০৮:২০ পি.এম
দেশের বর্তমানে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ মাদক। কেবল আইন প্রণয়ন করলেই এই সমস্যার সমাধান হবে না, বরং আইন কার্যকর করার জন্য প্রয়োজন সৎ সাহস ও রাজনৈতিক সদিচ্ছা, এ কথা মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-৩ আসনের সংসদ সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।
শনিবার (২৭ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে সাধারণ আলোচনায় অংশগ্রহণ করে এসব কথা বলেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।
আরও পড়ুন: প্রশাসনের মাধ্যমে রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের অভিযোগ প্রধানমন্ত্রীর
সংসদে দেওয়া বক্তবে মাদক চোরাচালান প্রসঙ্গে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় মন্তব্য করেন, আগে সবাই ইয়াবা কারবারি ‘বদী’র কথা শুনত। বর্তমানে বদী নেই, কিন্তু সীমান্ত দিয়ে মাদক প্রবাহিত হওয়া বন্ধ হয়নি। তিনি এখানে প্রশ্ন তুলেছেন, ‘এখন ওই অঞ্চলের দায়িত্বটা কে নিয়েছে? বাড়ির আশপাশের লোক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর তো চেনার কথা। এতদিনে ওই দিক দিয়ে মাদক প্রবাহিত হওয়া বন্ধ হওয়া উচিত ছিল।’
তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, মাদক নিয়ন্ত্রণের জন্য কেবল আইন প্রণয়ন যথেষ্ট নয়, বরং তা কার্যকর করার জন্য দৃঢ় ইচ্ছাশক্তির প্রয়োজন।
নিজ নির্বাচনী এলাকার স্বাস্থ্যসেবার অবস্থা তুলে ধরে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, তার এলাকায় একটি ১০ শয্যার হাসপাতাল থাকলেও সেটি প্রকৃতপক্ষে পরিত্যক্ত হয়ে রয়েছে। সেখানে চিকিৎসক, রোগী বা দারোয়ান কেউ নেই; বরং হাসপাতালটি এখন মাদকসেবীদের আড্ডাখানায় পরিণত হয়েছে।
প্রায় ১৫ লাখ মানুষের বসবাসের এলাকা নিয়ে এমন হাসপাতালের গর্ব করার কিছু নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
আরও পড়ুন: নিকাহ রেজিস্ট্রারদের অধিকার নিশ্চিতের জন্য ৫ দফা দাবি উত্থাপন
সম্প্রতি সংসদ সদস্যদের জন্য ওয়াশিং মেশিনের দাবির প্রসঙ্গ টেনে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘আমার ওয়াশিং মেশিনের দরকার নেই। সংসদ দিলেও আমি নেব না। সংসদ সদস্যদের চেয়ে দেশের সাধারণ মানুষের প্রয়োজন অনেক বেশি। সে কারণে বাজেটকে অর্থবহ করে তোলা জরুরি।’
বক্তব্যের ধারাবাহিকতায় গয়েশ্বর চন্দ্র রায় দেশে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও বৈষম্যের প্রশ্নও কঠোরভাবে উত্থাপন করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ কোনো একক ধর্মের মানুষের জন্য স্বাধীন হয়নি; এটি সকল ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের রাষ্ট্র। একটি ঘটনার উদাহরণ দেন যার মধ্যে বলা হয়েছিল, একটি ইসলামিক ব্যাংকে একজন হিন্দু প্রার্থীর চাকরির সুপারিশ করা হলে তাকে জানানো হয়েছিল, অমুসলিম হওয়ার কারণে চাকরি দেওয়া সম্ভব নয়।
বিষয়টির ব্যাখ্যা দাবি করে বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনা সত্য হলে তা বৈষম্যমূলক। ব্যাংক তো কোনো মসজিদ বা মাদ্রাসা নয়। ব্যাংকের নামের সঙ্গে ইসলাম থাকলেই সেখানে অন্য ধর্মের মানুষ চাকরি করতে পারবে না, এটা কি বৈষম্য নয়?’ সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা চেয়েেন তিনি।
বাজেট প্রসঙ্গে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় উল্লেখ করেন, বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা করা বিরোধী দলের কাজ নয়, বরং সরকারের সঠিক পথ প্রদর্শন করাই তাদের দায়িত্ব। তিনি বলেন, ‘এই বাজেটের মধ্যে দর্শন আছে, রাজনীতি আছে।’
আরও পড়ুন: দেবিদ্বারে বিএনপির পাল্টাপাল্টি সভা, এমপি রাশেদা বেগম হীরার গাড়িবহরে হামলা
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের ধর্মনিরপেক্ষ অর্থে ‘বাংলাদেশি জাতি’ হিসেবে প্রতিষ্ঠার ধারণা দিয়েছিলেন, যেখানে সকল ধর্মের মানুষের সমান মর্যাদা নিশ্চিত হবে। সকল ধর্মই মানুষকে ন্যায়, সততা ও মানবিকতার শিক্ষা দেয়, ধর্মীয় মূল্যবোধকে রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য অন্যতম ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরেন তিনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন