০৩:৪৬ পি.এম
চিকিৎসক অধ্যাপক আসাদুর রহমানের ওপর হামলার ঘটনায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের ওয়ারী বিভাগ আরো দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে। রবিবার (২৩ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন- সানি সাহা (৩৮) ও ফাতিন ইসরাক লাবিব (২০)। ডিবি জানায় যে, শনিবার রাতে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর শনির আখড়া ও খিলক্ষেতের নিকুঞ্জ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। অধ্যাপক আসাদুর রহমানের ওপর হামলা চাঁদাবাজির উদ্দেশ্যে করা হয়েছিল বলে জানা গেছে।
ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, গত ১৭ আগস্ট রাত সাড়ে ১০টার দিকে রাজধানীর পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগী দেখা শেষে বাসায় ফেরার সময় অধ্যাপক আসাদুর রহমানের ওপর হামলা হয়।
আরও পড়ুন: দেশে ফিরে বিচারের মুখোমুখি হোন, প্রয়োজনে টিকিট দেব: শেখ হাসিনাকে তথ্য প্রতিমন্ত্রী
রাতে পৌনে ১১টার দিকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠার সময় জীবন ওরফে আদিলসহ কয়েকজন তার পথরোধ করেন। ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাওয়ার পর তাকে সিএনজি থেকে টেনে নামিয়ে মারধর শুরু করা হয়।
এক পর্যায়ে জীবন ওরফে আদিল তার ডান চোখে আঘাত করে এবং অন্যরা তার মাথা, দুই চোখের ওপর ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে।
হামলার সময় তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে হুমকিও দেওয়া হয়। পরে স্থানীয় লোকজন পুলিশকে খবর দিলে পল্টন মডেল থানার পুলিশ এসে জীবন ওরফে আদিলকে আটক করে। কিন্তু বাকিরা পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় অধ্যাপক আসাদুর রহমান বাদী হয়ে জীবন ওরফে আদিলসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে পল্টন মডেল থানায় মামলা করেন। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ঘটনার কয়েক দিন আগে একটি অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন করে তার কাছে ১৫ হাজার মার্কিন ডলার চাঁদা দাবি করা হয়েছিল।
আরও পড়ুন: সৌদি আরবে নিহত সাবেক বিজিবি সদস্য খোরশেদ আলমের দাফন সম্পন্ন
মামলার তদন্তে হামলার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে গোয়েন্দা নজরদারি শুরু করে ডিবি। এর ধারাবাহিকতায় শনিবার রাত ১২টা ২০ মিনিটে যাত্রাবাড়ীর শনির আখড়ার গোয়ালপাড়া-কদমতলী এলাকায় অভিযান চালিয়ে সানি সাহাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এটাও জানানো হয়েছে যে, রাতে আড়াইটার দিকে খিলক্ষেতের নিকুঞ্জ-২ এলাকায় অভিযান চালিয়ে ফাতিন ইসরাক লাবিবকেও গ্রেপ্তার করা হয়।
ডিবিপ্রধান শফিকুল ইসলাম বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে সানি সাহা জানিয়েছেন, ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে, সিঙ্গাপুরের একটি ইন্টেরিয়র ডিজাইন প্রতিষ্ঠানে প্রজেক্ট ম্যানেজার হিসেবে কাজ করার সময় জান্নাত আলমগীর হোসেন নামের একজনের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। সেই ব্যক্তি পরে তাকে মানি লন্ডারিংয়ের মাধ্যমে অর্থ উপার্জনের প্রস্তাব দেন। একাধিকবার ওই ব্যবসায় পাঁচ কোটি টাকা বিনিয়োগ করে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত হন বলে জানিয়েছেন ডিবিকে।
ডিবির ভাষ্য মতে, ২০২৪ সালের আগস্টে দেশে ফেরার পর ভাটারা থানার এলাকায় জান্নাত আলমগীর হোসেনের সঙ্গে সানি সাহার দেখা হয় এবং তখন সমাজের উচ্চবিত্ত ব্যক্তিদের বাসার ঠিকানা, গাড়ির নম্বর, পেশা, চলাফেরা ও আর্থিক বিষয়সহ ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহের দায়িত্ব তাকে দেওয়া হয়।
ডিবির দাবি, সব তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি অধ্যাপক এ কে এম আমিনুল হক ও অধ্যাপক আসাদুর রহমানকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে বড় অঙ্কের অর্থ আদায়ের পরিকল্পনা করা হয়। পরে অধ্যাপক আসাদুর রহমানের ওপর হামলার জন্য ফাতিন ইসরাক লাবিবকে লোক সংগ্রহের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন: নরসিংদীতে হত্যা মামলার প্রধান আসামি আবু লাল গ্রেফতার
জিজ্ঞাসাবাদে লাবিব জানিয়েছেন, ঘটনার প্রায় আড়াই মাস আগে ফুড ডেলিভারির মাধ্যমে সানি সাহার সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় তাদের সরাসরি সাক্ষাৎ হয়। এরপর অধ্যাপক আসাদুর রহমানের ওপর হামলার জন্য আবু বকর (১৮), রাতুল (১৯), ইবান (২২), জীবন (২১) ও সাব্বির (১৮)—এই পাঁচজনকে এক লাখ টাকার বিনিময়ে কাজে যুক্ত করার প্রস্তাব দেন।
ডিবি জানায়, পরে তারা অধ্যাপক আসাদুর রহমানের ওপর হামলা করার জন্য বের হন। এ ঘটনায় ইবান ও জীবন গ্রেপ্তার হয়ে বর্তমানে কারাগারে আছেন।
গ্রেপ্তার সানি সাহা ও ফাতিন ইসরাক লাবিবের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে ভাটারা থানায় পৃথক মামলা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ডিবি।
এখন আহত অধ্যাপক আসাদুর রহমান বর্তমানে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আরও পড়ুন: হাম উপসর্গে গত ২৪ ঘণ্টায় আরো চারজনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১ হাজার ৪৯ জন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন