০৬:২২ পি.এম
কুমিল্লা নগরীর নোয়াপাড়া এলাকায় ঐতিহ্যবাহী পলো দিয়ে মাছ ধরা উৎসব অনুষ্ঠিত হলো। শনিবার (১৩ জুন) স্থানীয়দের উদ্যোগে আয়োজিত এই ব্যতিক্রমধর্মী উৎসবে মোট ২২০ জন মৎস্যশিকারী অংশ নিয়েছিলেন। উৎসবকে কেন্দ্র করে এলাকাজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছিল।
দুপুরে শুরু হওয়া এই আয়োজনে অংশগ্রহণকারীরা পলো নিয়ে পুকুরে নেমে মাছ ধরতে যান। মাছ ধরার পাশাপাশি উৎসব দেখতে অনেক দর্শনার্থী ভিড় করেন। বিভিন্ন বয়সী মানুষ, বিশেষ করে শিশুরা, গ্রামীণ বাংলার ঐতিহ্যবাহী এই মাছ ধরার পদ্ধতি কাছে থেকে দেখে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।
মৎস্যশিকারী নজির আহমেদ জানিয়েছেন, কুমিল্লায় পলো দিয়ে মাছ ধরার পাঁচটি দল সক্রিয় রয়েছে। তারা বিভিন্ন এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে মাছ শিকারে জড়িত। তিনি আরো উল্লেখ করেন, আজ এখানে ২২০ জন মাছ শিকারি অংশ নিয়েছেন। জনপ্রতি টিকিটের মূল্য ছিল ১ হাজার ৫০০ টাকা। আমি প্রায় ১০ কেজি মাছ ধরতে সক্ষম হয়েছি।
আরও পড়ুন: শেরপুরে জমিজমা বিরোধে ভাতিজাদের হামলায় চাচা নিহত, অভিযুক্তের বাড়িতে আগুন
স্থানীয় বাসিন্দা মো. বাশার বলেন, এখানে আনন্দটাই মাছ ধরার চেয়ে বেশি। আমরা মাছে-ভাতে বাঙালি। নতুন প্রজন্মকে আমাদের গ্রামীণ ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত করার জন্য এ ধরনের আয়োজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এ একসময় বাংলার গ্রামাঞ্চলে পলো দিয়ে মাছ ধরা ছিল একটি জনপ্রিয় লোকজ ঐতিহ্য। বর্ষা মৌসুমে গ্রামের মানুষ দলবদ্ধভাবে খাল-বিল, জলাভূমি ও ডোবা-নালায় পলো নিয়ে মাছ ধরতে বের হত। এটি শুধুমাত্র জীবিকার অংশই ছিল না, বরং সামাজিক সম্প্রীতি, পারস্পরিক সহযোগিতা ও গ্রামীণ বিনোদনেরও উল্লেখযোগ্য অনুষঙ্গ ছিল। আধুনিক সময়ে এ ঐতিহ্যের অনেকটাই বিলুপ্তির পথে চলে গেছে। এজন্য এমন আয়োজন পুরোনো সংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের মত।
উৎসবটির আয়োজন করেন কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের ২১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর কাজী মাহবুবুর রহমান। তিনি বলেন, গ্রামীণ ঐতিহ্য ও লোকজ সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখার উদ্দেশ্যেই এ আয়োজন। বর্তমান প্রজন্মকে আমাদের শেকড়ের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে চাই। ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত থাকবে।
স্থানীয়দের মতে, পলো দিয়ে মাছ ধরা উৎসব কেবল বিনোদনের আয়োজন নয়, বরং হারিয়ে যেতে বসা বাংলার লোকজ সংস্কৃতিকে সংরক্ষণের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দাঁড়িয়ে রয়েছে। এ ধরনের আয়োজন নিয়মিত হলে নতুন প্রজন্ম নিজেদের ঐতিহ্য সম্পর্কে আরও সচেতন হবে এবং গ্রামীণ সংস্কৃতির ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে।
আরও পড়ুন: গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের নতুন কমিশনার মো. আশিক সাঈদ দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন