১০:০৬ পি.এম
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থী বাঁধন বিশ্বাস স্পর্শ সকল ধরনের ফি কমানো ও পোষ্য কোটা বাতিলসহ চার দফা বাস্তবায়নের দাবিতে অনশনে বসেছেন। তিনি ২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের সমাজকল্যাণ বিভাগের শিক্ষার্থী এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন প্ল্যাটফর্মের ইবি শাখার যুগ্ম সদস্য সচিব।
শনিবার (২০ জুন) দুপুর থেকে, বাঁধন বিশ্বাস প্রশাসন ভবনের সামনে অবস্থান নেন।
এ সময় তিনি দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমরণ অনশন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। পাশাপাশি তার চার দফা দাবি সংবাদিক এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরেন।
আরও পড়ুন: বিচারকের বিরুদ্ধে প্রেস ব্রিফ: ব্যারিস্টার সারোয়ারকে ২৬ নভেম্বর হাইকোর্টে তলব
বাঁধন বিশ্বাসের দাবিগুলো হল: বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রচলিত পোষ্য কোটা অনতিবিলম্বে বাতিল করতে হবে, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণকালে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অশোভন ও অসৌজন্যমূলক আচরণ বন্ধ করতে হবে, সার্টিফিকেট উত্তোলনে হয়রানির স্থায়ীভাবে নিষ্ক্রিয়তা আনা উচিত এবং শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেওয়া সকল ধরনের অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক ফি কমাতে হবে।
অনশনরত বাঁধন বিশ্বাস স্পর্শ বলেন, প্রথমে কোটা বাতিলের দাবিতে জুলাই বিপ্লবের প্রেক্ষাপট শুরু হয়েছিল। উল্লেখযোগ্য যে, দাবি আদায় না হওয়ায় পরবর্তীকালে এটি সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। এই আন্দোলনে প্রায় ১৪০০-এর অধিক ভাই-বোন শহিদ হয়েছিল এবং ২২ হাজারের বেশি ভাই-বোন আহত হয়েছিল। পরবর্তীতে আমরা দ্বিতীয় স্বাধীনতা অর্জন করি। তবে তার পরবর্তী নকিব নসরুল্লাহ (তৎকালীন ভিসি) প্রশাসন অনেক চেষ্টা করেছিল, কিন্তু শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীদের সিন্ডিকেট ভাঙতে পারেনি।
তিনি আরও যুক্ত করেন, বর্তমান প্রশাসনের কাছে পাওয়া দাবি হলো, পোষ্য কোটা অনতিবিলম্বে বাতিল করা এবং অযৌক্তিক ফি-গুলো কমানো। তাছাড়া পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ অফিসে হয়রানি করা এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে কর্মকর্তারা। তারা বাপ-মা তুলে গালিগালাজ করে। এটাও বন্ধ করতে হবে। সার্টিফিকেট উত্তোলনের সময়কার হয়রানি বন্ধ করতে হবে। এই চার দফা দাবি সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তিনি অনশন কর্মসূচি চালাবেন।
পোষ্য কোটা বাতিলের প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক শাখার কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, এখানে যেহেতু প্রজ্ঞাপন জারি করে ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, তাই এখন বাতিল করা সম্ভব নয়। তবে প্রশাসন চাইলে পরবর্তী বারে বাতিলের সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
আরও পড়ুন: সাভারে শ্রমিক আন্দোলনে উসকানি ও অর্থায়নের অভিযোগে যুবলীগ নেতা সোহেল গ্রেপ্তার
সার্টিফিকেট উত্তোলনের জটিলতা নিয়ে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) ওয়ালিউর রহমান (পিকুল) বলেন, "নতুন প্রশাসন দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন। নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে কাজ চলমান রয়েছে।"
অনশনের বিষয়টি জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহিনুজ্জামান বলেন, "শুনেছি বাঁধন একা বসে আছে। একাডেমিক বিষয়ক দাবি হচ্ছে; প্রশাসন এটি নিয়ে আলোচনা করবে।"
এছাড়া, প্রশাসন ভবনের গেটে ‘যোগ্যতার জয় হোক, পশু কোটা রোধ হোক; অযৌক্তিক ভর্তি ফি, বাতিল চাই বাতিল চাই; সার্টিফিকেট উত্তোলনে হয়রানি, বাতিল চাই-বাতিল চাই’ লেখা ছোট আকারের পোস্টার দেখা যায়।
আরও পড়ুন: মগবাজারে ক্রেনচাপায় প্রকৌশলী আরিফের মৃত্যু, পরিবারের নিরপেক্ষ তদন্ত ও ক্ষতিপূরণ দাবি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন