ঢাকা শুক্রবার, ০৬ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২১শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৫শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ০৬ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২১শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

পাকিস্তান আকাশসীমায় ‘এক চীন নীতি’ প্রয়োগ করছে?


পাকিস্তান আকাশসীমায় ‘এক চীন নীতি’ প্রয়োগ করছে?

গত মাসে পাকিস্তান তাদের আকাশসীমা ব্যবহার করতে ‘চায়না এয়ারলাইন্স’ এবং ‘ইভা এয়ার’কে বাধা দেওয়ার খবর প্রকাশিত হয়েছে, যা ইসলামাবাদের ‘এক চীন নীতি’তে বেইজিংয়ের প্রভাবের মাত্রা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ মন্তব্য করেছেন, ‘চীনের এক চীন নীতি অনুসরণ করে পাকিস্তানের আকাশসীমায় কেবল মূল ভূখণ্ডের চীনা বিমান সংস্থাগুলোকে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।’ এই পদক্ষেপটি অস্বাভাবিক ছিল, কারণ চীনও তাইওয়ানের বাণিজ্যিক বিমান সংস্থাগুলোর ওপর এমন বিধিনিষেধ আরোপ করে না।

যদিও এই নিষেধাজ্ঞাটি আকস্মিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং উভয় বিমান সংস্থাকে ২০২৭ সালের ২৭ মার্চ পর্যন্ত পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে, তবে এটি একটি অস্থায়ী ব্যবস্থা। এই সময়সীমার পরে কী হবে, সে সম্পর্কে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।

আরও পড়ুন: গাজায় ইসরাইলি হামলায় ৬ কোটি ৮০ লাখ টন ধ্বংসস্তূপ, পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা

পাকিস্তান ও তাইওয়ানের মধ্যে সম্পর্ক খুবই সীমিত। ইসলামাবাদ কঠোরভাবে ‘এক চীন নীতি’ মেনে চলে এবং চীনের সঙ্গে ‘অটল বন্ধুত্ব’ বজায় রাখে। তাইওয়ানে ৯০০ জনেরও বেশি পাকিস্তানি নাগরিক বসবাস করেন, যাদের মধ্যে ছাত্র, রেস্তোরাঁর মালিক এবং অন্যান্য পেশাজীবী অন্তর্ভুক্ত। দুই পক্ষের মধ্যে কোনো সরাসরি ফ্লাইট নেই এবং আগেও ছিল না। দক্ষিণ এশিয়া এবং তাইওয়ানের মধ্যে একমাত্র বিমান সংযোগ হলো তাইপে-দিল্লি রুট, যা ১ ডিসেম্বর থেকে পুনরায় চালু হওয়ার কথা রয়েছে।

পাকিস্তানের এই নিষেধাজ্ঞাটি ছিল ‘এক চীন নীতি’র প্রতি ইসলামাবাদের স্বাভাবিক আনুগত্যের চেয়েও কঠোর। ইসলামাবাদ এই নীতির অন্যতম শক্তিশালী সমর্থক, যা নিয়মিতভাবে পুনর্ব্যক্ত করে। চীনের সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ডগত অখণ্ডতাকে নিঃশর্ত সমর্থন করে। পাকিস্তানের কঠোর আনুগত্যের অর্থ হলো- তাইওয়ানের স্বাধীনতার বিরোধিতা করা, তাইওয়ান চীনের অংশ বলে বেইজিংয়ের দাবি মেনে নেওয়া এবং তাইপের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক বজায় না রাখা। তবে নীতিটিকে ভিন্নভাবে দেখা হয়। চীনের এই নীতি যেসব দেশ মেনে চলে, তাদের মধ্যে কেউ কেউ এখনও তাইওয়ানে বাণিজ্যিক সম্পর্ক এবং অনানুষ্ঠানিক কার্যালয় বজায় রাখে।

এর আগেও বিভিন্ন দেশ রাজনৈতিক কারণে তাইওয়ানের বিমান চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। চলতি বছরের এপ্রিলে সেশেলস, মরিশাস ও মাদাগাস্কার আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি প্রত্যাহার করে নেয়। এর ফলে তাইওয়ানের বর্তমান প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে'র আফ্রিকার একমাত্র কূটনৈতিক মিত্র এসওয়াতিনিতে পরিকল্পিত সফরটি সাময়িকভাবে বাতিল হয়ে যায়। যদিও প্রেসিডেন্টের ফ্লাইটে বিধিনিষেধ আরোপ করা এবং বাণিজ্যিক বিমান সংস্থাগুলোকে আকাশসীমা ব্যবহারের অধিকার অস্বীকার করা সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়।

তাহলে, পাকিস্তানে এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ কী হতে পারে? এটি কি চীনের 'ধূসর অঞ্চলের' কার্যকলাপের সম্প্রসারণ ছিল? অথবা চীন-পাকিস্তানের সর্বকালীন বন্ধুত্ব থেকে উদ্ভূত আনুগত্যের প্রকাশ?

আরও পড়ুন: ট্রাম্প-সমর্থিত জনতাবাদী জোয়ারে আমেরিকা-ব্রাজিলে বড় ভাটা, ইউরোপের পরিণতি নিয়ে প্রশ্ন

পাকিস্তানের এই সিদ্ধান্তের দুটি সম্ভাব্য ব্যাখ্যা রয়েছে। প্রথমটি হলো, চীন ‘এক চীন নীতি’কে শক্তিশালী করতে, তাইওয়ানের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততাকে নিরুৎসাহিত করতে এবং তার সহযোগীদের ওপর বেইজিংয়ের প্রভাব প্রদর্শন করতে পাকিস্তানকে এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে বলেছে। তাইওয়ান বিষয়ে চীনের অবস্থানের অন্যতম নির্ভরযোগ্য সমর্থক হিসেবেই পাকিস্তান রয়েছে।

দ্বিতীয় সম্ভাবনাটি হলো, পাকিস্তান চীনের প্রতি তার আনুগত্য প্রদর্শনের জন্য নিজ উদ্যোগে এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, বিশেষ করে এমন এক সময়ে- যখন দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক স্থাপনে আগ্রহী। মক্কা চুক্তি হয়তো বেইজিংকে আশ্বস্ত করার ক্ষেত্রে ইসলামাবাদের প্রেরণা আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। এদিকে, বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের অন্যতম প্রধান অংশ চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডরটি একটি নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পরিণত হয়েছে। বেইজিংয়ের জন্য এটি কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সম্পদ হিসেবে নয়। এই প্রেক্ষাপটে, এই নিষেধাজ্ঞাটি হয়তো একটি প্রতীকী পদক্ষেপ ছিল, যা দেখিয়ে দেয় যে, ওয়াশিংটনের কাছাকাছি আসার জন্য পাকিস্তানের প্রচেষ্টা চীনের সঙ্গে তার সম্পর্কের বিনিময়ে হয়নি। যদিও এরপর আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি পুনরুদ্ধার করা হয়েছে, অন্তত আপাতত- বেইজিংয়ের কাছে বার্তাটি ইতিমধ্যেই পৌঁছে গেছে।

মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপে যাতায়াতকারী তাইওয়ানের ফ্লাইটগুলোর জন্য পাকিস্তানের আকাশসীমা সুবিধাজনক। ২০২৭ সালের মার্চের সময়সীমার পর যদি পুনরায় নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়, তবে তাইওয়ানের জন্য এর দীর্ঘমেয়াদী বড় কোনো প্রভাব নাও পড়তে পারে। তবে ফ্লাইট পথ পরিবর্তন হলে এই রুটগুলোতে পরিচালনার সময়কাল ও খরচ বেড়ে যাবে। এই ঘটনাটি মনে করিয়ে দেয় যে, পাকিস্তান চীনের কাছে সুবিধাজনক অবস্থানে থাকতে চায় এবং তাইওয়ানকে প্রভাবিত করে এমন সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সেই সুবিধা প্রদর্শন করতেও ইচ্ছুক।

সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো, এটি কোনো নজির স্থাপন করে কি না। চীন একই ধরনের চাপ ব্যবহার করে বেইজিংয়ের ঘনিষ্ঠ এবং ‘এক চীন নীতি’ কঠোরভাবে মেনে চলা অন্যান্য দেশগুলোকে প্রভাবিত করতে পারে, যা তাইওয়ানের বিমান সংস্থাগুলোর জন্য সমস্যা তৈরি করবে- বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থায় (আইসিএও) তাইপের কোনো প্রতিনিধিত্ব না থাকায়। বাণিজ্যিক বিমান চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করাও তাইওয়ানের ওপর চাপ প্রয়োগের আরেকটি সম্ভাব্য উপায় হয়ে উঠতে পারে।

আরও পড়ুন: ডেমোক্র্যাটদের ইমপিচমেন্ট উদ্যোগ ধোপে টিকবে না: মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর হুংকার

এই সিদ্ধান্তটি পাকিস্তানের ওপর চীনের অপ্রতিরোধ্য প্রভাব এবং বেইজিংয়ের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শনে ইসলামাবাদের আরো এগিয়ে যাওয়ার ইচ্ছার একটি প্রমাণ। কিন্তু এটি পাকিস্তানের জন্য তেমন কোনো উপকারে আসে না। বাণিজ্যিক বিমান চলাচলের ওপর ‘এক চীন নীতি’ প্রয়োগ করা হলে তা এমন একটি বিধিনিষেধ- যার রাজনৈতিক সংকেত দেওয়া ছাড়া তেমন কোনো সুফল নেই। আরো সমস্যাজনক হলো, পাকিস্তান এই নীতির নিজস্ব ব্যাখ্যাকে এমন সব ক্ষেত্রে প্রসারিত করতে প্রস্তুত, যা ঐতিহ্যগতভাবে এর সঙ্গে যুক্ত নয়।

তথ্যসূত্র : লোয়ি ইনস্টিটিউট

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সিলেটে নিষিদ্ধ যুবলীগের মিছিলে ১২ জন আটক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:০৪ পি.এম


সিলেটে নিষিদ্ধ যুবলীগের মিছিলে ১২ জন আটক

সিলেটে নিষিদ্ধ সংগঠন যুবলীগের মিছিলের ঘটনায় পুলিশ ১২ জনকে আটক করেছে, যারা ব্যানার ও ফ্যাস্টুনসহ ছিলেন। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকালে নগরের জেলরোড এলাকা থেকে শুরু করে ধোপাদিঘিরপাড় পর্যন্ত ‘সিলেট মহানগর যুবলীগ’-এর ব্যানারে এই মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

আটককৃতদের মধ্যে রয়েছেন জকিগঞ্জের শামসুল ইসলামের ছেলে মো. শাহেক আহমেদ (৩২), ইব্রাহিম আলীর ছেলে মোহাম্মদ সেলিম আহমেদ (৩৭), আবুল কালামের ছেলে মুন্না আহমেদ (২৯), কানাইঘাটের ফরিদ আলীর ছেলে দেলোয়ার হোসেন (৩৫), মেজবাহ উদ্দিনের ছেলে তানিম ইকবাল (১৯), নুরুল হকের ছেলে সালেহ আহমেদ (১৮), নসির আহমেদের ছেলে কিবরিয়া আহমেদ (৩০), মৃত মকবুল আলীর ছেলে আলী আহমদ (৪৫), মৃত মমিন উদ্দিনের ছেলে এন এম নাদিম (২০), দক্ষিণ সুরমার লিমন আহমেদের ছেলে ফাহিম হাসান রবি (১৮), আব্দুল মালিক খানের ছেলে জাকের খান (২৯) এবং রেহান উল্লাহর ছেলে জুনায়েদ আহমেদ (৩৮)।

পুলিশ জানায়, শুক্রবার সকাল ৭টার দিকে সিলেট মহানগর যুবলীগের ব্যানারে মিছিলটি বের হয়। এতে সংগঠনটির অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেন। মিছিলের সময় উপস্থিত ব্যক্তিরা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও শেখ হাসিনার পক্ষে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ১২ জনকে আটক করে। আটককৃতদের কাছ থেকে একটি ব্যানার, পাঁচটি ফেস্টুন এবং ১৫টি লাল রঙের ক্যাপ উদ্ধার করা হয়।

সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (গণমাধ্যম) মো. আফজার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বগুড়ায় পুলিশের ওপর হামলা, আসামি ছিনতাই ও গাড়ি ভাঙচুর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:০৫ পি.এম


বগুড়ায় পুলিশের ওপর হামলা, আসামি ছিনতাই ও গাড়ি ভাঙচুর

বগুড়ার সোনাতলায় পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে এক আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় পুলিশের পিকআপ ভ্যানের ওপরও ভাঙচুর করা হয়।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) বেলা ১১টার দিকে সোনাতলা উপজেলার ফুলবাড়িয়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ চার নারীকে আটক করেছে।

পুলিশের সূত্রে জানা যায়, ফুলবাড়িয়া গ্রামের সালাম মাস্টারের ছেলে গোলাম কবির সুমনের (৩৬) বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলায় আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে সোনাতলা থানার এসআই শিমুল কুমার দাস ও এএসআই মেহেদী হাসান থানার একটি পিকআপ ভ্যান নিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করতে ফুলবাড়িয়া গ্রামে যান।

পুলিশ সদস্যরা গোলাম কবির সুমনকে আটক করে গাড়িতে তোলার চেষ্টা করার সময় স্থানীয় লোকজন তাদের ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা পুলিশ সদস্যদের মারধর করে সুমনকে ছিনিয়ে নেয়। এ সময় হামলাকারীরা পুলিশের পিকআপ ভ্যানটিও ভাঙচুর করে।

ঘটনার খবর পেয়ে থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে আহত দুই পুলিশ সদস্যকে উদ্ধার করে সোনাতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়।

সোনাতলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে চার নারীকে আটক করে থানায় রাখা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে শনিবার ৬ ঘণ্টা টোল মুকুটে থাকবে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:০৬ পি.এম


ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে শনিবার ৬ ঘণ্টা টোল মুকুটে থাকবে

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের উপলক্ষে আগামী ৭ নভেম্বর (শনিবার) ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে ছয় ঘণ্টা টোল ছাড়াই যান চলাচলের সুযোগ প্রদান করা হবে। ওই দিন নির্ধারিত সময়ে এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহারকারী সকল ধরনের অনুমোদিত যানবাহন সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে চলাচল করতে পারবে।

বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, দিবসটি উপলক্ষে শনিবার সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহারকারী যানবাহনের জন্য কোনো টোল দিতে হবে না। তবে দুপুর ১২টার পর থেকে নিয়মিত হারে টোল আদায় কার্যক্রম আবার শুরু হবে।

বর্তমানে এক্সপ্রেসওয়েতে শ্রেণিভেদে টোল আদায় করা হয়ে থাকে। এর মধ্যে কার, ট্যাক্সি, এসইউভি, ১৬ আসনের কম মাইক্রোবাস ও ৩ টনের কম হালকা ট্রাকের জন্য টোল নির্ধারিত রয়েছে ৮০ টাকা; ১৬ আসন বা তদূর্ধ্ব বাসের জন্য ১৬০ টাকা; ৬ চাকা পর্যন্ত মাঝারি ট্রাকের জন্য ৩২০ টাকা এবং ৬ চাকার বেশি ভারী ট্রাকের জন্য ৪০০ টাকা। তবে রিকশা, মোটরসাইকেল ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মতো দুই ও তিন চাকার যানবাহন এক্সপ্রেসওয়েতে চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

সরকারি-বেসরকারি অংশীদারির (পিপিপি) ভিত্তিতে বাস্তবায়িত এই প্রকল্পের মোট দৈর্ঘ্য ১৯ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে বিমানবন্দর সংলগ্ন কাওলা থেকে এফডিসি পর্যন্ত অংশটি যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। বর্তমানে এ অংশেই নিয়মিত যান চলাচল করছে। নকশা অনুযায়ী কাওলা থেকে তেজগাঁও, মগবাজার ও কমলাপুর হয়ে যাত্রাবাড়ীর কুতুবখালী পর্যন্ত এক্সপ্রেসওয়েটি সম্প্রসারিত হওয়ার কথা থাকলেও পুরো অংশের কাজ এখনো শেষ হয়নি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এক দশকে পাকিস্তানের বৈদেশিক ঋণ প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:০৬ পি.এম


এক দশকে পাকিস্তানের বৈদেশিক ঋণ প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে

গত ১০ বছরে পাকিস্তানের বৈদেশিক ঋণ প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। ২০১৫ সালে দেশটির মোট বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ ছিল ৬৮ দশমিক ৬৭ বিলিয়ন ডলার। ২০২৫ সালের মধ্যে এটি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩৫ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারে। এই তথ্যটি বিশ্বব্যাংকের ‘ইন্টারন্যাশনাল ডেট রিপোর্ট ২০২৬’-এ প্রকাশিত হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুসারে, পাকিস্তানের মোট বৈদেশিক ঋণের মধ্যে সরকারি ও সরকারি গ্যারান্টিযুক্ত ঋণের পরিমাণ ১০৭ দশমিক ০৭ বিলিয়ন ডলার। এর পাশাপাশি বেসরকারি গ্যারান্টিবিহীন ঋণ ১৭ দশমিক ৫৮ বিলিয়ন ডলার এবং স্বল্পমেয়াদি ঋণের পরিমাণ ১০ দশমিক ৪৫ বিলিয়ন ডলার।

সরকারি ও সরকারি গ্যারান্টিযুক্ত ঋণের মধ্যে বহুপাক্ষিক সংস্থাগুলোর কাছ থেকে নেওয়া ঋণের পরিমাণ ৫৬ দশমিক ৮৩ বিলিয়ন ডলার। দ্বিপাক্ষিক ঋণদাতাদের কাছ থেকে নেওয়া ঋণের পরিমাণ ৪২ দশমিক ৪৩ বিলিয়ন ডলার। বেসরকারি ঋণদাতাদের কাছে ঋণের পরিমাণ ৭ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার।

পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় একক ঋণদাতা দেশ চীন। পাকিস্তানের কাছে চীনের ঋণের পরিমাণ ২২ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার। এরপর রয়েছে বিশ্বব্যাংক, যার ঋণের পরিমাণ ১৯ দশমিক ২ বিলিয়ন এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) ঋণ ১৬ দশমিক ৮৩ বিলিয়ন ডলার।

প্রতিবেদনটিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, সরকারি ঋণদাতাদের কাছ থেকে নেওয়া ঋণের গড় পরিশোধের সময়কাল ১৬ বছর। এর মধ্যে প্রথম চার বছর কিস্তি পরিশোধে ছাড় রয়েছে। এসব ঋণের গড় সুদের হার ৩ দশমিক ৬ শতাংশ। অন্যদিকে, বেসরকারি ঋণের গড় সুদের হার ৮ দশমিক ৬ শতাংশ। এসব ঋণের পরিশোধের গড় সময়কাল তিন বছর এবং কিস্তি পরিশোধ শুরু করার আগে এক বছরের ছাড়ের সময় রয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্য, উত্তর আফ্রিকা, আফগানিস্তান ও পাকিস্তান (মেনাপ) অঞ্চলে ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা এবং সুদ পরিশোধের অনুপাতের উন্নতি ঘটেছে। তবে এই অঞ্চলে জাতীয় মোট আয়ের (জিএনআই) তুলনায় বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালে এই অনুপাত ছিল ২৬ দশমিক ৭ শতাংশ, যা ২০২৫ সালে বেড়ে ২৯ দশমিক ৪ শতাংশে পৌঁছেছে।

বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় এক বছরে বৈদেশিক ঋণের অনুপাত বৃদ্ধির হার মেনাপ অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি। এটি নির্দেশ করে যে, এই অঞ্চলের দেশগুলোর ওপর বৈদেশিক ঋণের চাপ ক্রমাগত বাড়ছে।

২০২৫ সালে পাকিস্তানের ২ বিলিয়ন ডলারের ঋণ পরিশোধের সময়সীমা বাড়িয়ে দেয় চীন। একই বছরে দেশটির অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) দুটি কর্মসূচির আওতায় মোট ২ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের আর্থিক সহায়তা প্রদান করে।

কর্মসূচি দুটি হলো ‘এক্সটেন্ডেড ফান্ড ফ্যাসিলিটি’ (ইএফএফ) এবং ‘রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি ফ্যাসিলিটি’ (আরএসএফ)।

২০২৫ সালে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোর বৈদেশিক ঋণ ৫ দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে রেকর্ড ৯ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। গত চার বছরের মধ্যে এক বছরে ঋণ বৃদ্ধির এটি সর্বোচ্চ হার। বন্ড ইস্যু বৃদ্ধি, মার্কিন ডলারের মূল্য কমে যাওয়া এবং বিনিয়োগকারীদের ঋণ দেওয়ার আগ্রহ বাড়ায় এই ঋণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

তবে ঋণ বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে পরিশোধের খরচও বেড়েছে। বিশেষ করে দরিদ্র দেশগুলোকে কয়েক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ সুদে ঋণ নিতে হয়েছে। টানা পঞ্চম বছরের মতো ঋণ পরিশোধের পরিমাণও বেড়েছে।

বিশ্বব্যাংকের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার (আইডিএ) আওতাভুক্ত দেশগুলোর বৈদেশিক ঋণ ৮ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ১ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, নিম্ন আয়ের দেশগুলোর ঋণ ৮ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে ২৬২ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা ২০২০ সালের পর সর্বোচ্চ।

এদিকে, ডলারের মূল্য কমে যাওয়ার ফলে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোর বৈদেশিক ঋণ বৃদ্ধির হার ২৮ দশমিক ২ শতাংশ হয়েছে। ফলে নিয়মিত ঋণ পরিশোধ করলেও মুদ্রার বিনিময় হারের পরিবর্তনের কারণে ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ অনেক দেশের মোট ঋণের পরিমাণ আরও বেড়েছে।

বেসরকারি ঋণদাতাদের ঋণ ৫ ট্রিলিয়ন ডলারে

২০২৫ সালে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোর বেসরকারি ঋণদাতাদের কাছ থেকে নেওয়া ঋণের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এ বছর এ ঋণ ৫ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ৫ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। ২০২৪ সালে এই বৃদ্ধির হার ছিল মাত্র ০ দশমিক ৬ শতাংশ।

বন্ডহোল্ডার, বাণিজ্যিক ব্যাংক ও অন্যান্য বেসরকারি ঋণদাতাদের কাছ থেকে ঋণ বৃদ্ধির কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ২০২৫ সালে বন্ডহোল্ডারদের কাছে ঋণ ৫ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে ২ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলার এবং বাণিজ্যিক ব্যাংক ও অন্যান্য বেসরকারি ঋণদাতাদের কাছে ঋণ ৪ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে ২ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।

এই সময়ে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোর মোট জাতীয় আয় ৫ দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির কারণে এসব দেশের প্রতি ঋণদাতাদের আগ্রহ বেড়েছে। পাশাপাশি সুদের হার বেশি হলেও এসব দেশের সরকার ঋণ নিতে আগ্রহ দেখিয়েছে। তবে সবচেয়ে কম ঋণ নেওয়ার সক্ষমতা যেসব দেশের, ঋণ পেতে তাদেরই সবচেয়ে বেশি সুদ গুনতে হচ্ছে।

দরিদ্র দেশগুলোর ঋণের সুদ আশির দশকের পর সর্বোচ্চ

বেসরকারি ঋণদাতাদের কাছ থেকে ঋণ নেওয়া বাড়ানোর ফলে দরিদ্র দেশগুলোর ঋণের খরচও বেড়েছে। আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (আইডিএ)-এর আওতাভুক্ত দেশগুলো ২০২৫ সালে নতুন ঋণের জন্য গড় ৮ দশমিক ২ শতাংশ সুদ দিয়েছে, যা আশির দশকের শেষভাগের পর সর্বোচ্চ।

সরকারি ও বেসরকারি ঋণদাতাদের ঋণের সুদের ব্যবধানও বেড়েছে। ২০১৬ সালে এই ব্যবধান ছিল ৩ দশমিক ৪ শতাংশীয় পয়েন্ট, যা ২০২৫ সালে বেড়ে ৫ দশমিক ৫ শতাংশীয় পয়েন্ট হয়েছে।

তবে আন্তর্জাতিক পুনর্গঠন ও উন্নয়ন ব্যাংকের (আইবিআরডি) ঋণগ্রহীতা দেশগুলোর নতুন ঋণের গড় সুদের হার ৫ দশমিক ৮ শতাংশ থেকে কমে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোর ঋণ পরিশোধের চাপও বাড়ছে।

২০২৫ সালে এসব দেশের আসল ও সুদসহ মোট ঋণ পরিশোধের পরিমাণ ১ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে ১ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে বন্ডের বিপরীতে অর্থ পরিশোধ বেড়েছে ১৩ দশমিক ৭ শতাংশ, যা ৩৬৩ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।

২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে এসব দেশ নতুন ঋণ হিসেবে যত অর্থ পেয়েছে, তার চেয়ে ৪৩৬ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার বেশি ব্যয় করেছে পুরোনো ঋণ পরিশোধে। তবে ২০২৫ সালে দীর্ঘমেয়াদি ঋণের অর্থপ্রবাহে পরিবর্তন এসেছে। ২০২৪ সালে এসব দেশ থেকে ১১৮ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার নিট অর্থ বাইরে চলে গেলেও ২০২৫ সালে ৪৫ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার নিট অর্থ দেশে এসেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৫শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫০
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪১
মাগরিব ০৫:১৭
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৭ সূর্যাস্ত : ০৫:১৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%