১০:১৪ পি.এম
পাকিস্তানের কাশ্মীরে আবারো বিক্ষোভের দাবানল জ্বলে উঠেছে। কয়েক দিন ধরে সেখানে এক অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে, যেখানে রাস্তা অবরুদ্ধ, দোকান বন্ধ, ইন্টারনেট বন্ধ—শুধু মানুষের দুশ্চিন্তা খোলা রয়েছে।
এটি বন্ধ করার জন্য এখনও কোনো সরকারি নির্দেশ দেওয়া হয়নি!
রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে যে, পাকিস্তানশাসিত কাশ্মীরে টানা বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের ফলে অন্তত ২৪ জন নিহত হয়ে গেছেন। নিহতদের মধ্যে সাধারণ মানুষ এবং পুলিশ সদস্য উভয়েরই উপস্থিতি রয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই অঞ্চলে এমন প্রাণঘাতী অস্থিরতা দেখা যায়নি।
আরও পড়ুন: মার্কিন সহায়তা বন্ধের পক্ষে এল-সায়েদ, ইসরায়েল ও পাকিস্তানের নাম উল্লেখ
এই ঘটনার সূত্রপাত হয়েছে আইনসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে। আগামী ২৭ জুলাই ৪৫ আসনের আঞ্চলিক আইনসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এর আগে ভারতশাসিত কাশ্মীর থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে পাকিস্তানে অবস্থানরত শরণার্থীদের জন্য ১২টি আসন সংরক্ষণের বিরোধিতা করে আন্দোলনে নেমেছে জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি বা জেএএসি। এই সংগঠনটি ৯ জুন ধর্মঘটের ডাক দেয়। এর ফলস্বরূপ পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তেজনায় পরিণত হয়।
সরকারি কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ৬ থেকে ১৪ জুনের মধ্যে অন্তত ২০ বেসামরিক ব্যক্তি নিহত হয়েছে। আঞ্চলিক পুলিশপ্রধান লিয়াকত আলী মালিক জানিয়েছেন, সংঘাতে চার পুলিশ সদস্য নিহত এবং ৯৭ জন আহত হয়েছেন। আটক করা হয়েছে ৫১৫ জনকে।
রাজধানী মুজাফফরাবাদ থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দক্ষিণে রাওয়ালাকোটের উপকণ্ঠে এখনও হাজার হাজার জেএএসি সমর্থক অবস্থান নিয়েছে। কর্তৃপক্ষ প্রধান সড়কগুলো বন্ধ করে রেখেছে।
ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রয়েছে। অনেক স্থানে গণমাধ্যমের প্রবেশও সীমাবদ্ধ। ফলে কাশ্মীর যেন নিজস্ব ভেতরেই আটকা পড়েছে—বাইরের সাথে যোগাযোগ নেই এবং ভিতরে মানুষের ক্ষোভ থামছে না।
আরও পড়ুন: পাকিস্তান ভেঙে ১২টি নতুন প্রদেশ গঠনের পরিকল্পনা চলছে
অচলাবস্থার প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে সাধারণ মানুষের উপরে। বড় বড় রাজনীতিকরা বড় বক্তব্য পেশ করেন, কিন্তু দিনমজুরদের সংসার চলে ছোট ছোট আয়ের মাধ্যমে। মুজাফফরাবাদের আপার আড্ডায় বাণিজ্যিক এলাকায় শ্রমিকরা কাজের সন্ধানে বসে আছেন। কাজ নেই, আয় নেই। কিছু ওষুধের দোকান এবং নিত্যপণ্যের দোকান সীমিত সময়ের জন্য খুললেও বেশিরভাগ দোকান বন্ধ রয়ছে। ব্যাংকিং সেবা ব্যাহত হচ্ছে। এটিএম অচল। সরকারী নির্দেশনায় পেট্রল পাম্পও বন্ধ রাখা হয়েছে।
স্থানীয় ট্যাক্সিচালক আসিফ নাজে মন্তব্য করেছেন, যারা সংরক্ষণ করে রেখেছেন তারা হয়তো কিছু দিন টিকে থাকতে পারবেন। তবে যারা দিন আনে দিন খায়, তাদের জন্য এই অচলাবস্থা মানে ঘরে চুলা না জ্বলা।
কাশ্মীর নিয়ে পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভারতের সমালোচনা করে আসছে। কিন্তু এবার তারা নিজ শাসিত কাশ্মীরেই বিক্ষোভ, মৃত্যু, ধরপাকড় ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার অভিযোগে চাপের সম্মুখীন হয়েছে ইসলামাবাদ।
সূত্র: রয়টার্স
আরও পড়ুন: বিচারকের বিরুদ্ধে প্রেস ব্রিফ: ব্যারিস্টার সারোয়ারকে ২৬ নভেম্বর হাইকোর্টে তলব
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন