০৫:০৭ পি.এম
নেত্রকোনার কলমাকান্দায় স্ত্রী পারভীন আক্তারকে নির্যাতন করে হত্যার দায়ে শফিকুল ইসলাম (৪২) নামের এক ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডও দেওয়া হয়েছে।
অনাদায়ে তাকে আরো ছয় মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
আরও পড়ুন: নওগাঁ পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় আইন-শৃঙ্খলা উন্নয়নে মহাদেবপুর থানার অভিযানে ২৪ ঘন্টায় ১৫ জন আসামি গ্রেপ্তার।
বুধবার (২৪ জুন) দুপুরের দিকে নেত্রকোনা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এ কে এম এমদাদুল হক রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণা করার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত শফিকুল ইসলাম আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
কিন্তু মামলার অন্য দুই আসামি, শ্বশুর তোরাব আলী ও শাশুড়ি সখিনা খাতুন, খালাস পেয়েছেন।
মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১০ বছর আগে বারহাট্টা উপজেলার রত্নপুর গ্রামের সোনা মিয়ার মেয়ে পারভীন আক্তারের সঙ্গে কলমাকান্দা উপজেলার ক্ষুদ্র সিধলী গ্রামের তোরাব আলীর ছেলে শফিকুল ইসলামের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। তাদের সংসারে দুই ছেলেসন্তান রয়েছে।
বিয়ের পর থেকেই শফিকুল ইসলাম পারভীনকে যৌতুকের দাবিতে শারীরিক এবং মানসিকভাবে নির্যাতন করতে শুরু করেন এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনার প্রায় এক মাস আগে শফিকুল ইসলাম স্ত্রীর কাছে এক লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন।
আরও পড়ুন: পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে টাঙ্গাইলে বিএনপির বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালন
টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে পারভীনকে মারধরের অভিযোগ উঠে। এরপর পারভীন বাবার বাড়িতে ফিরে যান। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যস্থতায় বিষয়টির সমাধান হলে পারভীন আবার স্বামীর বাড়িতে ফিরে আসেন।
২০১৯ সালের ২৬ এপ্রিল গভীর রাতে প্রতিবেশীর মাধ্যমে পারভীনের মৃত্যুর খবর শোনা যায় তার স্বজনদের। তারা শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে টিনের চৌচালা ঘরের বারান্দায় পারভীনের মরদেহ দেখতে পান।
এসময় মরদেহে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোনা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
এ ঘটনায় নিহতের ভাই আবু ইউসুফ কলমাকান্দা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে স্বামী শফিকুল ইসলাম, শ্বশুর তোরাব আলী ও শাশুড়ি সখিনা খাতুনসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরো ২-৩ জনকে আসামি করে মামলা করেন।
আরও পড়ুন: গোবিন্দগঞ্জ-মহিমাগঞ্জ সড়ককে প্রধান করে তিস্তামুখী ঘাটে দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণের উদ্যোগ, প্রতিমন্ত্রীর কাছে ডেমো কাগজপত্র হস্তান্তর
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া, সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং শুনানি শেষে আদালত শফিকুল ইসলামকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ প্রদান করে। রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি মো. নুরুল কবির রুবেল বলেন, 'এটি একটি চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলা। স্ত্রীকে নির্যাতন করে হত্যা করার কারণে আদালত শফিকুল ইসলামকে সর্বোচ্চ শাস্তি দিয়েছেন। এ রায়ে আমরা সন্তুষ্ট।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন