০৯:৫৭ এম
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের অবসান নিয়ে আলোচনা করছেন। এর মধ্যে তিনি নতুন একটি দাবি তুলেছেন। ট্রাম্প বলেছেন, ভবিষ্যতে তেহরানের সঙ্গে যে কোনো শান্তি চুক্তিতে মার্কিন নাগরিকদের নিহত ও আহত হওয়ার ঘটনায় ক্ষতিপূরণের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা উচিত।
সোমবার এক প্রতিবেদনে তথ্যটি জানিয়েছেন সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড। ট্রাম্পের এই দাবির ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান আলোচনা হয়তো আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলেও বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
ট্রাম্প আরও জানিয়েছেন, গত পাঁচ মাসে ঘটে যাওয়া সামরিক সংঘাতে ইরান যে ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে, সেই ক্ষতির জন্য তেহরান বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ক্ষতিপূরণের দাবি করছে। একই কারণে, তিনি বলেন, কয়েক দশকে ইরানের হামলায় নিহত ও আহত মার্কিন নাগরিকদের জন্য ওয়াশিংটনও ক্ষতিপূরণের দাবি তুলবে।
আরও পড়ুন: সচিবালয় স্থানান্তরে নতুন জটিলতার শঙ্কা
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালের একটি পোস্টে, ট্রাম্প ২০০০ সালে ইউএসএস কোল যুদ্ধজাহাজে হামলার বিষয়টিও উল্লেখ করেছেন। গত ৫০ বছরে প্রাণহানি ও আহত হওয়ার কয়েকটি ঘটনায় ইরানকে সমর্থন বা জড়িত থাকার অভিযোগও করেছেন তিনি।
তিনি জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে ভবিষ্যতে ‘যেকোনো ও সব ধরনের আলোচনায়’ ক্ষতিপূরণের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করতে তিনি মার্কিন প্রতিনিধিদের নির্দেশ দিয়েছেন।
ওয়াশিংটনের সাম্প্রতিক অবস্থানে ইরান ইস্যুতে সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা চলছে। গত রোববার ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান কিছুটা নরম হয়েছে। এতে সামরিক হামলার পরিবর্তে অর্থনৈতিক চাপের দিকে গুরুত্ব দেওয়ার ইঙ্গিত দেখা যায়।
তবে আলোচনায় বড় বাধা হয়ে উঠেছে হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি। এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে বাণিজ্যিক চলাচল এখনো কার্যত বন্ধ রয়েছে, যা বিশ্বে জ্বালানি সরবরাহের ওপর প্রভাব ফেলছে।
আরও পড়ুন: এবার লস অ্যাঞ্জেলেসের মেয়র নির্বাচনে ভারতীয় বংশোদ্ভূত নিত্যা রমনের অবিশ্বাস্য জয়
বিভিন্ন প্রতিবেদনে প্রকাশিত খবর অনুসারে, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দিতে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে দেশটির বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত অবরোধ প্রত্যাহার এবং তেলশিল্পের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।
এই অচলাবস্থার কারণে জ্বালানি বাজারেও প্রভাব পড়েছে। তেলের দাম বাড়ছে এবং বৈশ্বিক বাজারে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি হচ্ছে। ট্রাম্পের নতুন ক্ষতিপূরণের দাবি বিষয়টি আরও জটিল করে দিতে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা। কারণ, যুদ্ধ বন্ধের পাশাপাশি ভবিষ্যতের শান্তি চুক্তির শর্ত নিয়ে দুই দেশের মধ্যে এখনও বড় ধরনের মতপার্থক্য বিদ্যমান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন