ঢাকা রবিবার, ০৮ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২৩শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৭শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ০৮ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২৩শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

কুমিল্লা বোর্ডে পাসের হারে সর্বনিম্ন নোয়াখালী, জেলায় শীর্ষে সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়


কুমিল্লা বোর্ডে পাসের হারে সর্বনিম্ন নোয়াখালী, জেলায় শীর্ষে সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়

কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে ছয় জেলার মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে রয়েছে নোয়াখালী। তবে এই জেলায় সেরা ফলাফল অর্জন করেছে নোয়াখালী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। বিদ্যালয়টি শতভাগ পাসের পাশাপাশি ১৫২ জন শিক্ষার্থীর গ্রহণ করেছে জিপিএ-৫।

সোমবার প্রকাশিত এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল অনুযায়ী, নোয়াখালী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবার ২৪৮ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সবাই উত্তীর্ণ হয়েছে। এর মধ্যে ১৫২ জন পেয়েছে জিপিএ-৫। ফলে গতবারের ধারাবাহিকতায়, এবারও বিদ্যালয়টি জেলায় শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে।

দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে নোয়াখালী জিলা স্কুল। এই বিদ্যালয় থেকে ২৩৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে ২৩০ জন। এই বিদ্যালয় থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৩১ জন। বিদ্যালয়টির পাসের হার ৯৮ দশমিক ২৯ শতাংশ।

আরও পড়ুন: কক্সবাজার সাংবাদিক কল্যাণ সমিতির সভাপতি আশেক উল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান

প্রকাশিত ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, নোয়াখালী জেলায় সার্বিক পাসের হার ৫৯.৯৮%। এটি কুমিল্লা বোর্ডের গড় পাসের হার (৬৫.৪২%) থেকে প্রায় ৫.৪৪% কম। তবে এ বছর ছেলেদের তুলনায় মেয়েদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ ও পাশের হার অনেকটা এগিয়ে রয়েছে। দেখা যায়, মোট শিক্ষার্থীর মধ্যে ছেলেদের অংশগ্রহণ করেছে ১০ হাজার ৩৫৭ জন, পাশ করেছে ৬ হাজার ৮ জন এবং মেয়েদের অংশগ্রহণ ছিল ১৪ হাজার ৭২৬ জন; পাশ করেছে ৯ হাজার ৩৮ জন। এর মধ্যে জেলায় জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ হাজার ২১৭ জন শিক্ষার্থী, এবং শতভাগ পাস করা প্রতিষ্ঠান ৪টি। গত বছর এই জেলায় পাশের হার ছিল ৪০ দশমিক ৪৩ শতাংশ; যদিও এ বছর কিছুটা বেড়েছে।

এদিকে, জেলাভিত্তিক ফলাফলে পিছিয়ে থাকলেও উপজেলা পর্যায়ে ভালো ফলাফল দেখিয়েছে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা। সেখানে পাশের হার ৬৮.৬৮% হলেও, নোয়াখালী সদর উপজেলায় সর্বোচ্চ ৬৩০টি শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। ফলাফল তুলনায় হাতিয়া উপজেলা খারাপ করেছে, যার পাশের হার ৪৮.৭০ শতাংশ।

নোয়াখালী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, শতভাগ শিক্ষার্থী পাশ করার ব্যাপারে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, শিক্ষকদের কঠোর নজরদারি, শ্রেণিকক্ষে নিয়মিত পাঠদান, অভিভাবকদের সঠিক তত্ত্বাবধায়ন এবং শিক্ষার্থীদের প্রতি তীব্র নজরধারী ও তাদের কঠোর অধ্যাবসায়ই এ সাফল্যের মূল কারণ। তিনি আরো বলেন, গত বছরও এই বিদ্যালয়টি জেলায় ফলাফলে শীর্ষস্থানে ছিল, এবং আগামী বছরেও ফলাফল শতভাগ করার জন্য এখন থেকেই পরিকল্পনা নিয়ে পাঠদান করানো হবে।

আরও পড়ুন: ফটিকছড়িতে মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে যুবক জিসান নিহত, আহত ৪

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রিয়াদে অগ্নিকাণ্ডে ১৬ বাংলাদেশির মৃত্যু, শনাক্তে ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও ডিএনএ পরীক্ষা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ১০ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৫:৫৬ পি.এম


রিয়াদে অগ্নিকাণ্ডে ১৬ বাংলাদেশির মৃত্যু, শনাক্তে ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও ডিএনএ পরীক্ষা

ঢাকা, ১০ আগস্ট, ২০২৬ : সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের শিফা থানাধীন মুসা সানাইয়া শিল্প এলাকায় একটি সোফা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহত ১৬ বাংলাদেশি কর্মীর পরিচয় শনাক্ত করতে ফিঙ্গারপ্রিন্ট নেওয়া হবে। প্রয়োজনে ডিএনএ পরীক্ষাও করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

রোববার দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে হাজির হন। স্থানীয় ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থল থেকে মোট ১৬টি মৃতদেহ উদ্ধার করেছেন। উদ্ধার অভিযানটি সৌদি আরবের স্থানীয় সময় রাত ১১টায় শেষ হয়।

প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে অগ্নিকাণ্ডের শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রমকল্যাণ উইংয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। দূতাবাস জানায়, কারখানাটির একমাত্র জীবিত কর্মী হাবিবুর রহমান জানিয়েছেন, তিনি দুপুর আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটে চুল কাটানোর জন্য সেলুনে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে ফিরে এসে তিনি কারখানায় আগুন জ্বলতে দেখতে পান।

হাবিবুরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশিদের পরিচালনাধীন ওই কারখানায় মোট ১৭ জন বাংলাদেশি কর্মী কাজ করছিলেন। অগ্নিকাণ্ডের ফলে তাদের মধ্যে ১৬ জনই ঘটনাস্থলে মারা যান।

সম্পর্কিত স্থানীয় সিভিল ডিফেন্স সূত্রে জানা গেছে, নিহতদের মধ্যে আটজন সরাসরি আগুনের শিকার হয়ে মারা যান এবং অপর আটজন কালো ধোঁয়ায় শ্বাস বন্ধ হয়ে মারা যান। নিহত সবাই কারখানার একটি অংশে বসবাস করতেন।

দূতাবাস জানায়, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহতদের সবার পাসপোর্ট ও ইকামা পুড়ে গেছে। এ কারণে মৃতদের পরিচয় শনাক্তে বাংলাদেশ দূতাবাস সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করছে।

শিফা থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ফয়সাল আলউতাইবি জানিয়েছেন, নিহতদের পরিচয়ক্রান্ত ডকুমেন্ট নষ্ট হয়ে যাওয়ার জন্য প্রথমত আঙুলের ছাপ দিয়ে তাদের পরিচয় শনাক্ত করার চেষ্টা করা হবে। ফিঙ্গারপ্রিন্টের মাধ্যমে পরিচয় শনাক্ত সম্ভব না হলে ডিএনএ পরীক্ষার প্রয়োজন হতে পারে।

পরিচয় শনাক্ত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট সৌদি কর্তৃপক্ষ মৃতদের অনুকূলে মৃত্যু সনদ ইস্যু করবে। এরপর মৃতদেহগুলো সৌদি আরবে দাফন অথবা বাংলাদেশে পাঠানোর বিষয়ে নিহতদের পরিবারের লিখিত মতামতের ভিত্তিতে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে।

দূতাবাস এই ঘটনায় প্রয়োজনীয় কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে এবং নিহতদের পরিচয় শনাক্তকরণ ও পরবর্তী প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বরিশালে ২৪ ঘণ্টা সরকারি ডায়াগনস্টিক সেবার দাবিতে একক অবস্থান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল

সোমবার, ১০ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৫:৫৭ পি.এম


বরিশালে ২৪ ঘণ্টা সরকারি ডায়াগনস্টিক সেবার দাবিতে একক অবস্থান

বরিশালে একক অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়েছে ২৪ ঘণ্টা ডায়াগনস্টিক সেবা চালুর দাবিতে সরকারী হাসপাতালে। সোমবারের দিন, ১০ আগস্ট, সাধারণ সচেতন নাগরিক সজল কুমার পাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে এই কর্মসূচির আয়োজন করেন।

এই অবস্থান কর্মসূচি থেকে অনুরোধ জানানো হয় সরকারি হাসপাতালে ২৪ ঘণ্টা পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ চালু করার জন্য, সাধারণ মানুষের জন্য সরকারি নির্ধারিত মূল্যে ডায়াগনস্টিক পরীক্ষা নিশ্চিত করার জন্য এবং অব্যবহৃত স্বাস্থ্য বাজেটের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য।

আয়োজক সজল কুমার পাল বলেন, নানা পরীক্ষার প্রয়োজনীয় অবকাঠামো থাকার পরও সরকারি হাসপাতালগুলোতে অনেক ক্ষেত্রে সেগুলো ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকে না। এর ফলে রোগীদের জরুরি প্রয়োজনে বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গিয়ে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করে পরীক্ষা করাতে হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, সরকারি হাসপাতালে যদি শিফটভিত্তিক জনবল নিয়োগ করা হয়, তাহলে রাতেও পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালু করা সম্ভব হবে। এর ফলে রোগীদের চিকিৎসা ব্যয় কমার পাশাপাশি সরকারি স্বাস্থ্যসেবার সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। একইভাবে পরীক্ষার ফি ডিজিটাল পদ্ধতিতে আদায় করে সরাসরি সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার ব্যবস্থা করলে আর্থিক অনিয়মের সুযোগও কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।

কর্মসূচিতে দাবি জানানো হয় যে, সরকারি হাসপাতালে ২৪ ঘণ্টা ল্যাব সেবা চালু হলে জরুরি সময়ে রোগীদের বেসরকারি ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যেতে নিরুৎসাহিত করা হবে। এভাবে দালালদের দৌরাত্ম্যও কমবে এবং দ্রুত রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা নিশ্চিত হবে। এছাড়া চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ ও অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের প্রবণতা কমতে পারে বলে আয়োজক দাবি করেন।

অবস্থান কর্মসূচিতে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার মূল্যের তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরা হয়। আয়োজনের তথ্য অনুযায়ী, সরকারি মূল্য হিসাবে CBC ২০০ টাকা, RBS ৬০ টাকা, সিরাম ক্রিয়েটিনিন ৫০ টাকা, SGPT ৭০ টাকা, HBsAg ১৫০ টাকা, Urine R/E ২০ টাকা, Chest X-ray ২০০ টাকা এবং Ultrasonogram W/A ২২০ টাকা। এসব পরীক্ষার মোট সরকারি মূল্য ৯৭০ টাকা।

অন্যদিকে, একই পরীক্ষাগুলোর বেসরকারি মূল্য যথাক্রমে ৪০০, ২৫০, ৪০০, ৫০০, ৭০০, ৩০০, ৬০০ ও ১ হাজার ৪০০ টাকা। কর্মসূচিতে উল্লেখ করা হয় যে, এসব পরীক্ষার মোট বেসরকারি মূল্য ৪ হাজার ৫৫০ টাকা। এর ফলে সরকারি ব্যবস্থায় পরীক্ষা করার সুযোগ খুবই সীমিত থাকায় রোগীদের একই সেবার জন্য অনেক বেশি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে বলে দাবি করা হয়।

এই অবস্থান কর্মসূচি থেকে সরকারি হাসপাতালগুলোতে ২৪ ঘণ্টা ডায়াগনস্টিক সেবা চালু করার জন্য, প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের জন্য, ডিজিটাল পদ্ধতিতে পরীক্ষার ফি আদায়ের জন্য এবং বিদ্যমান ল্যাব ও যন্ত্রপাতির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এশিয়ার তেলের বাজারে ‘ইরান-ধাক্কা’ একাই সামলাচ্ছে চীন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ১০ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৫:৫৯ পি.এম


এশিয়ার তেলের বাজারে ‘ইরান-ধাক্কা’ একাই সামলাচ্ছে চীন

হরমুজ প্রণালি কার্যত অবরুদ্ধ থাকা কারণে মধ্যপ্রাচ্য থেকে অপরিশোধিত তেল সরবরাহ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়েছে। তবে এই বিশ্বব্যাপী সংকট এবং সরবরাহ ঘাটতির মুখে এশিয়ার তেলের বাজারকে কার্যত একাই টিকিয়ে রাখছে চীন। নিজেদের বিশাল মজুদ ব্যবহার করে দেশটি আমদানি ব্যাপকভাবে কমিয়ে এনেছে। এর ফলস্বরূপ, এশিয়ার সামগ্রিক তেলের চাহিদার ভারসাম্য এখনও বজায় রয়েছে।

২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল রপ্তানি দৈনিক প্রায় ৫০ লাখ ব্যারেল হ্রাস পেয়েছে। এর ফলে বিশ্বের সর্ববৃহৎ তেল আমদানিকারক অঞ্চল এশিয়াজুড়ে মারাত্মক ঘাটতি দেখা দেয়। তবে চীন কৌশলগতভাবে তাদের তেল আমদানি বিপুল পরিমাণে কমিয়ে এনেছে। যুদ্ধ শুরুর আগের তিন মাসের গড় যেখানে চীনা আমদানির পরিমাণ ছিল দিনে ১ কোটি ১৯ লাখ ৯০ হাজার ব্যারেল, তা জুন ও জুলাই মাসের গড় নেমে এসেছে মাত্র ৭৭ লাখ ৮০ হাজার ব্যারেলে। সম্প্রতি রয়টার্সের এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে এশিয়ায় তেলের সার্বিক আমদানি যে পরিমাণ কমেছে, তা চীনা আমদানির এই ঘাটতির প্রায় সমান।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, উচ্চমূল্যের কারণে চীন সাধারণত জ্বালানি তেল আমদানি কমিয়ে দেয়। গত এপ্রিলের শেষে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১২৬ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার পর চীনা শোধনাগারগুলো আমদানি হ্রাসের পথে হাঁটে। তবে এবার আমদানি কমার যে মাত্রা দেখা গেছে তা নজিরবিহীন। চীন দীর্ঘ সময় ধরে এ ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সক্ষম, কারণ তাদের জাতীয় তেলের মজুত অন্তত ১২০ কোটি ব্যারেল বা তারও বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে।

যদিও আগস্ট মাসে হরমুজ প্রণালি দিয়ে সাময়িক যুদ্ধবিরতির সুযোগে আসা কিছু চালানের কারণে আমদানি কিছুটা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, তবে সেপ্টেম্বরের চিত্র যথেষ্ট উদ্বেগজনক। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তেহরানের মধ্যবর্তী যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভেস্তে যাওয়ায় অঞ্চলটিতে ফের উত্তেজনা বেড়েছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে আবার সরবরাহ কমে গেলে চীনা শোধনাগারগুলোকে তাদের জমানো রিজার্ভের ওপরই নির্ভর করতে হবে, অথবা বিকল্পভাবে মধ্যপ্রাচ্যের বাইরের বাজার থেকে চড়া দামে অপরিশোধিত তেল ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

রয়টার্সের বিশ্লেষণ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের পথপ্রদর্শক বাবাকে শেষ বিদায় জানালেন মেসি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

সোমবার, ১০ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৫:৫৯ পি.এম


বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের পথপ্রদর্শক বাবাকে শেষ বিদায় জানালেন মেসি

ঢাকা, ১০ আগস্ট ২০২৬ : আর্জেন্টিনার ফুটবল আইকন লিওনেল মেসি রোববার তার বাবা হোর্হে মেসিকে শেষ বিদায় জানিয়েছেন। বিশ্বখ্যাত এই তারকা শৈশব থেকেই তার আবেগের আশ্রয় ও এজেন্ট হিসেবে পাশে ছিলেন হোর্হে, যিনি ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করার পর ৬৮ বছর বয়সে মারা যান।

আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী মেসি শনিবার গভীর রাতে মায়ামি থেকে স্ত্রী আন্তোনেলা রোকুজ্জো ও সন্তানদের সঙ্গে নিয়ে আর্জেন্টিনায় পৌঁছান।

রোসারিওর পাশের শহর পেরেজের একটি কবরস্থানে পরিবারের ঘনিষ্ঠ সদস্য এবং আর্জেন্টিনা দলের কয়েকজন সতীর্থের উপস্থিতিতে ব্যক্তিগতভাবে শেষকৃত্যের আয়োজন করা হয়।

শহরের এল প্রাদো কবরস্থানের ফটকে সমর্থকদের হাতে লেখা বার্তা দেখা যায়, “শক্ত থাকো, লিও, আমরা তোমাকে ভালোবাসি” এবং “শক্ত থাকো, মেসি পরিবার”। ফটকের পাশে একটি বড় ফুলের তোড়া ছিল।

শুক্রবার রাতে রোসারিওর একটি ক্লিনিকে হোর্হে মেসির মৃত্যুর খবর প্রকাশ হওয়ার পর সতীর্থরা তাদের অধিনায়কের পাশে দাঁড়ান।

“নিশ্চয়ই আমরা সেখানে থাকলে তার ভালো লাগবে,” শনিবার নিজ দলের ম্যাচের পর সাংবাদিকদের বলেন বোকা জুনিয়র্সের মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেস।

সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, মেসির ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও ইন্টার মায়ামির সতীর্থ মিডফিল্ডার রদ্রিগো ডি পলও আর্জেন্টিনায় গেছেন।

শনিবার মায়ামিতে মন্তেরেরির কাছে ২-১ গোলে হারের ম্যাচে গোল করার পর ডি পল নিজের জার্সি খুলে মেসির ১০ নম্বর জার্সি প্রদর্শন করেন, এটি বন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর একটি উপায়।

কবরস্থানের বাইরে অল্প কয়েকজন সমর্থক জড়ো হয়েছিলেন। তাদের মধ্যে ১৫ বছর বয়সী লুকাস ব্ল্যাঙ্কো ছিলেন। তিনি কবরস্থানের ফটকে “শক্ত থাকো, মেসি” লেখা একটি পোস্টার ঝুলিয়ে দেন।

তিনি বলেন, “মেসি এই দেশকে এত আনন্দ দিয়েছেন, তাই এখন আমাদের পালা তাকে কিছুটা ফিরিয়ে দেওয়ার।”

বুয়েনস আয়ার্সের দক্ষিণের শহর ত্রেস আরোইয়োস থেকে ৭০০ কিলোমিটার গাড়ি চালিয়ে আসা কার্লোস ও আনা নামের এক দম্পতি বলেন, “আমরা এখানে আসার জন্য ৭০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়েছি। এই সময়ে আমরা লিওর পাশে থাকতে চেয়েছি।”

মৃত্যুর কারণ জানানো হয়নি, তবে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, হোর্হে মেসি ক্যানসারে ভুগছিলেন। জুনে বিশ্বকাপে তার অস্বাভাবিক অনুপস্থিতি সবার নজর কেড়েছিল।

মেসির পরিবার বিশ্বকাপ চলাকালে হোর্হের স্বাস্থ্য নিয়ে অব্যাহত গুঞ্জনের মধ্যে সংবাদমাধ্যমের কাছে “মানবিকতা” দেখানোর আহ্বান জানিয়েছিল।

আলজেরিয়ার বিপক্ষে গোল করার পর কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন ৩৯ বছর বয়সী মেসি। পরে তিনি স্বীকার করেছিলেন, “খেলার বাইরের একটি পরিস্থিতি” নিয়ে তিনি মোকাবিলা করছিলেন।

পরে মেসি বলেন, “আমি কয়েকটি কঠিন, জটিল সময়ের মধ্য দিয়ে গেছি। কিন্তু পুরো প্রতিনিধি দল ও আমার সতীর্থদের কাছে আমি কৃতজ্ঞ, কারণ তারা সবসময়কার মতো আমার পাশে ছিল।”

স্পেনের কাছে বিশ্বকাপ ফাইনালে হারের পরপরই মেসি কয়েক দিনের জন্য পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে রোসারিওতে ফিরে গিয়েছিলেন।

ছেলের পুরো ক্যারিয়ারে পথপ্রদর্শক হিসেবে থাকা হোর্হে মেসিই ছিলেন তার প্রথম কোচ। ছেলের সঙ্গে থাকতে তিনি নিজের সবকিছু পেছনে ফেলে স্পেনে পাড়ি জমিয়েছিলেন।

বুয়েনস আয়ার্স থেকে ৩৪০ কিলোমিটার উত্তরের শহর রোসারিওতে মেটাল ওয়ার্কার হিসেবে কাজ করতেন হোর্হে। তিনি পাশাপাশি স্থানীয় ছোট ক্লাব গ্রানদোলির যুব দলগুলোর কোচও ছিলেন। চার বছর বয়সে স্থানীয় শিশুদের খেলার জন্য ব্যবহৃত খালি জায়গায় আর্জেন্টিনার ভবিষ্যৎ অধিনায়ককে ফুটবলের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন তিনিই।

২০০০ সালে তার জীবন সম্পূর্ণ বদলে যায়। মাত্র ১৩ বছর বয়সী প্রতিভাবান মেসিকে বার্সেলোনা চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি ক্লাবটির যুব দলে খেলার জন্য কাতালোনিয়ায় আমন্ত্রণ জানায়। তখন মেসির গ্রোথ হরমোনের ঘাটতির চিকিৎসা চলছিল।

হোর্হে আর্জেন্টিনায় তাঁর চাকরি, স্ত্রী এবং অন্য তিন সন্তানকে রেখে মেসির সঙ্গে স্পেনে চলে যান।

পরে মেসি বলেছিলেন, “আমরা যখন বার্সেলোনায় পৌঁছাই, আমি একা কাঁদার জন্য নিজের ঘরে নিজেকে আটকে রাখতাম। আমার বাবাও একই কাজ করতেন, হয় আমি তাকে দেখতে পেতাম না, অথবা তিনি ভাবতেন আমি তাকে দেখিনি। আমরা দুজনেই ভালো আছি এমন ভান করতাম, কিন্তু আমরা সংগ্রাম করছিলাম।”

পরবর্তীতে বাবাই মেসির এজেন্ট হিসেবে চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতেন, বার্সেলোনা থেকে পিএসজি এবং পরে ইন্টার মিয়ামি পর্যন্ত বাবাই মেসিক সহযোগিতা করেছেন।

গত শনিবার থেকে ফুটবল বিশ্বের শোকবার্তা আসতে থাকে। মেসি যেসব ক্লাবে খেলেছেন, সেসব ক্লাবের পাশাপাশি স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনও সমবেদনা জানিয়েছে।

আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) সব ম্যাচ শুরুর আগে এক মিনিট নীরবতা পালন এবং সপ্তাহজুড়ে সব বয়সভিত্তিক ম্যাচে খেলোয়াড়দের কালো ব্যাজ পরার নির্দেশ দিয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৭শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫১
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪০
মাগরিব ০৫:১৬
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৮ সূর্যাস্ত : ০৫:১৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%