানান, ‘আমাদের উদ্দেশ্য কাউকে জরিমানা দেওয়া বা কারাগারে পাঠানো নয়; আমাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে মানুষের জীবন রক্ষা করা এবং ডেঙ্গুমুক্ত নগর গড়ে তোলা।’ তিনি আরও বললেন, সিটি করপোরেশনের একার পক্ষ থেকে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। সফলতার জন্য নগরবাসীর সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত প্রয়োজন।
নাগরিকদের প্রতি এই প্রতিমন্ত্রী আহ্বান জানিয়েছেন, যেন বাড়ির ছাদ, আঙিনা, বেসমেন্ট, ফুলের টব, ডাবের খোসা বা টায়ারে তিন দিনের বেশি পানি জমা না হয়। প্রতি তিন দিনে একবার জমে থাকা পানি ফেলে দেয়া জরুরি। যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন।
প্রতিমন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, ডিএনসিসির আঞ্চলিক ও ওয়ার্ড কার্যালয়গুলো থেকে নাগরিকরা অবশ্যই বিনামূল্যে মশার লার্ভা ধ্বংসকারী ট্যাবলেট সংগ্রহ করতে পারবেন। এক্ষেত্রে তিনি সরকারি কোয়ার্টারগুলোতে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস প্রদান করেছেন এবং আবাসন ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিহ্যাবকে তাদের নির্মাণাধীন ও আবাসিক ভবনের পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে চিঠি পাঠানোর অনুরোধ করেছেন।
আরও পড়ুন: চসিকের প্রতিটি ওয়ার্ডে ৮২টি খেলার মাঠ গড়ার উদ্যোগ : প্রশাসক
অভিযানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কমডোর মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীর, আঞ্চলিক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আজিজুন নেছা এবং বনানী সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক ইরফান ইসলামসহ স্থানীয় সরকার বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ। অভিযানের সময় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে সচেতনতামূলক লিফলেট ও স্টিকার বিতরণ করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন