০৮:৪২ পি.এম
ফুটবল মাঠে জার্সির নম্বর সাধারণত নির্দিষ্ট পজিশনের পরিচিতি বহন করে। যেমন ডিফেন্ডারদের জন্য ২ নম্বর জার্সি পরিচিত, তেমনি মিডফিল্ডার বা ফরোয়ার্ডদের জন্য থাকে আলাদা নম্বরের প্রচলন। কিন্তু নরওয়ের মিডফিল্ডার মর্টেন থর্সবি এই প্রচলিত ধারা ভেঙে এক ভিন্ন রাস্তায় হাঁটছেন। তিনি নিজের জন্য বেছে নিয়েছেন ২ নম্বর জার্সি। যদিও এর পিছনে রয়েছে একটি ব্যতিক্রমী বার্তা।
থর্সবি ছিলেন শুধুমাত্র একজন পেশাদার ফুটবলার নয়, বরং তিনি জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় সক্রিয় একজন ক্রীড়াব্যক্তিত্ব। তার জার্সির ২ নম্বরটি কোনো কাকতালীয় পছন্দ নয়, বরং এটি প্রতীকী হিসেবে ব্যবহার করেন। এই সংখ্যা দিয়ে তিনি বিশ্ববাসীকে জানাতে চান, প্যারিস জলবায়ু চুক্তির লক্ষ্য অনুযায়ী বৈশ্বিক উষ্ণতা ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা আবশ্যক।
মাঠে থর্সবি যেমন লড়াকু, মাঠের বাইরে তেমনি তিনি পরিবেশ সচেতন একজন নাগরিক। তার জীবনযাপনে এর প্রভাব স্পষ্ট দেখা যায়। তিনি নিয়মিত সাইকেল ব্যবহার করে অনুশীলনে যান এবং সম্ভব হলে বিমান ভ্রমণের পরিবর্তে ট্রেনকেই বেছে নেন, যাতে কার্বন নিঃসরণ কম হয়।
আরও পড়ুন: মাদারীপুরে কৃষককে কুপিয়ে জখম, প্রধান আসামি জাকির গ্রেফতার
তার এই পরিবেশবান্ধব অবস্থান নতুন নয়। নেদারল্যান্ডসের ক্লাব হিরেনভিনে খেলার সময়ও তিনি ক্লাব কর্তৃপক্ষকে স্টেডিয়ামে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের উদ্যোগ নিতে উৎসাহিত করেছিলেন। পরবর্তীতে সেখানে পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ব্যবহারের পথে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা যায়।
২০২৬ বিশ্বকাপে নরওয়ে কঠিন গ্রুপে থাকলেও থর্সবির চিন্তার একটি বড় অংশ ছিল দলের যাতায়াত ও পরিবেশগত প্রভাব। নিউইয়র্ক ও বোস্টনে ম্যাচ থাকায় দীর্ঘ ভ্রমণের সম্ভাবনা ছিল, কিন্তু কম ফ্লাইট ব্যবহারের সুযোগ থাকায় তিনি কিছুটা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।
মর্টেন থর্সবির মতে, খেলাধুলার জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে পরিবেশ নিয়ে সচেতনতা বাড়ানো সম্ভব। তাই জার্সির নম্বরকেও একটি বার্তা হিসেবে ব্যবহার করছেন তিনি। ফুটবলে যে নম্বর সাধারণত ডিফেন্ডাররা পরেন, মর্টেন থর্সবি কেবল পরিবশের জন্য বার্তা দিতেই সেই ২ নম্বর জার্সি গায়ে জড়িয়েছেন।
আরও পড়ুন: সারজিস আলম: গণহত্যাকারী হাসিনার অলীক ডিসেম্বর বাংলাদেশে আসবে না
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন