০৯:১০ এম
রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের দায়িত্ব নেওয়ার কারণে ঠাকুরগাঁও-১ আসনটি শূন্য হয়ে গেছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে তিনি প্রায় ৯৮ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছিলেন।
তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর দেলাওয়ার হোসেন এক লাখ ৪১ হাজারের বেশি ভোট পেয়েছিলেন। এর ফলে আসন্ন উপনির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী কে হতে চলেছেন এবং জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে দেলাওয়ার হোসেন কতটা প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে সক্ষম হবেন, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়ে গেছে।
বিএনপির পক্ষ থেকে এখনো প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়নি। তবে দলীয় সূত্র জানাচ্ছে, সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি ও মির্জা ফখরুলের ছোট ভাই মির্জা ফয়সল আমিন এগিয়ে রয়েছেন।
আরও পড়ুন: শেরপুরে জমিজমা বিরোধে ভাতিজাদের হামলায় চাচা নিহত, অভিযুক্তের বাড়িতে আগুন
এর পাশাপাশি জেলা বিএনপির দুই সহসভাপতি ওবায়দুল্লাহ মাসুদ এবং সুলতানুল ফেরদৌস নম্র চৌধুরীও মনোনয়ন চাইতে পারেন। উল্লেখযোগ্যভাবে, মির্জা ফখরুলের মেয়ে অস্ট্রেলিয়াপ্রবাসী চিকিৎসাবিজ্ঞানী শামারুহ মির্জার নামও আলোচনা হচ্ছে।
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী জানিয়েছেন, উপনির্বাচনে দলের প্রার্থী কে হবেন সে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে হাইকমান্ড। কেন্দ্র থেকে যাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে, তার জন্য নেতাকর্মীরা সমর্থন দেবেন।
মির্জা ফয়সল আমিনের প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, তবে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে দেলাওয়ার হোসেন প্রার্থী হিসেবে মাঠে থাকবেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। তিনি দলের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি।
আরও পড়ুন: গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের নতুন কমিশনার মো. আশিক সাঈদ দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন
ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক বেলাল উদ্দিন প্রধান বলেছেন, মাঠে তাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম চলছে। কেন্দ্র থেকে সিদ্ধান্ত জানানো হলে তারা নির্বাচনী কার্যক্রম শুরু করবেন। দেলাওয়ার হোসেনের প্রার্থী হওয়ার ব্যাপারে তারা মানসিকভাবে প্রস্তুত।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, মির্জা ফখরুল দীর্ঘদিন ধরে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে একটি পরিচিত রাজনৈতিক মুখ। তার ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা ভোটে প্রভাব ফেলেছে কি না, উপনির্বাচনে তার প্রমাণ পাওয়া যাবে। বিএনপির নতুন প্রার্থীকে তার প্রাপ্ত ভোটের বড় অংশ ধরে রাখতে পারার সক্ষমতা দেখাতে হবে, এবং এই ক্ষেত্রে প্রার্থী বাছাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
অপরদিকে, সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) ঠাকুরগাঁও জেলা শাখার সভাপতি মো. আব্দুল লতিফ জানিয়েছেন, যদি মির্জা ফয়সল আমিন প্রার্থী হন, তাহলে বিএনপির সাংগঠনিক শক্তি তার পক্ষে থাকবে। তবে মির্জা ফখরুলের ব্যক্তিগত ইমেজ ও তার ছোট ভাইয়ের ইমেজ এক নয়। এজন্যে বিএনপির ভোট কিছুটা কমতে পারে।
তিনি বলেছেন, দেলাওয়ার হোসেন গত নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য ভোট পেয়েছিলেন। জামায়াতও সাংগঠনিকভাবে শক্ত অবস্থান তৈরির চেষ্টা চালাবে। তবে সার্বিকভাবে মির্জা ফয়সল আমিনের জয়ের সম্ভাবনাই বেশি বলে মনে করেন তিনি।
আরও পড়ুন: ময়মনসিংহে দুই প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও প্রাণনাশের হুমকি
এদিকে, যদিও বিএনপির প্রার্থী এখনও চূড়ান্ত হয়নি, উভয় দলের মাঠ পর্যায়ের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে। ভোটার উপস্থিতি কম হলে সংগঠন ও কর্মীদের সক্রিয়তা উপনির্বাচনের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণভাবে প্রভাব ফেলতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন