০২:২৮ পি.এম
একসময় নদী, খাল আর বিলে দেশীয় মাছের প্রাচুর্যে মুখর থাকত মাদারীপুরের ডাসার ও কালকিনি উপজেলার বিস্তীর্ণ জলাভূমি। বর্ষা এলেই জেলেদের জালে ধরা পড়ত নানা প্রজাতির দেশীয় মাছ। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই চিত্র বদলে যাচ্ছে। অবৈধ ‘চায়না দুয়ারি’ জালের নির্বিচার ব্যবহারে ধীরে ধীরে হারিয়ে যেতে বসেছে দেশীয় মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন ব্যবস্থা। এতে উদ্বেগ বাড়ছে স্থানীয় বাসিন্দা, জেলে সম্প্রদায় এবং মৎস্য সংশ্লিষ্টদের মধ্যে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নদী, খাল ও বিলে স্থাপন করা হচ্ছে সূক্ষ্ম ফাঁসের চায়না দুয়ারি জাল। এসব জালে শুধু বড় মাছ নয়, মাছের রেণু, পোনা ও ডিম বহনকারী মা মাছও আটকা পড়ে। ফলে মাছ বড় হওয়ার আগেই নিধন হচ্ছে, যা দেশীয় মৎস্যসম্পদের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ডাসার উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, খাল ও জলাশয়ের বিভিন্ন স্থানে গোপনে বসানো হয়েছে চায়না দুয়ারি জাল। স্থানীয়রা জানান, রাতের আঁধারে এসব জাল ব্যবহার করে অসাধু ব্যক্তিরা অল্প সময়ে বেশি মাছ ধরার চেষ্টা করেন। কিন্তু এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়ছে পুরো জলজ পরিবেশের ওপর।
আরও পড়ুন: কুবি ক্যাম্পাসে ভুয়া পুলিশ সন্দেহে ৩ জনকে আটক, মারধরের অভিযোগ
স্থানীয় প্রবীণ জেলে আব্দুল করিম বলেন, “আগে বর্ষা মৌসুমে জালে অনেক দেশীয় মাছ পাওয়া যেত। এখন মাছের সংখ্যা অনেক কমে গেছে। চায়না দুয়ারি জাল ছোট মাছ পর্যন্ত ছাড়ে না। এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে দেশীয় মাছ শুধু গল্পেই শুনতে হবে।”
মৎস্য বিশেষজ্ঞদের মতে, চায়না দুয়ারি জালের সূক্ষ্ম ফাঁস জলজ প্রাণীর স্বাভাবিক জীবনচক্রকে ব্যাহত করে। মাছের পোনা ও প্রজননক্ষম মাছ নির্বিচারে ধরা পড়ায় মাছের বংশবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হয়। এর ফলে জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের ভারসাম্যও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
এদিকে প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগ অবৈধ জালের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে অভিযান পরিচালনা করছে। অভিযানে বিপুল পরিমাণ চায়না দুয়ারি জাল জব্দ করে ধ্বংস করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, অবৈধ জালের ব্যবহার বন্ধে নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তবে স্থানীয়দের দাবি, বিচ্ছিন্ন অভিযান নয়, প্রয়োজন নিয়মিত তদারকি এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি। তারা বলেন, কিছু অসাধু ব্যক্তির স্বল্পমেয়াদি লাভের কারণে দেশের মূল্যবান মৎস্যসম্পদ ধ্বংস হতে দেওয়া যায় না।
আরও পড়ুন: নোয়াখালীতে অসুস্থ সাংবাদিকদের রোগমুক্তির জন্য দোয়া মাহফিল
মাদারীপুরের নদী-খাল-বিল শুধু জীবিকার উৎস নয়, এটি এ অঞ্চলের মানুষের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির অংশ। দেশীয় মাছের অস্তিত্ব রক্ষায় এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম হয়তো শিং, মাগুর, টেংরা, কৈ কিংবা পুঁটি মাছের প্রাচুর্যের গল্প শুধু বইয়ের পাতায় খুঁজে পাবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশীয় মৎস্যসম্পদ রক্ষায় অবৈধ চায়না দুয়ারি জালের ব্যবহার সম্পূর্ণ বন্ধ করা এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কোনো বিকল্প নেই। দেশের জলজ সম্পদ রক্ষায় প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ ও স্থানীয় জনগণের সমন্বিত উদ্যোগই হতে পারে টেকসই সমাধান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন