০৩:৪৬ পি.এম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অন্যায় করে কেউ পার পাবে না, এবং ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে কেউ টিকে থাকতে পারবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল। রবিবার সকাল ১১টায় টিএসসি মিলনায়তনে ‘কালো দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় এই হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
উপাচার্য বলেন, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থান এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানসহ দেশের সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছে। অন্যায়, নিপীড়ন ও অগণতান্ত্রিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে এই বিশ্ববিদ্যালয় সবসময় সোচ্চার থেকেছে। এই দিবস পালনের উদ্দেশ্য শুধু অতীতকে স্মরণ করা নয়; বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অন্যায় ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকার শিক্ষা দেওয়া।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর কোনো অন্যায় সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া বা ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে গণতান্ত্রিক পরিবেশ বাধাগ্রস্ত করা কখনো গ্রহণযোগ্য নয়, জানিয়ে উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্য, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও মর্যাদা সমুন্নত রাখতে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।
দিনটি উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট সবাই কালো ব্যাজ ধারণ করে। পরে, ২০০৭ সালের আগস্টে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর সংঘটিত অমানবিক নির্যাতন ও নিপীড়নের স্মরণে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় উপাচার্যের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, কলা অনুষদের সাবেক ডিন ও ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. সদরুল আমিন, প্রভোস্ট স্ট্যান্ডিং কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. আমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া প্রমুখ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের একটি যাত্রীবাহী বিমানে ল্যাপটপে আগুন লাগার ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় এক যাত্রীকে বিমানবন্দরে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার আটলান্টা থেকে ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে যাওয়া আমেরিকান এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে এ ঘটনা ঘটে।
আমেরিকান এয়ারলাইনসের ফ্লাইট ২৩৯৮ অবতরণের সময় বিমানের পেছনের অংশে থাকা এক যাত্রীর ল্যাপটপ থেকে ধোঁয়া বের হতে শুরু করে। পরে সেটিতে আগুন ধরে যায়।
বিবিসির মার্কিন অংশীদার সিবিএস নিউজের হাতে আসা এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের সঙ্গে পাইলটের কথোপকথনের অডিও অনুযায়ী, পাইলট জানিয়েছেন, “বিমানের পেছনের অংশে কেবিনে আগুন লেগেছে।”
তিনি আরও জানান, “ফ্লাইট অ্যাটেন্ডেন্টরা এখন এটি নেভানোর চেষ্টা করছেন।”
পাইলটকে আরও বলতে শোনা যায়, “আমার মনে হয় ল্যাপটপের কারণে প্রায় চার থেকে পাঁচজন যাত্রী পুড়ে গেছেন।” ল্যাপটপটি বিমানের মাঝামাঝি অংশে রয়েছে।
তবে বিমানটি নিরাপদেই ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। অবতরণের পর জরুরি বিভাগের কর্মীরা নিয়ম অনুযায়ী বিমানটির কাছে পৌঁছান। একজন যাত্রীকে ঘটনাস্থলেই চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে কেবিন ক্রু। আমেরিকান এয়ারলাইনস এক বিবৃতিতে জানায়, অবতরণের সময় এক যাত্রীর ইলেকট্রনিক ডিভাইস থেকে ধোঁয়া বের হওয়ার খবর পাওয়ার পর বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করে।
এয়ারলাইনটি আরও জানায়, দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনায় কেবিন ক্রুদের পেশাদারিত্ব ও তৎপরতার জন্য তারা কৃতজ্ঞ। অবতরণের পর বিমানটি নিজস্বভাবে গেট পর্যন্ত যায়। সেখানে জরুরি বিভাগের কর্মীরা উপস্থিত হয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেন।
ঘটনায় একাধিক যাত্রী আহত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করা হলেও নিশ্চিতভাবে একজন যাত্রীকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
লিথিয়াম ব্যাটারি নিয়ে সতর্কতা। ল্যাপটপে ব্যবহৃত লিথিয়াম ব্যাটারি অতিরিক্ত গরম হয়ে আগুন বা বিস্ফোরণের কারণ হতে পারে বলে সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ)।
এফএরের মতে, ব্যাটারি ক্ষতিগ্রস্ত হলে, অতিরিক্ত গরম হলে, পানির সংস্পর্শে এলে, অতিরিক্ত চার্জ দেওয়া হলে কিংবা ভুলভাবে প্যাক করা হলে তা বিপজ্জনকভাবে উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে।
চলতি বছর রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত লিথিয়াম ব্যাটারি-সম্পর্কিত ৫৮টি নিশ্চিত বিমান চলাচল-সংক্রান্ত ঘটনা নথিভুক্ত করেছে এফএএ। এসব ঘটনায় ধোঁয়া, আগুন কিংবা অতিরিক্ত তাপের ঘটনা ঘটেছে।
গত ২০ বছরে লিথিয়াম ব্যাটারি-সম্পর্কিত বিমান দুর্ঘটনা বা জরুরি পরিস্থিতির মধ্যে ল্যাপটপের ব্যাটারি জড়িত ছিল এমন ৮৪টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।
এফএএ জানিয়েছে, লিথিয়াম ব্যাটারি-চালিত ডিভাইস, বিশেষ করে অতিরিক্ত ব্যাটারি ও পাওয়ার ব্যাংক, বিমানের কার্গো বা চেক-ইন লাগেজে না রেখে কেবিনে বহন করা ব্যাগে রাখতে হবে। এর উদ্দেশ্য হলো ব্যাটারি থেকে ধোঁয়া বা আগুনের সৃষ্টি হলে দ্রুত শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া।
পাওয়ার ব্যাংক নিয়েও বাড়ছে উদ্বেগ। বিমানযাত্রায় লিথিয়াম ব্যাটারি নিয়ে উদ্বেগ নতুন নয়। গত মে মাসে মিসর থেকে যুক্তরাজ্যগামী ইজিজেটের একটি ফ্লাইটে যাত্রীর লাগেজে থাকা পাওয়ার ব্যাংক চার্জে দেওয়ার পর বিমানটি রোমে জরুরি অবতরণ করে।
ঘটনার পর ফ্লাইটটি পরদিন নতুন করে পরিচালনা করা হয়।
যুক্তরাজ্যের সিভিল এভিয়েশন অথরিটিও জানিয়েছে, বিশ্বজুড়ে বিমানে পাওয়ার ব্যাংক থেকে গুরুতর সমস্যার ঘটনা ক্রমেই বাড়ছে। সংস্থাটি যাত্রীদের আরও সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
তাদের মতে, বহনযোগ্য চার্জার বা পাওয়ার ব্যাংকে ব্যবহৃত লিথিয়াম ব্যাটারি অতিরিক্ত উত্তপ্ত হয়ে আগুন ধরে যাওয়ার মতো গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
সাম্প্রতিক এই ঘটনার পর আবারও বিমানযাত্রীদের ল্যাপটপ, পাওয়ার ব্যাংক ও অন্যান্য লিথিয়াম ব্যাটারি-চালিত ডিভাইস বহনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলার গুরুত্ব সামনে এসেছে। সূত্র: বিবিসি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
একাডেমিক অধিকার, মানসম্মত শিক্ষা এবং আধুনিক উচ্চশিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির (ডিসিইউ) শিক্ষার্থীরা ১৩ দফা দাবি জানিয়েছেন। রবিবার দুপুরে, ঢাকা কলেজের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এসব দাবি উপস্থাপন করেছেন।
দাবি তুলে ধরে ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী নাঈম হাওলাদার বলেন, ১. সাত কলেজের সমন্বয়ে নবপ্রতিষ্ঠিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির জন্য ‘বিশ্ববিদ্যালয় উপযোগী’ শিক্ষকের ব্যবস্থা করতে হবে। একইসাথে, বিদ্যমান শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ এবং পেশাগত উন্নয়নের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।
২. ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির আওতায় ইতোমধ্যে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের একাডেমিক অধিকার এবং সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। গণস্বাক্ষরের যে ফল ইতোমধ্যে সামনে এসেছে তা প্রজ্ঞাপন আকারে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রকাশ করতে হবে।
ফল প্রকাশের পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চলমান ব্যাচগুলোর অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
৩. ডিজিটাল লার্নিং রিসোর্স, ই-জার্নাল, ই-বুক ও ডেটাবেসে সবার সমান অ্যাক্সেস দিতে হবে; ৪. বিষয়ভিত্তিক প্রয়োজন অনুযায়ী বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভাষায় পাঠদান এবং উপকরণ ব্যবহারের সুযোগ রাখতে হবে; ৫. বিজ্ঞান, প্রযুক্তি এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগের জন্য আধুনিক ল্যাব সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।
৬. বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও পর্যাপ্ত পরিবহন ব্যবস্থা চালু এবং সম্প্রসারণ করতে হবে। দ্রুত প্রত্যেকটি ক্যাম্পাসের জন্য ০২টি করে বাস বরাদ্দ করতে হবে; ৭. ঢাকার বাইরের এবং আবাসনহীন শিক্ষার্থীদের জন্য যথেষ্ট এবং নিরাপদ আবাসন ব্যবস্থা করতে হবে; ৮. গবেষণাবান্ধব পরিবেশ, অবকাঠামো এবং শিক্ষার্থী-শিক্ষকের গবেষণায় অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে; ৯. শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের গবেষণার জন্য নিয়মিত এবং যথেষ্ট গবেষণা তহবিল চালু করতে হবে; ১০. বাস্তবসম্মত একাডেমিক ক্যালেন্ডার মেনে সময়মতো ক্লাস, পরীক্ষা, ফলপ্রকাশ এবং অন্যান্য কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে।
১১. ধারাবাহিক মূল্যায়ন এবং মানোন্নয়নে কার্যকর ডুয়াল পরীক্ষা পদ্ধতি চালু করতে হবে এবং পরীক্ষার কাঠামো স্পষ্ট করতে হবে; ১২. ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকেই সাতটি ক্যাম্পাসে যুগোপযোগী এবং বিষয় সংযোজন করতে হবে; ১৩. সাতটি ক্যাম্পাসের দূরত্ব বিবেচনায় নিয়ে রাজধানীর উপযুক্ত স্থানে দ্রুত একটি টিএসসি (ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র) নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। ক্যাম্পাসের পাশাপাশি টিএসসি কেন্দ্রিক খেলাধুলা, বিতর্ক, সাংস্কৃতিক কাজ, ক্লাব এবং স্বেচ্ছাসেবাসহ নানান সহপাঠ্যক্রমিক কার্যক্রমের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সাম্প্রতিক সংঘাতটি ইরানের সামরিক এবং কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গিতে নতুন একটি বাস্তবতা সৃষ্টি করেছে। এরফলে, হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে ভবিষ্যতে আঞ্চলিক রাজনীতিতে ইরানের ভূমিকা আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
এই অবস্থানে দেশের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আক্রমিনিয়া মন্তব্য করেছেন যে, ইরানের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক যুদ্ধে একটি 'নতুন ভূরাজনৈতিক উদ্ভব' তৈরি হয়েছে।
বিশেষভাবে, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব এবং ইরানের পররাষ্ট্রনীতি ও আঞ্চলিক অবস্থানে এর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে জনসচেতনতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, বলেন তিনি।
এক প্রতিবেদনে সংবাদ মাধ্যম আলজাজিরা জানিয়েছে, সাম্প্রতিক দুটি যুদ্ধের অভিজ্ঞতায় ইরানের সামরিক নীতিতে পরিবর্তন এসেছে। আক্রমিনিয়া উল্লেখ করেন যে, দেশের কৌশল মূলত প্রতিরক্ষামূলক অবস্থান থেকে আরও সক্রিয় ও উদ্যোগী পদ্ধতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
তবে, এর অর্থ নতুন করে সংঘাত শুরু করার দিকে ইঙ্গিত করে না; বরং যেকোনো ধরনের আগ্রাসনের দ্রুত ও শক্তিশালী জবাব দেওয়ার সক্ষমতা অর্জন এবং বজায় রাখার কথা বলা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে যুদ্ধবিরতির এই সময়কে কাজে লাগিয়ে ইরানের সামরিক বাহিনী ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পুনর্গঠন করছে। পাশাপাশি নতুন সামরিক সক্ষমতা যুক্ত করা এবং সেনাসদস্যদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমও পরিচালনা করা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ