০৯:৩১ পি.এম
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রাক্কালে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। তার কাজের প্রতি জনসমর্থন বা ‘অ্যাপ্রুভাল রেটিং’ বর্তমানে রেকর্ড সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে।
সোমবার (২ নভেম্বর) প্রকাশিত রয়টার্সের একটি জরিপে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
জরিপের ফলাফল অনুযায়ী, মাত্র ৩২ শতাংশ মার্কিন নাগরিক ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট হিসেবে কর্মকাণ্ডের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। একই সঙ্গে রিপাবলিকান পার্টির প্রতি ভোটারদের অসন্তোষও প্রকাশ পেয়েছে। ডেমোক্রেটিক ও রিপাবলিকান প্রার্থীদের মধ্যে কাকে ভোট দেওয়ার বিষয়ে ৪৬ শতাংশ উত্তরদাতা ডেমোক্রেটদের পক্ষে মত দিয়েছেন, অপরদিকে রিপাবলিকানদের সমর্থন ৩৮ শতাংশ।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশি পর্যটকদের আগমনে কলকাতার হাসপাতাল ও পর্যটন ব্যবসায় ধস
মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের নাম ব্যালটে না থাকলেও, নির্বাচনি প্রচারে তিনি সমর্থকদের উদ্দেশ্যে নিজের কথা মনে করিয়ে দিয়ে রিপাবলিকান প্রার্থীদের ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ যদি রিপাবলিকানদের হাতছাড়া হয়, তাহলে ডেমোক্রেটরা তাকে তৃতীয়বারের মতো অভিশংসনের উদ্যোগ নিতে পারে।
বিভিন্ন জরিপের ফলাফল অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের মধ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা ধারাবাহিকভাবে কমতে শুরু করেছে। ওই সংঘাতের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রল ও ডিজেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে মুদ্রাস্ফীতি ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে রিপাবলিকান দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা বজায় রাখার লক্ষ্য নিয়ে ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের জন্য ট্রাম্প টানা এক মাস জোরালো প্রচার চালিয়েছেন। সোমবার বিকালে ওয়াশিংটন ডিসির ঐতিহাসিক ‘লিংকন মেমোরিয়াল রিফ্লেক্টিং পুল’-এ আয়োজিত সমাবেশের মাধ্যমে তার নির্বাচনি প্রচার শেষ হয়।
রাজধানীর সৌন্দর্যবর্ধন ও পুনর্নির্মাণ প্রকল্পের অংশ হিসেবে এই স্থানের সংস্কারে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছিলেন ট্রাম্প। তবে নির্ধারিত সময়ের কয়েক মাস পর প্রকল্পটির কাজ সম্পন্ন হয়। এ ছাড়া সংস্কারে ব্যয় হয়েছে মূল বাজেটের ১০ গুণেরও বেশি।
আরও পড়ুন: ভারত বাংলাদেশে শ্রমিক বিক্ষোভের পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে
শেষ মুহূর্তের প্রচারেও নির্বাচনে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়ার বিষয়ে ট্রাম্প পুরোপুরি আশাবাদী হতে পারেননি। সোমবার তিনি পরোক্ষভাবে স্বীকার করেন, তার দলের জন্য এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রত্যাশিত ফল পাওয়া কঠিন হতে পারে। তবে তিনি এ ধরনের পরিস্থিতিকে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক রীতি হিসেবে উল্লেখ করেন।
ট্রাম্প বলেন, ‘কোনো এক অজানা কারণে ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট সাধারণত মধ্যবর্তী নির্বাচনে জয়ী হতে পারেন না। তবে আমরা জয়ের জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করেছি।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন