মোঃ শরীফ উদ্দিন ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
০৫:৫১ পি.এম
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরের ঘটনায় পুলিস ১০ কেজি গাঁজাসহ দুই মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে, সকাল ৮টা ১০ মিনিটের সময়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ উপজেলার পত্তন ইউনিয়নের বড় পুকুরপাড় এলাকায় তাদের গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলো বিজয়নগর উপজেলার সেজামুড়া গ্রামের ধানু মিয়ার ছেলে মো. মামুন এবং আব্দুল বাছিরের ছেলে মো. শাহীন আলম।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযানের সময় তাদের হেফাজত থেকে ১০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে। পরে, বিধি অনুযায়ী, উদ্ধারকৃত মাদক জব্দ করা হয়েছে।
এ ঘটনার প্রেক্ষিতে, গ্রেপ্তারকৃত দুজনের বিরুদ্ধে বিজয়নগর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলাধীন শ্রীঘর এস ই এস ডিপি মডেল হাইস্কুল থেকে এবারে সদ্য প্রকাশিত এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে দেখা গেছে চরম হতাশাজনক চিত্র। কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত এই পরীক্ষায় বিদ্যালয়টি থেকে মোট ৩৫ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করলেও তাদের মধ্যে ২৭ জনই অকৃতকার্য হয়েছেন। অর্থাৎ, পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের প্রায় ৭৭ শতাংশই ফেল করেছেন, আর কৃতকার্য হয়েছেন মাত্র ৮ জন শিক্ষার্থী।
এই ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই এলাকায় বিরাজ করছে চাপা ক্ষোভ ও হতাশা। অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে বিদ্যালয়ের শিক্ষাদান কার্যক্রম, পাঠদানের মান এবং পরীক্ষা প্রস্তুতির বিষয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। একটি প্রতিষ্ঠান থেকে এত বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীর ফেল করাকে অস্বাভাবিক ও উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করছেন সচেতন মহল।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়টির শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠলেও এবারের ফলাফল সেই উদ্বেগকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। এ ঘটনায় শিক্ষা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিদ্যালয়টির সার্বিক কার্যক্রম খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন অনেকে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ফলাফল বিপর্যয় এড়ানো যায় এবং শিক্ষার্থীদের প্রকৃত শিক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।
এ বিষয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বক্তব্য বা শিক্ষা বোর্ডের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া এখনো জানা যায়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বান্দরবান থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম সীমান্তে মিয়ানমার থেকে পাচারের সময় বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ও বিদেশি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) অভিযান চালিয়ে ২ লাখ ৪৬ হাজার পিস বার্মিজ ইয়াবা, একটি বিদেশি অস্ত্র এবং পাঁচ রাউন্ড গোলাবারুদ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।
যদিও অভিযান চলাকালীন পাচারকারীরা পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
সোমবার (১০ আগস্ট) দিবাগত রাতে ঘুমধুম ইউনিয়নের নয়াপাড়া সীমান্ত এলাকায় এ অভিযান চলছিল। বিজিবি সূত্রে জানানো হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঘুমধুম বিওপির একটি টহলদল জানতে পারে, মিয়ানমার থেকে ইয়াবা ও অস্ত্রের একটি বড় চালান বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা হচ্ছে। এর পর কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি)-এর অধিনায়কের নির্দেশে উপ-অধিনায়ক মেজর মো. মেহেদী হাসান আশিকের নেতৃত্বে একটি বিশেষ আভিযানিক দল সীমান্ত এলাকায় অবস্থান নেয়।
গভীর রাতে ৩১ নম্বর সীমান্ত পিলার থেকে প্রায় ১৩০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে নয়াপাড়া এলাকায় বিজিবি সদস্যরা সন্দেহজনক গতিবিধি লক্ষ্য করেন। পরে সেখানে অভিযান শুরু করলে বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে পাচারকারীরা দ্রুত পালিয়ে যায়।
অভিযান শেষে ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার করা হয় বিদেশি অস্ত্র, পাঁচ রাউন্ড গোলাবারুদ এবং ২ লাখ ৪৬ হাজার পিস বার্মিজ ইয়াবা। বিজিবির প্রাথমিক ধারণার ভিত্তিতে মনে হচ্ছে, মিয়ানমার থেকে অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে এসব মাদক ও অস্ত্র বাংলাদেশে আনা হয়েছিল। সেগুলো দেশের অভ্যন্তরে পাচারের উদ্দেশ্যে প্রস্তুত ছিল। তবে পাচারকারীরা পালিয়ে যাওয়ায় তাদের পরিচয় শনাক্ত করা বা আটক করার কোনো সুযোগ হয়নি।
কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম খায়রুল আলম জানিয়েছেন, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মাদক, চোরাচালান ও অবৈধ অস্ত্রের বিরুদ্ধে বিজিবির অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সীমান্ত দিয়ে যেকোনো ধরনের অবৈধ পণ্য প্রবেশ ঠেকাতে বিজিবি সর্বদা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
তিনি আরো বলেন, মাদক ও অবৈধ অস্ত্রের বিরুদ্ধে বিজিবির অবস্থান কঠোর। সীমান্তে অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে গোয়েন্দা তৎপরতা, নিয়মিত টহল ও বিশেষ অভিযান বৃদ্ধি করা হবে।
বিজিবি জানিয়েছে, উদ্ধার করা ইয়াবা, অস্ত্র এবং গোলাবারুদ সংক্রান্ত পরবর্তী আইনি কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পিরোজপুরের কাউখালীতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এডুকেশনাল এক্সিলেন্স সাপোর্ট স্কিম (EESS)-এর আওতায় এসএসসি, এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় কৃতিত্বপূর্ণ ফল অর্জনকারী ১৮ জন শিক্ষার্থীকে সম্মাননা ক্রেস্ট ও সনদপত্র প্রদান করা হয়েছে।
২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ কর্মসূচির আওতায়, উপজেলা মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড এবং বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি/সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ১০ জন এবং এইচএসসি/সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৮ জন শিক্ষার্থী এই সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত অনানুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে কৃতি শিক্ষার্থী এবং তাদের অভিভাবকদের উপস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের হাতে ক্রেস্ট ও সনদপত্র তুলে দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান।
এ সময় উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আব্দুল হান্নান ও বিআরডিবি কর্মকর্তা মো. মাসুম মিয়া উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে, একই প্রকল্পের আওতায় এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা এবং এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের প্রত্যেককে ২৫ হাজার টাকা করে নগদ আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে ছয় জেলার মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে রয়েছে নোয়াখালী। তবে এই জেলায় সেরা ফলাফল অর্জন করেছে নোয়াখালী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। বিদ্যালয়টি শতভাগ পাসের পাশাপাশি ১৫২ জন শিক্ষার্থীর গ্রহণ করেছে জিপিএ-৫।
সোমবার প্রকাশিত এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল অনুযায়ী, নোয়াখালী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবার ২৪৮ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সবাই উত্তীর্ণ হয়েছে। এর মধ্যে ১৫২ জন পেয়েছে জিপিএ-৫। ফলে গতবারের ধারাবাহিকতায়, এবারও বিদ্যালয়টি জেলায় শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে।
দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে নোয়াখালী জিলা স্কুল। এই বিদ্যালয় থেকে ২৩৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে ২৩০ জন। এই বিদ্যালয় থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৩১ জন। বিদ্যালয়টির পাসের হার ৯৮ দশমিক ২৯ শতাংশ।
প্রকাশিত ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, নোয়াখালী জেলায় সার্বিক পাসের হার ৫৯.৯৮%। এটি কুমিল্লা বোর্ডের গড় পাসের হার (৬৫.৪২%) থেকে প্রায় ৫.৪৪% কম। তবে এ বছর ছেলেদের তুলনায় মেয়েদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ ও পাশের হার অনেকটা এগিয়ে রয়েছে। দেখা যায়, মোট শিক্ষার্থীর মধ্যে ছেলেদের অংশগ্রহণ করেছে ১০ হাজার ৩৫৭ জন, পাশ করেছে ৬ হাজার ৮ জন এবং মেয়েদের অংশগ্রহণ ছিল ১৪ হাজার ৭২৬ জন; পাশ করেছে ৯ হাজার ৩৮ জন। এর মধ্যে জেলায় জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ হাজার ২১৭ জন শিক্ষার্থী, এবং শতভাগ পাস করা প্রতিষ্ঠান ৪টি। গত বছর এই জেলায় পাশের হার ছিল ৪০ দশমিক ৪৩ শতাংশ; যদিও এ বছর কিছুটা বেড়েছে।
এদিকে, জেলাভিত্তিক ফলাফলে পিছিয়ে থাকলেও উপজেলা পর্যায়ে ভালো ফলাফল দেখিয়েছে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা। সেখানে পাশের হার ৬৮.৬৮% হলেও, নোয়াখালী সদর উপজেলায় সর্বোচ্চ ৬৩০টি শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। ফলাফল তুলনায় হাতিয়া উপজেলা খারাপ করেছে, যার পাশের হার ৪৮.৭০ শতাংশ।
নোয়াখালী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, শতভাগ শিক্ষার্থী পাশ করার ব্যাপারে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, শিক্ষকদের কঠোর নজরদারি, শ্রেণিকক্ষে নিয়মিত পাঠদান, অভিভাবকদের সঠিক তত্ত্বাবধায়ন এবং শিক্ষার্থীদের প্রতি তীব্র নজরধারী ও তাদের কঠোর অধ্যাবসায়ই এ সাফল্যের মূল কারণ। তিনি আরো বলেন, গত বছরও এই বিদ্যালয়টি জেলায় ফলাফলে শীর্ষস্থানে ছিল, এবং আগামী বছরেও ফলাফল শতভাগ করার জন্য এখন থেকেই পরিকল্পনা নিয়ে পাঠদান করানো হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ