১০:৫৮ পি.এম
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন বলেছেন, প্রতিবন্ধী শিক্ষার মতো মহৎ ও পবিত্র খাতকে কেন্দ্র করে একটি অসাধু চক্র ব্যবসা করার চেষ্টা করছে। তারা বিভিন্ন প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়কে এমপিওভুক্ত করে দেয়ার কথা বলে অর্থ দাবি করে থাকে। এ ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
শুক্রবার (১৯ জুন) বিকেলে মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার মুন্সীরহাট পলক অটিজম স্কুলে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের উন্নয়নবিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রায়ই আমার কাছে একসঙ্গে ৫০-৬০টি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের তালিকা আসত। বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর নিতে গিয়ে বুঝতে পারি, কিছু ব্যক্তি বিভিন্ন বিদ্যালয়কে এমপিওভুক্ত করার আশ্বাস দিয়ে মোটা অঙ্কের অর্থ দাবি করছে। আমি স্পষ্টভাবে ঘোষণা দিয়েছি, এ ধরনের কোনো তদবির গ্রহণ করা হবে না। এরপর থেকে এ ধরনের কার্যক্রম অনেকটাই বন্ধ হয়েছে।’
আরও পড়ুন: রাঙামাটির আওয়ামী লীগ নেতা চিংকিউ রোয়াজা গ্রেফতার
তিনি আরও বলেন, আপনারা যারা আন্তরিকতার সঙ্গে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের নিয়ে কাজ করছেন, তারা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। এই কাজ শুধু সক্ষমতা দিয়ে হয় না, এর জন্য প্রয়োজন গভীর মানবিকতা, মমত্ববোধ ও আবেগগত সংযুক্তি। আপনারা একটি মহৎ ও পবিত্র দায়িত্ব পালন করছেন।
প্রতিমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, বিদ্যমান প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়গুলোর কার্যক্রম ও শিক্ষাসেবার মান যাচাই করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে। যেসব প্রতিষ্ঠান সঠিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে কিন্তু এখনো এমপিওভুক্ত হয়নি, সেগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এমপিওভুক্ত করার বিষয়ে সরকার ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে।
তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য হলো বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের মানবসম্পদ ও মেধাসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলা। তাদের শিক্ষা ও বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দিতে সরকার প্রতিশ্রুতibদ্ধ।
ভুয়া বিদ্যালয়ের বিষয়ে সতর্ক করে ফারজানা শারমীন বলেন, যদি কোনো ব্যক্তি একাধিক ভুয়া বিদ্যালয়ের তালিকা নিয়ে ঘুরে বেড়ায় এবং বিদ্যালয়প্রতি অর্থ দাবি করে, তাহলে বিষয়টি আমাকে সরাসরি জানাবেন। আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
আরও পড়ুন: প্রথম ধাপে ১ হাজার ৫০ ইউপিতে ভোটের ঘোষণা ইসি সচিবের
পলক অটিজম স্কুলের কার্যক্রমের প্রশংসা করে তিনি বলেন, আজ এখানে এসে আমি দেখেছি, শিশুরা ভালো আছে, তারা ভালোভাবে শিখছে এবং যথাযথ যত্ন পাচ্ছে। এটি অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। উপযুক্ত জায়গা ও পরিকল্পনা পাওয়া গেলে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আরও বেশি শিক্ষার্থীর জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত সহায়তা দেয়ার চেষ্টা করা হবে।
প্রতিবন্ধী সন্তানদের পরিবার সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী বলেন, যে পরিবারে একজন প্রতিবন্ধী সন্তান রয়েছে, সেই পরিবারের প্রতি আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে হবে। তাদের করুণা নয়, সম্মান ও সহযোগিতা দিতে হবে। বিশেষ করে সেই মা-বাবার মানসিক স্বাস্থ্য ও সংগ্রামের বিষয়টিও আমাদের বিবেচনায় নিতে হবে।
তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, যথাযথ সুযোগ ও পরিচর্যা পেলে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুরা দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবে।
জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশরাফীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামান রতন, পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম, পিপিএম এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক একেএম ইরাদত মানু। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ডিসঅ্যাবল ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশনের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মো. হুমায়ুন কবির শাহীন মিজি। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন পলক অটিজম স্কুলের পরিচালক দেলোয়ার হোসেন।
আরও পড়ুন: আইনমন্ত্রী: নেতৃত্ব কারো কাছে চিরকাল বন্দি থাকে না
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন