০২:২৫ পি.এম
তিন মেয়েকে কষ্ট করে বিয়ে দিয়েছেন। একমাত্র ছেলেকে কোলে-পিঠে করে মানুষ করেছেন এই আশায় যে, বার্ধক্যে সেই ছেলেই হবে তাদের ভরসা। কিন্তু সেই আশাই এখন বৃদ্ধ দম্পতির কাছে পরিণত হয়েছে দুঃস্বপ্নে। একমাত্র ছেলের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ এনে অবশেষে মুখ খুলেছেন মাদারীপুরের এক বৃদ্ধ দম্পতি।
মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার শিকারমঙ্গল ইউনিয়নের উত্তর শিকারমঙ্গল সরদার বাড়ির বাসিন্দা আব্দুল করিম সরদার ও তার স্ত্রী রাজিয়া বেগম অভিযোগ করেন, তাদের ছেলে মামুন সরদার প্রায়ই তাদের মারধর করেন এবং বিভিন্নভাবে মানসিক নির্যাতন চালান। দীর্ঘ ৪৬ বছরের সংসারজীবনের শেষ সময়ে এসে তারা এখন চরম অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন বলে দাবি করেন।
আব্দুল করিম সরদার বলেন, তার ছেলে মাঝেমধ্যেই তার ওপর শারীরিক নির্যাতন চালান। একপর্যায়ে মারধরে তার একটি হাত ভেঙে যায় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তার ভাষ্য, সংসার পরিচালনার জন্য ছেলে কখনো কোনো আর্থিক সহযোগিতা করেননি। বাধ্য হয়ে নিজের জমি বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতে হয়েছে। সেই জমি বিক্রিকে কেন্দ্র করেও তাকে নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
আরও পড়ুন: নারায়ণগঞ্জ মহানগর এনসিপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক হলেন সাবেক এমপিকন্যা শাহীনা ইসলাম মুক্তি
রাজিয়া বেগম অভিযোগ করেন, ছেলের সঙ্গে কোনো বিষয়ে কথা বলতে গেলেই তিনি অপমান ও নির্যাতনের মুখে পড়েন। এমন ঘটনা প্রায়ই ঘটছে বলে তার দাবি। তিনি আরও বলেন, তাদের পক্ষে কেউ কথা বলতে চাইলে তাকেও খারাপ ব্যবহার ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়।
আব্দুল করিম সরদার আরও অভিযোগ করেন, ৫ আগস্টের পর কথিত যুবদলের ব্যানার ব্যবহার করে তার ছেলে চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িয়েছেন। তবে এ বিষয়ে তিনি সুনির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কথা বলতে অনেকেই অনিচ্ছুক। তাদের আশঙ্কা, প্রতিবাদ করলে অপ্রীতিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হতে পারে।
তবে নিজের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মামুন সরদার। তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে প্রচারিত অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
আরও পড়ুন: কুমিল্লায় বিএনপির দুই গ্রুপের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি, এমপির গাড়িবহরে হামলা
এ বিষয়ে স্থানীয়দের দাবি, বৃদ্ধ বাবা-মায়ের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ অত্যন্ত স্পর্শকাতর। তাই ঘটনাটির নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন