ঢাকা শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

হাতের ইশারা থেকে এআই প্রযুক্তিতে যানজটমুক্ত হবে চট্টগ্রাম


হাতের ইশারা থেকে এআই প্রযুক্তিতে যানজটমুক্ত হবে চট্টগ্রাম

এখন থেকে বন্দর নগরীতে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের কাজ করতে যাচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ‘এআই’ নিয়ন্ত্রিত ট্রাফিক ব্যবস্থা। এ উদ্দেশ্যে ২১৭ কোটি ৩৩ লাখ টাকার একটি উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রস্তুত করেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নগরীর দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যাকে দূর করে সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে এই আধুনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

বর্তমানে ট্রাফিক ব্যবস্থা মূলত হাতের ইশারা এবং বাঁশির মাধ্যমেই নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে। বেশিরভাগ সড়কে কার্যকর কোনো সংকেত বাতি নেই। এর ফলে ম্যানুয়াল বা সনাতন পদ্ধতিতে কাজ করার সময় প্রায়ই দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটে থাকে। পাশাপাশি রয়েছে তীব্র যানজট ও ট্রাফিক আইন অমান্য করার অভিযোগও।

এআই ট্রাফিক ব্যবস্থা চালু হলে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন মন্তব্য করেছেন যে, চট্টগ্রামকে একটি পরিবেশবান্ধব, নিরাপদ এবং স্মার্ট নগরী হিসেবে গড়ে তোলার জন্য আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার অপরিহার্য। এই সিস্টেমটি সম্পূর্ণভাবে এআই-ভিত্তিক হওয়ায় কোনো যানবাহন ট্রাফিক আইন অমান্য করলে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করতে সক্ষম হবে। এর মাধ্যমে পুরো শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা একটি সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে চলে আসবে, যা যানজট কমিয়ে সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে পারে।

আরও পড়ুন: ঢাকায় গিয়ে ৫ দিন ধরে নিখোঁজ শিশু ইমাম, সন্ধান চেয়ে পরিবারের আকুতি

মেয়র আরও জানান, প্রকল্পটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। চূড়ান্ত অনুমোদনের আগে পুলিশ প্রশাসন, বিআরটিএসহ সংশ্লিষ্ট সব সেবা সংস্থার মতামত ও সুপারিশ এতে যুক্ত করা হবে।

প্রকল্পের তথ্য অনুযায়ী, চসিকের এই উদ্যোগের আওতায় নগরীর ৫৬টি গুরুত্বপূর্ণ ইন্টারসেকশন (মোড়) এবং ব্যস্ত ট্রাফিক জোনকে আধুনিক প্রযুক্তির আওতায় আনা হবে। এসব স্থানে স্বয়ংক্রিয় স্মার্ট সিগন্যাল ব্যবস্থা ও ট্রাফিক ফ্লো মনিটরিং স্থাপন করা হবে। এছাড়া আইন লঙ্ঘন শনাক্তকারী ক্যামেরা ও রেড সিগন্যাল ডিটেক্টরসহ স্বয়ংক্রিয় নম্বরপ্লেট শনাক্তকরণ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। একটি কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বা সেন্ট্রাল কমান্ড সেন্টারও গঠন করা হবে।

চট্টগ্রাম নগরে মোট ১৯৬টি ইন্টারসেকশন বা মোড় এবং ৩২টি ইউটার্ন রয়েছে। এর মধ্যে প্রথম দফায় ৫৩টি স্থানকে স্মার্ট ট্রাফিক সিগন্যালের মাধ্যমে নজরদারির জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে। চসিকের পরিকল্পনায় শুধু সংকেত বাতি বসানোই নয়; বরং সড়কের নেটওয়ার্ক, মোড়ের ধরন, যানজটপ্রবণ এলাকা এবং নজরদারি ক্যামেরার জন্য উপযুক্ত জায়গা নির্ধারণ করে সম্ভাব্য ব্যয়ের প্রাথমিক হিসাব তৈরি করা হয়েছে। স্মার্ট সিগন্যাল প্রকল্পের জন্য নগরীর গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, জিইসি, ২ নম্বর গেট, মুরাদপুর, বহদ্দারহাট, ওয়াসা, লালখান বাজার, টাইগারপাস, স্টেশন রোড, কদমতলী, অক্সিজেন, এ কে খান, ফৌজদারহাট, সিটি গেট, আগ্রাবাদ, বাদামতলী, বারিক বিল্ডিং, নিউমার্কেট, কাস্টম হাউস, সিইপিজেড গেট, হালিশহর বাজার, কাপ্তাই রাস্তার মাথা, কালুরঘাট, চকবাজার, আন্দরকিল্লা, জামালখান, সিআরবি, ডিসি হিল এবং কাজীর দেউড়ি মোড়।

এর আগে, চসিকের উদ্যোগে ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নয়নে ২০১০ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত ৬ বছরে প্রায় ২ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছিল। কিন্তু চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) ট্রাফিক বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় না করে প্রকল্পটি সম্পন্ন হওয়ায়, ট্রাফিক বিভাগ সেই সিগন্যাল বাতিগুলো ব্যবহার করেনি। ফলে, সমন্বয়হীনতার কারণে সেই প্রকল্পের পুরো অর্থই ক্ষতি হয়ে যায়। পরে, ২০১৭ সালে সিডিএ কর্তৃপক্ষ নগরীর মুরাদপুর থেকে পতেঙ্গা পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্প অনুমোদন করার পর, নির্মাণকাজের সুবিধার্থে নগরীর প্রধান সড়ক (এশিয়ান হাইওয়ে)-এর সব সিগন্যাল বাতি তুলে ফেলা হয়।

আরও পড়ুন: কোম্পানীগঞ্জে মাটিবাহী ট্রাকের চাপায় মাদরাসা ছাত্রের মৃত্যু

এর পর থেকে চট্টগ্রামের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় আর কোথাও সিগন্যাল বাতি ব্যবহৃত হয়নি। তবে সংশ্লিষ্টরা আশা করেন, নতুন সমন্বিত এআই প্রকল্পটির মাধ্যমে আগের সব সমস্যা সমাধান করে নগরবাসী একটি আধুনিক ট্রাফিক ব্যবস্থা পাবেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মুন্সীগঞ্জে গ্রামীণ বাজারে আধুনিক মার্কেট ভবনের উদ্বোধন মির্জা ফখরুলের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ২০ই জুন, ২০২৬ ইং

০৫:৫২ পি.এম


মুন্সীগঞ্জে গ্রামীণ বাজারে আধুনিক মার্কেট ভবনের উদ্বোধন মির্জা ফখরুলের

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় ভবেরচর বাজারে উদ্বোধন করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর একটি নবনির্মিত আধুনিক মার্কেট ভবন।

শনিবার (২০ জুন) বেলা সাড়ে ১১টায় আনুষ্ঠানিকভাবে ভবনটি উদ্বোধন করা হয়।

‘দেশব্যাপী গ্রামীণ বাজার অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প (১ম সংশোধিত)’ এর আওতায় নির্মাণ করা হয়েছে এই দৃষ্টিনন্দন ও আধুনিক সুবিধাস্যালিত মার্কেট ভবনটি। এর জন্য এলজিইডি-এর তত্ত্বাবধানে ব্যয় হয়েছে ২ কোটি ৩৫ লাখ টাকা।

এ সময় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমরা গজারিয়াতে এসেছি স্থানীয় সংসদ সদস্যের আমন্ত্রণে। মার্কেট ভবন ও রাস্তা উদ্বোধন করার পর রসুলপুর খেয়াঘাট এলাকায় ফুলদী নদীর পাড়ে আসলাম। ইনশাআল্লাহ আমাদের সরকার এই নদীর ওপর সেতু নির্মাণ করবে। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট বিভাগের মন্ত্রী এবং চিফ ইঞ্জিনিয়ার সেই জায়গাটি পরিদর্শন করেছেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান রতন, সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর লুনা এবং ‘দেশব্যাপী গ্রামীণ বাজার অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প (১ম সংশোধিত)’ এর প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী মাহবুব আলম।

এছাড়াও স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশরাফী, পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম, গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে হাফসা নাদিয়া, এলজিইডির গজারিয়া উপজেলা প্রকৌশলী সামিউল আরেফিন এবং গজারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাসান আলীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

এলজিইডি-এর গজারিয়া উপজেলা প্রকৌশলীর দফতর সূত্রে জানা গেছে, নবনির্মিত এই বহুতল ভবনের নিচতলায় আধুনিক কাঁচাবাজার থাকবে এবং দ্বিতীয় তলায় মুদি পণ্যের দোকান থাকবে। উন্নত বিশ্বের আদলে তৈরি এই মার্কেটে ক্রেতারা একই ছাদের নিচে কাঁচাবাজার থেকে শুরু করে নিত্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের মুদি পণ্য কিনতে পারবেন। ভবেরচর বাজারের এই আধুনিক মার্কেটে গ্রামীণ নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে নারী ব্যবসায়ীদের জন্য সুনির্দিষ্ট দোকানের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পরিবেশবান্ধব সোলার প্যানেল এবং আধুনিক পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থায় উন্নত নাগরিক সুযোগ-সুবিধার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

স্থানীয় অংশীজনদের মতে, এই মার্কেটটি চালু হওয়ার ফলে এলাকার প্রান্তিক কৃষকরা কোনো মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই সরাসরি তাদের উৎপাদিত পণ্য এখানে এনে বিক্রি করতে পারবেন। এতে কৃষকরা পণ্যের ন্যায্যমূল্য পাবেন এবং সাধারণ ক্রেতারাও সাশ্রয়ী মূল্যে টাটকা কৃষিপণ্য কেনার সুযোগ পাবেন। এই মার্কেটটি অত্র অঞ্চলের গ্রামীণ অর্থনীতি ও বাজার ব্যবস্থাপনায় এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ক্রীড়াঙ্গনের কিংবদন্তি আবদুস সাদেকের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ২০ই জুন, ২০২৬ ইং

০৫:৫২ পি.এম


ক্রীড়াঙ্গনের কিংবদন্তি আবদুস সাদেকের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত

বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের কিংবদন্তি খেলোয়াড় ও সংগঠক আবদুস সাদেকের প্রথম জানাজা আজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। জানাজাটি শনিবার (২০ জুন) বাদ আসর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার আই ব্লকের বায়তুস সোবহান জামে মসজিদে সম্পন্ন হয়। মরহুম আবদুস সাদেকের দ্বিতীয় জানাজা আগামীকাল রবিবার সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর বনানী ওল্ড ডিওএইচএস মাঠে অনুষ্ঠিত হবে। আবদুস সাদেক শনিবার সকাল ৮টায় রাজধানীর কন্টিনেন্টাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তিনি দুরারোগ্য ক্যান্সারে ভুগছিলেন এবং মৃত্যুর সময় তাঁর বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। মরহুম আবদুস সাদেক স্ত্রী, দুই ছেলে এবং এক মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। প্রসঙ্গত, আবদুস সাদেকের ছোট ভাই, দেশের শীর্ষ শিল্পপ্রতিষ্ঠান বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান, আহমেদ আকবর সোবহান। এছাড়া মরহুমের বড় ছেলে, টি স্পোর্টসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ও ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব, ইশতিয়াক সাদেক। আবদুস সাদেক ছিলেন অবিভক্ত পাকিস্তান জাতীয় হকি দলের একটি তারকা খেলোয়াড়। ফুটবল এবং ক্রিকেটেও তিনি ছিলেন সমান পারদর্শী। ঢাকার ঐতিহ্যবাহী ক্লাব আবাহনী ক্রীড়াচক্রের (ঢাকা আবাহনী লিমিটেড) প্রথম ফুটবল অধিনায়ক এবং হকি অধিনায়ক ছিলেন তিনি। আবদুস সাদেক ছিলেন কেবলমাত্র একজন তারকা খেলোয়াড় নয়, বরং তিনি ছিলেন সফল কোচ এবং সংগঠকও। বঙ্গবন্ধু হত্যার পর, চরম দুঃসময়ে আবাহনীকে নতুন করে জাগিয়ে তুলতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন। বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে অসামান্য অবদান রাখার জন্য আবদুস সাদেক ১৯৯৬ সালে জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কারে ভূষিত হন। আবদুস সাদেকের বাবা, অ্যাডভোকেট আবদুস সোবহান, ব্রিটিশ আমলে ছিলেন খ্যাতনামা সাঁতারু। তাঁর ছোট ভাই, আহমেদ আকবর সোবহানও একসময় হকির তারকা খেলোয়াড় ছিলেন। পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্মের পরপরই পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকদের রোষানলে পড়ে পূর্ব পাকিস্তান। বাঙালির মেধা-মনন বিকাশের সুযোগ ছিল না বললেই চলে। ওই বৈরী পরিবেশের মধ্যেই আবদুস সাদেক পাকিস্তানের জাতীয় হকি দলে ডাক পান। ১৯৬৮ সালের অলিম্পিক দলেও ডাক পেয়েছিলেন, তবে ইনজুরির কারণে তিনি খেলা থেকে বিরত ছিলেন। পাকিস্তান জাতীয় হকি দলের হয়ে, তিনি ইউরোপ সফর করেন। ১৯৬৯ সালে দেড় মাসের ইউরোপ ট্যুরে আবদুস সাদেকরা জার্মানি, ইতালি, স্পেন, ফ্রান্স, বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ডস ও ইংল্যান্ডে খেলেছেন। ফেরার পথে, মিসরের সঙ্গেও তাঁরা একটি ম্যাচ খেলেছেন। সেই ইউরোপ ট্যুরের সময় মাঠে ক্যারিশমা প্রদর্শনের কারণে আবদুস সাদেক দ্রুত পরিচিত হয়ে উঠেন। বিশেষ করে, দলের সেরা তারকা রশিদ জুনিয়রের সাথে তাঁর ঘনিষ্ঠতা ছিল। ১৯৬৮ সালের অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন পাকিস্তান দলের সেরা তারকারা ইংরেজি জানতেন না, কিন্তু আবদুস সাদেক জানতেন। এ কারণে সবার কাছে তাঁর কদর আলাদা ছিল। শুধু আবদুস সাদেকই নন, তাঁর ছোট ভাই, আহমেদ আকবর সোবহানও হকিতে বেশ নাম কুড়িয়েছিলেন। হকিতে রাইট হাফে খেলতেন তিনি। পূর্ব পাকিস্তান যুবদলে দুই ভাই একসঙ্গে খেলেছেন। স্বাধীনতার পর, জাতীয় হকি চ্যাম্পিয়নশিপে ১৯৭৩ সালে কুমিল্লা জেলা দলের অধিনায়ক ছিলেন আবদুস সাদেক। ফাইনালে, তাঁর ছোট ভাইয়ের একমাত্র গোলেই কুমিল্লা সেবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে শক্তিশালী দল হিসেবে আবির্ভাব ঘটে আবাহনী ক্রীড়াচক্রের। ক্লাব প্রতিষ্ঠাতা শেখ কামাল নতুন দলের পরিচালনার জন্য একজন সুযোগ্য নেতা খুঁজছিলেন। তিনি বাংলাদেশের সেরা তারকাকে বেছে নেন। আবদুস সাদেক, স্বাধীনতার আগে ভিক্টোরিয়া ও দিলকুশার মতো জনপ্রিয় ক্লাবে খেলে, বেশ নাম কুড়িয়েছিলেন। শেখ কামাল ঢাকা আবাহনীর ফুটবল ও হকি দলের নেতৃত্বের ভার অধিকার করেন তাঁর কাঁধে। হকিতে আবাহনীকে হ্যাটট্রিক চ্যাম্পিয়ন করে আস্থার প্রতিদান দেন। ফুটবল ক্যারিয়ার ছেড়ে ১৯৭৭ সালে আবাহনী প্রশিক্ষকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন আবদুস সাদেক। নতুন দায়িত্ব পেয়ে তিনি ইতিহাস সৃষ্টি করেন। সেবার, আবাহনী লিগে কোনো ম্যাচেই হারেনি। তিন ম্যাচ ড্র ছাড়া, বাকি সব ম্যাচে দাপুটে জয় অর্জন করে। বাংলাদেশে প্রথম দল হিসেবে আবাহনী অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হওয়ার বিরল রেকর্ড সৃষ্টি করে। স্বাধীন বাংলাদেশে, সেবারই প্রথম কোনো দল অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। প্রশিক্ষকের দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়ার পর আবদুস সাদেক সংগঠক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। ১৯৮৩ থেকে ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত, তিনি হকি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁরই প্রচেষ্টায়, ১৯৮৫ সালে ঢাকায় এশিয়া কাপ হকি অনুষ্ঠিত হয়। অথচ, ওই বছরের আয়োজক হওয়ার কথা ছিল জাপানের। এশিয়ার হকি ফেডারেশনের বৈঠকে, সাদেকের কথায় মুগ্ধ হয়ে পাকিস্তান, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া ও ইরানের সমর্থনে বাংলাদেশ আয়োজকের দায়িত্ব পায়। বাংলাদেশের হকি বা ফুটবলে, যখনই সমস্যা দেখা গেছে, তিনি প্রথমে এগিয়ে এসেছেন। স্বাধীনতার ৫০ বছরে, বাংলাদেশে এমন ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। ২০১৭ সালে ঢাকায়, দ্বিতীয়বারের মতো এশিয়া কাপ হকির আসর অনুষ্ঠিত হয়। এখানে, আবদুস সাদেকের বড় ভূমিকা ছিল। হকির ফ্লাডলাইট, ইলেকট্রনিক স্কোর বোর্ডসহ অন্যান্য আধুনিক প্রযুক্তি এসেছে তাঁর প্রচেষ্টায়। ঢাকায় আন্তর্জাতিক হকি ফেডারেশনের সভাপতি নেগ্রে আসার পর প্রথম দেখাতে আবদুস সাদেককে চিনে নেন। তিনি বলেছিলেন, ‘সাদেক একজন কিংবদন্তি হকি খেলোয়াড়। আমার বিশ্বাস, সাদেকের হাত ধরে হকির উন্নয়ন সম্ভব হবে।’ ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর, আবাহনী ক্লাবে টিকে থাকার বিষয়টি নিয়ে সংশয় দেখা দেয়। অনেকে তখন ভয়ে ক্লাবে আসতেন না। এমনকি অনেক সংগঠক বিদেশেও চলে যান। কিন্তু এই দুঃসময়ে, শেখ কামালের হাতে গড়া আবাহনীকে টিকিয়ে রাখার গুরু দায়িত্ব গ্রহণ করেন আবদুস সাদেক। ধানমণ্ডির নিজ বাসভবনে, তিনি সবাইকে নিয়ে আবাহনীকে মাঠে নামানোর নেতৃত্ব দেন। বিপদের সময় তাঁর সাহসিকতার কারণে হয়তো মাথা উঁচু করে টিকে আছে আজকের আবাহনী। আবদুস সাদেকের অসামান্য অবদানের কথা চিন্তা করে, আবাহনী লিমিটেড তাঁকে ‘আজীবন সদস্য’ ঘোষণা করে। ক্রীড়াঙ্গনের এই জীবন্ত কিংবদন্তির জন্ম হয়েছিল ১৯৪৬ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর, একটি সম্ভ্রান্ত ক্রীড়া পরিবারে। ১৯৭৭-৭৮ মৌসুমে, হকিতে প্রথম জাতীয় দল গঠন করা হয়। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তিন টেস্টে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেন আবদুস সাদেক। সেখানে, হকি টেস্টে, বাংলাদেশ একটিতে জয়, একটিতে ড্র এবং একটিতে পরাজিত হয়। ১৯৭৮ সালে, বাংলাদেশ প্রথম এশিয়ান গেমসে অংশ নেয়। হকিতে, আবদুস সাদেকই অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

র‍্যাব সদস্য হত্যা মামলার আসামি গ্রেফতার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২০ই জুন, ২০২৬ ইং

০৫:৫৪ পি.এম


র‍্যাব সদস্য হত্যা মামলার আসামি গ্রেফতার

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে বহুল আলোচিত র‍্যাব সদস্য হত্যা মামলার আসামি আলী আকবর (২৬) গ্রেফতার করেছে র‍্যাব-৭।

শনিবার এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। গ্রেফতারকৃত আলী আকবর সীতাকুণ্ড উপজেলার ছিন্নমূল ৪ নম্বর সমাজ এলাকার আলী আহমদের ছেলে। গত ১৮ জুন বিকেলে র‌্যাবের একটি দল ছিন্নমূল ১ নম্বর সমাজ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে।

র‍্যাব-৭ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সীতাকুণ্ড থানার র‍্যাব হত্যা মামলার তদন্তে প্রাপ্ত আসামি আলী আকবরকে জঙ্গল সলিমপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ৩৫৩, ৩৩২, ২২৪, ২২৫, ৩৩৩, ৩০৭, ৩৮৬, ৩৬৪, ৩৪২, ৪২৭, ৩০২ ও ৩৪ ধারায় দায়ের হওয়া মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে।

র‍্যাব-৭ এর চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) ও সহকারী পুলিশ সুপার এ. আর. এম. মোজাফ্ফর হোসেন জানান, গ্রেপ্তারের পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আলী আকবরকে সীতাকুণ্ড থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

খাগড়াছড়িতে ফল মেলার সমাপনী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২০ই জুন, ২০২৬ ইং

০৫:৫৬ পি.এম


খাগড়াছড়িতে ফল মেলার সমাপনী

করবো মোরা ফল চাষ, সংরক্ষণ করব বারো মাস- এই প্রতিপাদ্য বিষয়কে সামনে রেখে খাগড়াছড়িতে জাতীয় ফল মেলার সমাপনী অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার বিকেলে খাগড়াছড়ি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর প্রাঙ্গনে খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসন এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে সমাপনী জাতীয় ফল মেলায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ির অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত পরিচালক যুগল পদ দে।

এসময়ে তিনি বলেন, খাগড়াছড়িতে প্রথম ফল চাষে বিপ্লব ঘটে ১৯৯৯ সালে। এটি খাগড়াছড়ি ছাড়া রাঙ্গামাটি ও বান্দরবান সহ তিন পার্বত্য জেলাতেও ঘটে। তখন থেকেই পাহাড়ের কৃষকদের ফল চাষের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি হয়।

তারই ফলস্বরূপ, আজকে খাগড়াছড়ি ফল উৎপাদনের জন্য দেশের অন্যান্য জেলার চেয়ে স্বাদ ও গুণাগুণের জন্য পরিচিতি লাভ করেছে। এর পিছনে খাগড়াছড়ি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অবদান সত্যিই প্রশংসনীয়। এতে একদিকে কৃষকরা অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হচ্ছেন, অন্যদিকে পার্বত্য অঞ্চলের কৃষিভিত্তিক সম্ভাবনাকেও আরও সমৃদ্ধ করছে।

সমাপনী অনুষ্ঠানে খাগড়াছড়ি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক নাসির উদ্দিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত উপ-পরিচালক শস্য আহসানুল চৌধুরী, খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুক্তা চাকমা এবং উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

সমাপনী ফল মেলা অনুষ্ঠানে খাগড়াছড়ি জেলার ফল উৎপাদনে সাফল্য অর্জনকারী তরুণ উদ্যোক্তা কৃষাণ কৃষাণীদের মাঝে ফল গাছের চারাগাছ বিতরণ ও সম্মাননা প্রদান করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫০
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪০
মাগরিব ০৫:১৬
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৮ সূর্যাস্ত : ০৫:১৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%