০৫:২২ পি.এম
টানা তিন দিনের বর্ষণে সুনামগঞ্জ জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে গেছে।
টানা তিন দিনের বর্ষণে সুনামগঞ্জ জেলার নিম্নাঞ্চল ব্যাপকভাবে প্লাবিত হয়েছে। সুনামগঞ্জ শহরের পাশ দিয়ে বয়ে চলা সুরমা নদীর পানি এখন পৌর শহরের ষোলঘর পয়েন্টে প্রবেশ করছে। সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের এক কর্মকর্তা বাসস’কে জানান, আগামী দুইদিন ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করে স্বল্পমেয়াদী বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার লক্ষণশ্রী ও মোল্লাপাড়া ইউনিয়নের নিচু এলাকায় ইসলামপুর ও দরিয়াবাজ এলাকায় সরেজমিনে দেখা গেছে, সুনামগঞ্জ-সিলেট মহাসড়কের সঙ্গে ওই এলাকার যোগাযোগ বর্তমানে বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
আরও পড়ুন: বেরোবিতে যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস ২০২৬ পালিত
এছাড়া, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার মোল্লাপাড়া, কোরবাননগর ও লক্ষণশ্রী, গৌরারং ইউনিয়নের বহু গ্রামীণ সড়ক ডুবে গেছে। টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে সীমান্তবর্তী উপজেলা বিশ্বম্ভরপুর ও তাহিরপুরের নিম্নাঞ্চলের অনেক সড়কও প্লাবিত হয়েছে।
তাহিরপুর-সুনামগঞ্জ সড়কের শক্তিয়ার খলা পয়েন্টে ১শ’ ফুট ও আনোয়ারপুর সড়কের ৫০ ফুট ডুবন্ত সড়কে ২ ফুট সমান পানি জমেছে। এসব স্থানে ভাঙনের ফলে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
তাহিরপুর উপজেলার ৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা যেতে পারছে না। সীমান্ত নদী যাদুকাটা, বৌলাই, মাহারাম এবং রক্তি পাটলাই নদী দিয়ে পাহাড়ি ঢল নামছে। নদীর পাড়ের নিম্নাঞ্চলের ৫০টিরও বেশি গ্রাম বর্তমানে প্লাবিত হয়েছে।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইমদাদুল হক জানিয়েছেন, গেল ২৪ ঘণ্টায় সুরমা-কুশিয়ারা নদীর পানির স্তর বৃদ্ধি পেয়েছে।
আরও পড়ুন: নরসিংদীতে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপন আলোচনা সভা, পুরস্কার বিতরণী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত
আর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান বাসস’কে জানান, জেলার বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। কিছু কিছু এলাকায় পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং ইতোমধ্যে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে দুর্যোগ মোকাবেলার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের কার্যালয়ে ত্রাণ মজুত রয়েছে। প্রতিটি উপজেলায় আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত, স্বেচ্ছাসেবক টিম গঠন করা হয়েছে, মেডিকেল টিম তৈরি হচ্ছে, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট সংরক্ষণ করা হয়েছে এবং নৌযান প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সকল দপ্তর সতর্কাবস্থায় রয়েছে এবং যেকোনো স্থান দুর্যোগে আক্রান্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আরও পড়ুন: ঝিরি থেকে পাথর তুলে উন্নয়ন প্রকল্পে যাচ্ছে
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন