১১:৫৭ এম
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগে ২১ জন শিক্ষক এবং ২ জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের তরফ থেকে। উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান এই সিদ্ধান্তগুলো সাংবাদিকদের জানান।
রোববার (১৫ জুন) বিকেল ৪টা থেকে শুরু হয়ে ভোর পৌনে ৫টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে একটি সিন্ডিকেট সভা অনুষ্ঠিত হয়, যা টানা প্রায় ১৩ ঘণ্টাব্যাপী ছিল।
সিন্ডিকেট সভার মধ্যে একজন শিক্ষককে বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হয়েছে, ৯ জন শিক্ষক ও একজন কর্মকর্তাকে পদাবনতি করে তাদের বেতন কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, এছাড়া ২ জন শিক্ষককে সতর্ক করা হয়েছে। ফলে, ৭ শিক্ষক এবং একজন কর্মকর্তাকে সব অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত করা হয়েছে। অন্যদিকে, তৎকালীন উপাচার্য (ভিসি), উপ-উপাচার্য (প্রো-ভিসি, প্রশাসন) এবং কোষাধ্যক্ষের বিরুদ্ধে আলাদা তিনটি স্ট্রাকচার (তদন্ত) কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: পতেঙ্গায় শিশু সোহাগ হত্যা: ইমাম হোসেনের মৃত্যুদণ্ড
সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মেহেদী ইকবালকে বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হয়েছে। নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. ইসরাফিল আহমেদ রঙ্গন, পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক ড. আলমগীর কবির, সরকার ও রাজনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আ স ম ফিরোজ-উল-হাসান ও অধ্যাপক বশির আহমেদ, পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিকস বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তাজউদ্দিন শিকদার, প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোস্তফা ফিরোজ এবং অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগের প্রভাষক কানন কুমার সেনদের বেতন স্কেলের নিম্নধাপে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজনকে আগামী ৫ বছরের জন্য প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে দূরে রাখা হয়েছে, তবে ২ বছর পর তারা পুনরায় পদোন্নতির আবেদন করতে পারবেন।
এছাড়া গুরুতর শাস্তি হিসেবে নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মহিবুর রৌফ শৈবালকে ‘প্রভাষক’ পদে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার নাহিদুর রহমান খানকে ‘সহকারী রেজিস্ট্রার’ পদে পদাবনতি করা হয়েছে। তাদেরও নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে ২ বছর পর পদোন্নতির আবেদন করার সুযোগ থাকবে। অন্যান্য সিদ্ধান্তের মধ্যে ইতিহাস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হোসনে আরা এবং পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. এ মামুনকে কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে। এদের মধ্যে অধ্যাপক ড. এ মামুনকে আগামী ৫ বছরের জন্য যেকোনো প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে।
অন্যদিকে, অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ৮ জনকে সম্পূর্ণ অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তারা হলেন— আইবিএ-জেইউ-এর সহকারী অধ্যাপক পলাশ সাহা, পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. শফি মোহাম্মদ তারেক, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. জহিরুল ইসলাম খন্দকার, লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. ছায়েদুর রহমান এবং সহযোগী অধ্যাপক মনির উদ্দিন শিকদার, অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আনোয়ার খসরু পারভেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী রেজিস্ট্রার রাজীব চক্রবর্তী।
সিন্ডিকেট সভার পর উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, ২০২৫ সালের ১৭ মার্চ গঠিত তদন্ত কমিটির রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে দীর্ঘ আলোচনা ও পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই-বাছাই শেষে এই সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হয়েছে। সিন্ডিকেট সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে যেন কোনও নির্দোষ ব্যক্তি শাস্তি না পান এবং প্রকৃত অপরাধীও যেন পার পেয়ে না যান।
আরও পড়ুন: আ.লীগ ও অন্তর্বর্তী সরকারের আমলের অনিয়ম-দুর্নীতির তথ্য চেয়েছে সংসদীয় কমিটি
তিনি আরও জানান, প্রাথমিক তদন্ত বা ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটির রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই সিন্ডিকেট প্রথমে একটি স্ট্রাকচার কমিটি গঠন করেছিল। সেই কমিটি ১৯ জন শিক্ষক ও ২ জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে। মূলত সেই কমিটির সুপারিশ পর্যালোচনা করেই সিন্ডিকেট চূড়ান্ত রায় দিয়েছে।
তৎকালীন শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিষয়ে উপাচার্য বলেন, তদন্ত প্রতিবেদনে তৎকালীন ভিসি, প্রো-ভিসি (প্রশাসন) এবং কোষাধ্যক্ষের (ট্রেজারার) নেতিবাচক ভূমিকা স্পষ্টভাবে উল্লিখিত হয়েছে। তবে পূর্বে তাদের বিরুদ্ধে কোনো স্ট্রাকচার কমিটি গঠন হয়নি। তাই আজকের সিন্ডিকেট সভায় সর্বসম্মতিক্রমে ওই তিনজনের ভূমিকা তদন্তে পৃথক তিনটি স্ট্রাকচার কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন