০৮:৫৩ পি.এম
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে এবার লোহিত সাগরে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক নৌ অবরোধ কার্যকর করেছে ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুথিরা। দেশটির প্রায় ৯০ শতাংশ তেল রপ্তানি হওয়া এই প্রণালী দিয়ে সংশ্লিষ্ট কোনো জাহাজ চলাচলে কঠোর হামলার শিকার হতে পারে বলে গোষ্ঠীটি সতর্ক করেছে।
এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ইয়েমেনের ওপর সৌদি আরবের ‘অন্যায়ভাবে’ অবরোধ এবং গত সপ্তাহে সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যে সরাসরি পাল্টাপাল্টি হামলার পর এই ঘোষণা আসে।
আরও পড়ুন: ফিলিস্তিনিদের অধিকারের পক্ষে বার্নি স্যান্ডার্স, মামদানি ও আল-সাইয়েদ সোচ্চার
ঘোষিত এই নৌ অবরোধ কার্যকরের অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক শিপিং প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে একটি বার্তা পাঠিয়েছে হুথিদের সংস্থা হিউম্যানিটারিয়ান অপারেশনস কো-অর্ডিনেশন সেন্টার (এইচওসিসি)। সেখানে সৌদি বন্দরে পণ্য ওঠানো-নামানোর ব্যাপারে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
২০ জুলাই পাঠানো ওই বার্তায় বলা হয়, ‘সৌদি আরবের কোনো বন্দরে বা সেখান থেকে কোনো জাহাজ পণ্য লোড বা আনলোড করতে পারবে না।’
আন্তর্জাতিক শিপিং প্রতিষ্ঠানগুলোর সব কার্যক্রমে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও যথাযথ যাচাই-বাছাই করার বিষয়ে সতর্ক করে স্পষ্ট ভাষায় বলা হয়েছে, ‘নির্দেশনা অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট জাহাজের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতে পারে। একই সাথে হুথিদের সামরিক সক্ষমতার আওতায় যেকোনো স্থানে সেগুলো লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে।’
এ বিষয়ে এক হুথি কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, ইয়েমেনের ওপর এক দশকেরও বেশি সময় ধরে সৌদি আরবের ‘অন্যায়ভাবে অবরোধের’ জবাবে লোহিত সাগরের দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত বাব আল-মান্দেব প্রণালী সৌদি জাহাজের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হবে।
আরও পড়ুন: গাজায় গণবিয়ের জন্য ১১৬২২ আবেদনকারী, ৫০০ বর-কনে বাছাই যেভাবে
জবাবে সৌদি আরব জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী নিজেদের জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই প্রণালী দিয়ে সাধারণত বিশ্বের প্রায় ১২ শতাংশ বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহন হয়। অন্যদিকে জ্বালানি বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান কেপলারের বিশ্লেষক মুইউ জু রয়টার্সকে জানান, বর্তমানে সৌদি আরবের মোট তেল উৎপাদনের প্রায় ৯০ শতাংশ লোহিত সাগরপথের এই প্রণালী দিয়ে পরিবহন করা হচ্ছে।
এদিকে পার্সি উপসাগরের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিতে মঙ্গলবার ভোরে একটি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালিয়েছে ইরান। হামলার পর জাহাজটির নাবিকরা সেটি ত্যাগ করতে বাধ্য হন।
টানা দশম রাতের মতো যুক্তরাষ্ট্র ইরানে বিমান হামলা চালালেও এখনও হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ শিথিল করেনি তেহরান।
আরও পড়ুন: রিয়াদে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, সৌদি জোটের দাবি ধ্বংস
একই সময়ে ইরানের প্রেসিডেন্ট দেশটি ‘পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে’ ফিরে যাওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন।
বাব আল-মান্দেব প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজকে লক্ষ্য করে হুথিদের নতুন হুমকি কার্যকর হলে বৈশ্বিক তেল সরবরাহে বিঘ্ন সৃষ্টি হতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। তাদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আবারও ঊর্ধ্বমুখী হতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
