ঢাকা রবিবার, ০৮ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২৩শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৭শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ০৮ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২৩শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

উচ্চ ব্যয় প্রস্তাব, বাস্তবায়নে সীমাবদ্ধতার শঙ্কা


উচ্চ ব্যয় প্রস্তাব, বাস্তবায়নে সীমাবদ্ধতার শঙ্কা

 

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটটি কিছু উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যকে সামনে রেখে প্রণয়ন করা হয়েছে। দ্রত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, উন্নত স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষাব্যবস্থা এবং বিস্তৃত সামাজিক সুরক্ষা এসব লক্ষ্যের মধ্যে রয়েছে।

যখন ব্যয়ের কাঠামো বিশ্লেষণ করা হয়, তখন বোঝা যায়, সরকার এসব লক্ষ্য অর্জনের জন্য অগ্রাধিকার নির্ধারণের চেষ্টা করেছে। তবে এর ভেতরে কিছু কঠিন আপসও স্পষ্ট হয়ে পড়ে।

আরও পড়ুন: এইচএসসির খাতা পুনর্মূল্যায়ন আবেদনের সময়সীমা বৃদ্ধি, ২ লাখ ৭৮ হাজার ৮৮২ শিক্ষার্থী আবেদন করেছেন

মোট সরকারি ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেলেও, এর বড় একটি অংশ সুদ পরিশোধ, ভর্তুকি, প্রশাসনিক ব্যয় এবং অন্যান্য নিয়মিত খাতে চলে যায়। এর মানে হল, উন্নয়ন প্রকল্প অথবা নতুন সেবায় ব্যয়ের জন্য সরকারের প্রকৃত অর্থনৈতিক পরিসর তুলনামূলকভাবে সীমিত রয়ে যাচ্ছে।

অর্থাৎ, বাড়তি ব্যয়ের পুরোটা সরাসরি উন্নয়নমূলক কাজে ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে, ব্যয়ের অগ্রাধিকারে কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যায়। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সামাজিক কল্যাণ, প্রাথমিক ও কারিগরি শিক্ষায় বরাদ্দ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং সামাজিক সুরক্ষাকে গুরুত্ব দেওয়ার ইঙ্গিত দেয়। দীর্ঘ মেয়াদে এটি জীবনমান এবং উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হতে পারে।

তবুও প্রশ্ন থেকে যায়, এই বাড়তি বরাদ্দ কতটা বাস্তব ফল বয়ে আনবে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে চ্যালেঞ্জ শুধু অর্থের পরিমাণ নয়, বরং সেই অর্থ কতটা দক্ষভাবে ব্যবহার হচ্ছে। স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় তখনই কার্যকর হবে, যখন তা সেবার মানোন্নয়নে প্রতিফলিত হবে। যেমন পর্যাপ্ত চিকিৎসক, ওষুধ সরবরাহ এবং উন্নত সেবা নিশ্চিত করতে হবে। একইভাবে, শিক্ষা খাতে ব্যয় তখনই ফলপ্রসূ হবে, যখন তা শিক্ষার মান এবং কর্মসংস্থানের উপযোগিতা বাড়াবে।

সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমও কার্যকর হবে, যখন সহায়তা সঠিক সময়ে সঠিক মানুষের কাছে পৌঁছে যাবে। প্রবৃদ্ধি অর্জন নিয়েও একটি বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। সরকার একদিকে প্রবৃদ্ধি বাড়াতে চায়, অন্যদিকে মূল্যস্ফীতি কমাতেও চায়। কিন্তু বর্তমান অর্থনৈতিক দুর্বলতার বড় একটি অংশ সরবরাহজনিত, যেমন—জ্বালানি সংকট, ঋণ প্রাপ্তির জটিলতা, আমদানি সীমাবদ্ধতা এবং কাঠামোগত দুর্বলতা। এই পরিস্থিতিতে, কেবল সরকারি ব্যয় বৃদ্ধি কাঙ্ক্ষিত প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে যথেষ্ট নাও হতে পারে, যদি না উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য এসব বাধা দূর করা যায়।

আরও পড়ুন: টেকনাফে মানবপাচারকারীদের আস্তানা গুঁড়িয়ে দিল যৌথ বাহিনী

পরিশেষে, নাগরিকরা বাজেটকে ব্যয়ের অঙ্ক দিয়ে নয়, বরং এর ফলাফলের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করবে। হাসপাতালের সেবা, শিক্ষার মান, সামাজিক সহায়তার কার্যকারিতা এবং অর্থনৈতিক সুযোগ বৃদ্ধি—এসব ক্ষেত্রে বাজেটের প্রকৃত সাফল্য নির্ধারিত হবে। ব্যয়ের পরিকল্পনা সরকারের অগ্রাধিকার তুলে ধরে, কিন্তু চূড়ান্ত পরীক্ষা হলো—এই বরাদ্দ বাস্তবে মানুষের জীবনে কতটা পরিবর্তন আনতে পারে।

লেখক : বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

লাল কার্ডের খড়্গে মাঠের বাইরে সিথোলে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শুক্রবার, ১২ই জুন, ২০২৬ ইং

০৩:১০ এম


লাল কার্ডের খড়্গে মাঠের বাইরে সিথোলে

মেক্সিকোর বিরুদ্ধে প্রথমার্ধে সফেফেলো সিধোলের ভুলের পরিণাম ভোগ করতে হয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকার। দ্বিতীয়ার্ধে তিনি অপর একটি বড় ভুল করেন। ডিবক্সের সীমানায় ফাউল করে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে তিনি লাল কার্ড পেয়েছেন।

সুতরাং, মিডফিল্ডার সিধোলের দুর nightmare রাতে তার দল ১০ জনে নেমে এসেছে। স্বাগতিক মেক্সিকো ২-০ গোলে এগিয়ে রয়েছে। তবে সিধোলের ভুলের কারণে তাদের উপর চাপ আরও বেড়ে গেল।

বিরতির পর একটি বল ধরে গোলের দিকে একাই এগোচ্ছিলেন মেক্সিকোর ব্রিয়ান গুতিয়েরেস। ঠিক সেই মুহূর্তে তাকে ফাউল করেন সিধোলে। ঘটনার স্থান পেনাল্টি এলাকার খুব কাছে হলেও রেফারি জানিয়েছেন, ফাউলটি বক্সের বাইরে ঘটেছে।

তবে গুতিয়েরেসকে নিশ্চিত গোলের সুযোগ থেকে বাধা দেওয়ায় সিধোলে সরাসরি লাল কার্ড দেখেছেন। এর ফলে দক্ষিণ আফ্রিকাকে বাকি সময়ে ১০ জনের দল নিয়ে খেলা চালিয়ে যেতে হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে ২-০ গোলের জয় তুলে নিল মেক্সিকো

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শুক্রবার, ১২ই জুন, ২০২৬ ইং

০৩:১৬ এম


উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে ২-০ গোলের জয় তুলে নিল মেক্সিকো

এই প্রথম উদ্বোধনী ম্যাচ জিতে বিশ্বকাপ শুরু করেছে মেক্সিকো।

শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬ তারিখে, মেক্সিকো সিটিতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ৩ লাল কার্ডের ঘটনা ঘটে।

মেক্সিকো দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ২–০ গোলে জয়লাভ করেছে। ৯ মিনিটে স্বাগতিক দলের হুলিয়ান কিনিয়োনেসের গোলে তারা প্রথমে এগিয়ে যায়। পরবর্তীতে ৬৭ মিনিটে রাউল হিমিনেজ ব্যবধান দ্বিগুণ করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বড় বাধা এখন অর্থায়ন নিশ্চিত করা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ১২ই জুন, ২০২৬ ইং

০৩:২৫ এম


বড় বাধা এখন অর্থায়ন নিশ্চিত করা

 

জাতীয় বাজেট একেবারেই কেবল আয়-ব্যয়ের একটি হিসাব নয়; বরং এটি সরকারের অর্থনৈতিক দর্শন, রাজনৈতিক অগ্রাধিকার এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনার একটি প্রতিফলন। নির্বাচনের পর প্রথম বাজেটে সাধারণত বিশেষ গুরুত্ব থাকে, কারণ এর মধ্যে নতুন সরকার তাদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নের একটি রূপরেখা তুলে ধরে।

আমদানি-রপ্তানির পরবর্তী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেটও সেই অর্থে একটি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বার্তা বহন করছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই উচ্চাভিলাষী বাজেটের অর্থায়ন কতটা বাস্তবসম্মত?

বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের চলতি অর্থবছরের বাজেট ছিল সাত লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা। আর সেই তুলনায় নতুন বাজেটের আকার প্রায় ১৯ শতাংশ বেশি। বাংলাদেশের বাজেট ইতিহাসে এটি একটি উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি।

সাধারণভাবে বাজেটের আকার ১০ থেকে ১৫ শতাংশের মধ্যে বৃদ্ধি পায়। এ কারণে স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠছে, ব্যয় বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ আয়ের উৎস কি সরকার নিশ্চিত করতে পারবে?

এই বাজেটের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ নিঃসন্দেহে অর্থের সংস্থান। আগামী অর্থবছরে সরকারের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হচ্ছে ছয় লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ২৩ শতাংশ বেশি। বাস্তবতা হলো, চলতি অর্থবছরে রাজস্ব আদায় পাঁচ লাখ কোটি টাকাও অতিক্রম করবে না বলে অর্থ বিভাগের কর্মকর্তাদের ধারণা।

অর্থাৎ প্রকৃত আদায় এবং আগামী বছরের লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে ব্যবধান প্রায় দুই লাখ কোটি টাকা।

এছাড়া উদ্বেগের বিষয় হলো, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে আগামী অর্থবছরে ছয় লাখ চার হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রকৃত আদায় ছিল মাত্র তিন লাখ ৬১ হাজার কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসেই সংস্থাটির রাজস্ব ঘাটতি প্রায় এক লাখ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। ফলে এই বাস্তবতায় রাজস্ব আদায়ে প্রায় দ্বিগুণ প্রবৃদ্ধির প্রত্যাশা অত্যন্ত উচ্চাভিলাষী বলেই মনে হচ্ছে।

সমস্যা শুধু রাজস্ব বিষয়েই নয়, বাজেটের ব্যয় কাঠামোও ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত হচ্ছে। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে ‘‘ফ্যামিলি কার্ড’’ কর্মসূচির আওতায় ৪১ লাখ নারীপ্রধান পরিবারকে মাসিক ভাতা দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কৃষক সহায়তা কর্মসূচি সম্প্রসারণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে। সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ বাড়িয়ে এক লাখ ৪৫ হাজার কোটি টাকা করা হচ্ছে। শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য খাতেও উল্লেখযোগ্য বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হয়েছে।

সামাজিক সুরক্ষা সম্প্রসারণ অবশ্যই একটা ইতিবাচক উদ্যোগ। কিন্তু এর সঙ্গে অর্থনৈতিক সক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখা সমান গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা বলছে, বরাদ্দ বৃদ্ধি সব সময় উন্নত সেবা নিশ্চিত করে না। শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য খাতের বরাদ্দের তুলনায় বাস্তবায়নের সক্ষমতা দীর্ঘদিন ধরেই সীমিত। প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি এবং প্রশাসনিক দুর্বলতা নতুন বরাদ্দের কার্যকারিতাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে।

একই সময়ে সরকারকে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও সারের ভর্তুকির চাপও বহন করতে হবে। কৃচ্ছ্রসাধন নীতি থেকে ধীরে ধীরে বেরিয়ে আসার রাজনৈতিক এবং সামাজিক চাপ রয়েছে। ফলে একদিকে ভর্তুকি ব্যয়, অন্যদিকে উন্নয়ন ব্যয়, দুই দিক থেকেই সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনায় চাপ বাড়বে।

অর্থায়নের ঘাটতি পূরণে সরকার দেশি এবং বৈদেশিক ঋণের ওপর নির্ভরশীল হতে পারে। কিন্তু এখানে সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ব্যাংক খাত থেকে অতিরিক্ত ঋণ নিলে বেসরকারি বিনিয়োগের জন্য ঋণের প্রাপ্যতা কমে যেতে পারে। অন্যদিকে বৈদেশিক ঋণ এবং সহায়তা পাওয়ার ক্ষেত্রেও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের দুর্বলতা বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বর্তমানে দেশে মূল্যস্ফীতি এখনো স্বস্তিদায়ক পর্যায়ে নামেনি। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি অনুসরণ করছে। কিন্তু একই সময়ে যদি সরকার সম্প্রসারণমূলক রাজস্বনীতি গ্রহণ করে, তাহলে নীতিগত সমন্বয়ের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। এর ফলে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টা দুর্বল হয়ে পড়বে।

বাজেটের সাফল্য কখনোই তার আকার দিয়ে বিচার করা যায় না। বরং আয় এবং ব্যয়ের মধ্যে বাস্তবসম্মত ভারসাম্য, প্রকল্প বাস্তবায়নের দক্ষতা এবং রাজস্ব আহরণের সক্ষমতাই একটি বাজেটের কার্যকারিতা নির্ধারণ করে। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণের রাজনৈতিক প্রয়োজনীয়তা আছে, কিন্তু অর্থনৈতিক বাস্তবতাকেও উপেক্ষা করা যায় না।

নতুন বাজেট নিঃসন্দেহে উচ্চাভিলাষী। এতে সামাজিক সুরক্ষা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের ইতিবাচক লক্ষ্য রয়েছে। কিন্তু এসব লক্ষ্য অর্জনের পূর্বশর্ত হলো টেকসই অর্থায়ন। রাজস্ব সংগ্রহে মৌলিক সংস্কার, ব্যয়ের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে জবাবদিহি নিশ্চিত না করা গেলে এই বৃহৎ বাজেট অর্থনীতির জন্য প্রত্যাশিত সুফলের পরিবর্তে নতুন চাপ সৃষ্টি করতে পারে। ফলে আগামী অর্থবছরে সরকারের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হবে বাজেট ঘোষণা নয়, বরং এর অর্থায়ন এবং বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা। এছাড়া বাজেট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সুশাসন এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার প্রশ্নটিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অতীতে দেখা গেছে, বরাদ্দের অভাবে নয়, বরং দুর্বল পরিকল্পনা, ক্রয়প্রক্রিয়ার জটিলতা এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্বের কারণে অনেক উন্নয়ন কর্মসূচি প্রত্যাশিত ফল দিতে পারেনি। ফলে আগামী বাজেটে অর্থায়নের পাশাপাশি ব্যয়ের গুণগত মান নিশ্চিত করাও সরকারের অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হবে।

লেখক: অর্থনীতি বিশ্লেষক

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শাকিরার গানে উচ্ছ্বাসে ভাসলেন ফুটবলভক্তরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শুক্রবার, ১২ই জুন, ২০২৬ ইং

০৩:২৯ এম


শাকিরার গানে উচ্ছ্বাসে ভাসলেন ফুটবলভক্তরা

মেক্সিকোর ঐতিহাসিক অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে পর্দা উঠলো ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের। এই বছরের দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ-ফুটবল বিশ্বকাপের ২৩তম আসর নানা কারণে মনে রাখার মতো। এবার এই বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করছে প্রথম ৪৮টি দল। তিনটি দেশ হচ্ছে আয়োজক এবং মোট ১০৪টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।

ফুটবল বিশ্বকাপের পোস্টার গার্ল হিসেবে পরিচিত শাকিরা ফুটবল মহাযজ্ঞের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গান পরিবেশন করে অনুষ্ঠানে এক জমকালো রূপ দেন। অনুষ্ঠানের শুরুটা হয় মেক্সিকান পপ-ব্যান্ড মানাকে দিয়ে, যা দর্শকদের কাছে দারুণ সাড়া পায়। এই ব্যান্ডটি ১৯৮১ সালে গঠিত হয় এবং তাদের দুর্দান্ত পরিবেশনা মনোযোগ আকর্ষণ করে।

এরপর মঞ্চে আসেন ভেনেজুয়েলার গায়ক ও গীতিকার ড্যানি ওশান। তবে মনে রাখতে হবে, তিনি হলিউড তারকা জর্জ ক্লুনির ‘ওশান’ নন। তিনি ২০০৯ সালে নিজের ইউটিউব চ্যানেল চালু করার মাধ্যমে পেশাদার সংগীতজীবন শুরু করেন এবং অনেকের কাছে তিনি যেন ভেনেজুয়েলার জাস্টিন বিবার।

ঐতিহ্যবাহী মেক্সিকান পোশাকে সজ্জিত নৃত্যশিল্পীদের সঙ্গে ড্যানি গাইলেন ‘পার্তিদাজো’ গান। ফলে বিভিন্ন প্রজন্মের দর্শকরা উপভোগ করতে সক্ষম হন। এরপর মঞ্চে আসেন জে বালভিন, যিনি কার্ডি বি–র জনপ্রিয় গান ‘আই লাইক ইট’-এ অংশ নিয়েছিলেন। গানটিতে নাইজেরিয়ার শিল্পী বার্না বয়ও ছিলেন।

অনুষ্ঠানে এত এত পরিবেশনার পরও একটা খামতি ছিল। সবাই অপেক্ষায় ছিলেন, কখন মঞ্চে উঠবেন শাকিরা।

অবশেষে এল সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। কলম্বিয়ান পপ তারকা শাকিরা হাজির হলেন এবং গাইলেন বিশ্বকাপের অফিসিয়াল থিম সং 'লেটস গো'। শাকিরার সাথে একই সুরে গলা মেলালো পুরো আজতেকা স্টেডিয়াম। আলোকসজ্জা, আতশবাজি এবং হাজারো দর্শকের উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে ওঠে আজতেকা স্টেডিয়াম, যা মুহূর্তেই পরিণত হয় একটি বিশাল উৎসবমঞ্চে।

শাকিরার প্রাণবন্ত নৃত্য ও কণ্ঠে মুগ্ধ হয়ে ওঠেন উপস্থিত দর্শকরা। মাঠের মাঝখান থেকে বিশাল এক ট্রফির প্রতিরূপ উঠে আসে, যেখানে ঐতিহ্যবাহী পোশাকে সজ্জিত শত শত নৃত্যশিল্পী মেক্সিকোর সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য তুলে ধরেন রঙিন পরিবেশনায়।

শাকিরার গানের পরই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয় এবং পরে উদ্বোধনী ম্যাচে মাঠে নামে স্বাগতিক মেক্সিকো-দক্ষিণ আফ্রিকা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৭শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫১
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪০
মাগরিব ০৫:১৬
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৮ সূর্যাস্ত : ০৫:১৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%