০২:৩৬ পি.এম
প্রচণ্ড খরা এবং ভয়াবহ দাবদাহের পরিস্থিতির মুখে পড়ে ফ্রান্সে দাবানল পরিস্থিতি পুনরায় চরম অবনতি হয়েছে। দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় জিরোন্দ বিভাগে নতুন করে ছড়িয়ে পড়া আগুন নিয়ন্ত্রণে দিনরাত লড়াই করছে হাজার হাজার অগ্নিনির্বাপক কর্মী। এরই মাঝে আবহাওয়া দপ্তর চলতি গ্রীষ্মের চতুর্থ তাপদাহ শুরু হওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে, যা তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশেপাশে পৌঁছাতে পারে এবং এ পরিস্থিতি আরও গুরুতর করে তুলতে পারে।
ফরাসি ফায়ার ফাইটার্স ফেডারেশনের মুখপাত্র ব্রোকার্দি বলেছেন, এই অসম লড়াইকে ‘ডেভিড বনাম গোলিয়াথ’-এর সংগ্রামের সাথে তুলনা করা যেতে পারে। গত সপ্তাহে আগুন নেভাতে গিয়ে তাদের চারজন সহকর্মী প্রাণ হারিয়েছেন। বর্তমানে শুধু জিরোন্দ এলাকাতেই প্রায় দুই হাজার অগ্নিনির্বাপক সদস্য মোতায়েন আছেন। আঞ্চলিক প্রিফেক্ট সোফি ব্রোকাস জানিয়েছেন, গত মঙ্গলবারেই পূর্বে ১৪টি স্থানে নতুন করে আগুন জ্বলে উঠেছে। অধিকন্তু, দেশটির বিভিন্ন এলাকা থেকে এখন পর্যন্ত দুই লাখ ২০ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং অন্তত ২৪০টি বাড়িঘর ধ্বংস হয়েছে।
দাবানলের শিখা পার্শ্ববর্তী স্প্যানিশ এবং পর্তুগিজ সীমান্ত এলাকাতেও ছড়িয়ে পড়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি আঘাত এসেছে ফ্রান্সের বোর্দো অঞ্চলের আশপাশে। ঐতিহাসিক ওয়াইন উৎপাদনের জন্য বিখ্যাত এই নগরের কাছে আগুনের শিখা প্রায় ১৫ কিলোমিটার পৌঁছে গিয়েছিল। যদিও বোর্দো শহরটি সরাসরি আগুনের কবলে পড়ার ঝুঁকিতে নেই, তথাপি পুরো নগরী ঘন ছাই এবং বিষাক্ত ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়েছে। বাসিন্দারা মাস্ক পরে বাইরে বের হচ্ছেন এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ছিন্নবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ধোঁয়ার কারণে পর্যটকশূন্য হয়ে পড়ায় স্থানীয় রেস্তোরাঁ এবং ওয়াইন শিল্প চরম ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে।
আরও পড়ুন: যবিপ্রবিতে শ্যামাপূজা ও দীপাবলি উৎসব উদযাপন, আনন্দমুখর পরিবেশে বিভিন্ন আয়োজন
ফরাসি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনেজ জানিয়েছেন, অগ্নিকাণ্ড সংক্রান্ত ঘটনার তদন্তে গত ৬ জুলাই থেকে এ পর্যন্ত ১৮৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বার অঞ্চলে আগুন লাগানোর অভিযোগে ২৩ বছর বয়সী একজন তরুণকে আটক করা হয়েছে, যার ১৫ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। স্বাস্থ্য বিভাগ তাদের জনসাধারণকে ঘরের ভেতরে থাকার পরামর্শ দিয়েছে। ভয়াবহ দাবদাহ এবং শুকনো বাতাসের কারণে পরিস্থিতি কতদূর গড়ায় সে বিষয়ে আতঙ্কিত রয়েছে পুরো ইউরোপ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন