০৮:৩৮ পি.এম
নড়াইলের মেধাবী শিক্ষার্থী পূজা বিশ্বাসের স্বপ্ন ডাক্তার হওয়া। তবে তিনি জানেন না, তার বাবা-মা তাকে মেডিক্যাল পড়াতে পারবেন কি না। কষ্ট করে সফলতার এই কাহিনীকে তুলে ধরে পূজা বলেন, 'চিকিৎসক হয়ে গরিব মানুষের সেবা করার পাশাপাশি আমার মতো অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াতে চাই।'
তিনি আরও জানান, 'তাদের পক্ষে এত খরচ বহন করা কঠিন।' তবুও তিনি পরিশ্রম, শিক্ষকদের সহযোগিতা এবং নিজের চেষ্টায় ফল অর্জন করেছেন।
চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় যশোর বোর্ডের অধীনে নড়াইল সদর উপজেলার কৃষ্ণলতা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে ১২৫০ নম্বরের মধ্যে ১২১০ পেয়ে জিপিএ-৫ অর্জন করেছে পূজা। এটি এ বছর নড়াইল জেলার সর্বোচ্চ ফল।
আরও পড়ুন: বাকেরগঞ্জে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও ড্রেন পরিষ্কার কার্যক্রম
পূজা নড়াইল সদর উপজেলার কলোড়া ইউনিয়নের নলদিচর গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবা নৃত্য গোপাল বিশ্বাস একজন কৃষক এবং মা দীপ্তি রানী বিশ্বাস গৃহিণী।
তাদের কৃষিকাজে সাত সদস্যের সংসার চালানো এবং বছরের অধিকাংশ সময় অভাব-অনটনের মধ্যে কাটাতে হয়। কিন্তু তা সত্ত্বেও পূজার পড়াশোনায় কোনো বাধা আসেনি।
পূজা তিন ভাই-বোনের মধ্যে সবার বড়। শিক্ষায় তার আগ্রহ ছোটবেলা থেকেই ছিল। বিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমের পাশাপাশি বাড়িতে বই নিয়ে পড়তেন। বিদ্যুৎ চলে গেলে কখনো চার্জলাইট আবার কখনো কেরোসিনের বাতির আলোতে পড়াশোনা করেছেন।
এখন এসএসসিতে জেলা সেরা পেয়ে কলেজ, ভর্তি কোচিং এবং মেডিক্যাল পড়াশোনার খরচ নিয়ে চিন্তিত পরিবার।
আরও পড়ুন: জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদ্যাপন
পূজার বাবা বলেন, 'মেয়েটার মেডিক্যাল পড়ার খুব ইচ্ছে, আমিও তার স্বপ্ন পূরণ করতে চাই। কিন্তু এত খরচ মেটানো আমার পক্ষে অসম্ভব।' মা দীপ্তি রানী বিশ্বাস জানান, 'অভাবের সংসার হলেও মেয়েকে পড়াশোনা ছাড়তে বলিনি।'
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হওয়ার পর পাইতে শুরু থেকেই সেরা ফল করে আসছিল পূজা। শিক্ষকদের প্রত্যাশা ছিল শুরু থেকেই। কৃষ্ণলতা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সমীর গোলদার বলেন, 'পূজা ১২৫০ নম্বরের মধ্যে ১২১০ পেয়েছে, যা সেরা।' বিদ্যালয়টি প্রত্যন্ত এলাকায় অবস্থিত এবং এর সভাপতির মাধ্যমে এখানকার অসচ্ছল মেয়েরা পড়ার সুযোগ পেয়েছে।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি বলেন, 'পূজা বিশ্বাসের এই সাফল্য তার কঠোর পরিশ্রমের প্রমাণ।'
উল্লেখ্য, যশোর শিক্ষা বোর্ড অনুযায়ী, এ বছর নড়াইল জেলা থেকে মোট ৮ হাজার ২৬২ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। এর মধ্যে ৪০৪ জন জিপিএ ৫ পেয়েছে।
আরও পড়ুন: ঢাকায় গিয়ে ৫ দিন ধরে নিখোঁজ শিশু ইমাম, সন্ধান চেয়ে পরিবারের আকুতি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন