০৭:৩১ এম
মাদক চোরাচালানে এবার একটি নতুন কৌশল নিয়েছে একটি চক্র। বিশেষভাবে তৈরি করা একটি জ্যাকেটের ভিতরে একাধিক গোপন চেম্বার তৈরি করে তাতে ফেনসিডিল ভরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ঢাকায় আনা হচ্ছিল। সম্প্রতি এমন দুটি বিশেষ জ্যাকেটসহ বিপুল পরিমাণ ফেনসিডিল উদ্ধার এবং চারজন মাদক কারবারিকে গ্রেফতারের পর এই তথ্য জানিয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর (ডিএনসি)।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাজধানীর মহাখালী এলাকায় অভিযান চালায় ডিএনসির গোয়েন্দা দল। খবর ছিল, যাত্রীবাহী একটি বাসে করে বড় একটি মাদকের চালান ঢাকায় আসছে। পরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে আসা ন্যাশনাল ট্রাভেলসের একটি বাসের তল্লাশি চালিয়ে সন্দেহভাজন এক নারীসহ তিনজনকে আটক করা হয়।
দুই পুরুষের ব্যাগ থেকে ফেনসিডিল উদ্ধার হয়েছে। আর ওই নারীর কাছ থেকে পাওয়া গেছে বিশেষভাবে তৈরি একটি জ্যাকেট, যার ভেতরেও লুকানো ছিল ফেনসিডিল। তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদের পর জানা যায়, চক্রের আরও এক সদস্য আরেকটি বাসে ঢাকায় আসছে।
আরও পড়ুন: কুলিয়ারচরে পূর্ব গাইলকাটা জুনিয়র ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনালে আকাশ-নিলয় একাদশ চ্যাম্পিয়ন
এরপর দেশ ট্রাভেলসের একটি বাসে অভিযান চালিয়ে আরেক নারী সদস্যকেও আটক করা হয়। তার কাছ থেকেও একই ধরনের একটি বিশেষ জ্যাকেট এবং তাতে লুকানো ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়েছে।
উদ্ধার হওয়া জ্যাকেটগুলো কোনো সাধারণ পোশাক নয়। মাদক কারবারিরা আগে খালি গায়ে এই জ্যাকেট পরে, তার পর সাধারণ পোশাকের উপরে পরিধান করতেন। ফলে কোনওভাবেই বোঝার উপায় থাকত না যে জ্যাকেটের ভিতরে মাদক রয়েছে। জ্যাকেটের ভেতরে সারিবদ্ধভাবে গোপন চেম্বার তৈরি করে সেখানে ফেনসিডিল রাখা হচ্ছিল।
ডিএনসি জানায়, গ্রেফতার নাসিরুল এই চক্রের প্রধান। ফাহিম, জুলেখা ও নাসরিন তার সহযোগী। তারা গত তিন থেকে চার বছর ধরে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে দূরপাল্লার বাসে যাত্রী সেজে এই বিশেষ জ্যাকেট ব্যবহার করে মাদক পরিবহন করে আসছিলেন।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের ঢাকা বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. মেহেদী হাসান বলেন, এই বিশেষ জ্যাকেটগুলোর ভিতরে ১৮ থেকে ২০টি গোপন চেম্বার থাকে। প্রতিটি চেম্বারে তিন থেকে চার বোতল ফেনসিডিল লুকিয়ে রাখা সম্ভব। তারা প্রথমে এই জ্যাকেট পরে, পরে তার উপরে সাধারণ পোশাক পরিধান করে। অনেক সময় স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে বাসে ভ্রমণ করাতে তাদের সন্দেহ করা কঠিন হয়ে পড়ে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়াতে তারা মোবাইল ফোনও বন্ধ রাখত। তবে সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: পূর্বধলায় ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ সিজন-২ এর উদ্বোধন
তদন্তে জানা গেছে, চক্রটি মূলত তিনটি ভাগে কাজ করে। একটি দল ভারত থেকে ফেনসিডিল এনে চাঁপাইনবাবগঞ্জে মজুত করে। দ্বিতীয় দল প্রতি বোতল দেড় থেকে দুই হাজার টাকায় তা কিনে বিশেষ জ্যাকেটের মাধ্যমে দূরপাল্লার বাসে করে ঢাকায় নিয়ে আসে। এরপর ঢাকার আরেকটি চক্রের কাছে তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকায় বিক্রি করে।
ঢাকার চক্রটি পরে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় এই ফেনসিডিল খুচরা দামে বিক্রি করে। মো. মেহেদী হাসান বলেন, এই চক্রের তিনটি আলাদা নেটওয়ার্ক রয়েছে। একটি সীমান্ত দিয়ে ফেনসিডিল বাংলাদেশে আনে, অন্যটি সেটি ঢাকায় পৌঁছে দেয় এবং তৃতীয়টি রাজধানীতে বিক্রি করে। মূলত বেশি লাভের আশায় তারা এই ব্যবসায় জড়িত।
ডিএনসি জানিয়েছে, চক্রটির ঢাকাসহ চাঁপাইনবাবগঞ্জের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
আরও পড়ুন: পুষ্টি ও গবেষণায় সহযোগিতা বাড়াতে বাকৃবি-নিউট্রিশন ইন্টারন্যাশনালের সমঝোতা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন