১২:৩৪ পি.এম
তালাক না দিয়েই বিয়ে করার অভিযোগে দায়ের করা আলোচিত মামলায় চূড়ান্তভাবে খালাস পেলেন ক্রিকেটার নাসির হোসেন এবং তার স্ত্রী তামিমা সুলতানা তাম্মি।
দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়ার শেষে আজ বুধবার (১০ জুন) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন।
রায় ঘোষণার সময় নাসির ও তামিমা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। আদালত রায়ে উল্লেখ করেছে যে, আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির পৃথক ধারায় আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীত প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের খালাস দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আইনের শাসন জোরদারে সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি
এর আগে গত ৬ মে উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক আদালতে উপস্থাপন শেষ হয়। তখন আদালত রায়ের জন্য আজকের (১০ জুন) দিনটি নির্ধারণ করেন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০১১ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি তামিমা সুলতানার সঙ্গে রাকিব হাসানের বিয়ে হয়েছিল, এবং তাদের একটি আট বছরের কন্যাসন্তানও রয়েছে। তবে সেই বৈবাহিক সম্পর্ক এখনও ছিল, সেই অবস্থাতেই ২০২০ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি তামিমা ক্রিকেটার নাসির হোসেনের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। ২০২১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি, ভালোবাসা দিবসে এই বিয়ের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে রাকিব হাসানের নজরে আসে। এরপর ২০২১ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে দণ্ডবিধির ৪৯৭ ও ৫০০ ধারায় মামলা করেন রাকিব।
মামলাটির তদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পর ২০২১ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পিবিআই-এর তদন্ত কর্মকর্তা শেখ মিজানুর রহমান তিনজনের বিরুদ্ধে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেন। পরে ২০২২ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি অসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয় এবং বিচার শুরুর আদেশ দেওয়া হয়। তবে তামিমার মা সুমি আক্তারকে মামলার এজাহার থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়।
পরে অভিযোগ গঠনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আসামি পক্ষ এবং সুমি আক্তারের অব্যাহীতির বিরুদ্ধে বাদীপক্ষ আলাদা রিভিশন আবেদন করলেও ২০২৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি আদালত তা খারিজ করে দেন। ফলে নাসির ও তামিমার বিরুদ্ধে বিচার চলার পথ পরিষ্কার হয়।
আরও পড়ুন: প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের সহযোগিতায় ক্যান্সারের লড়াইয়ে জয়ী শিশু নিশা
২০২৩ সালের ২০ মার্চ মামলার বাদী রাকিব হাসানের সাক্ষ্যগ্রহণের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার শুরু হয়। দীর্ঘ শুনানির মধ্যে আদালতে মোট ১০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয় এবং ২০২৫ সালের ১৬ এপ্রিল সাক্ষ্যগ্রহণ পর্ব শেষ হবে। চলতি বছরের ১০ মার্চ, আত্মপক্ষ সমর্থনে নাসির ও তামিমা নিজেদের সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচার প্রার্থনা করেন। এরপর ৩০ মার্চ তামিমা নিজের পক্ষে সাফাই সাক্ষ্য দেওয়া শুরু করেন, যা শেষ হয় ৮ এপ্রিল। আজ আদালতের চূড়ান্ত রায়ের মাধ্যমে দীর্ঘ পাঁচ বছর পর এই আইনি লড়াই থেকে মুক্ত হলেন নাসির ও তামিমা দম্পতি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন