১০:৪৩ পি.এম
গাজীপুরের টঙ্গীতে মারামারির ঘটনায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালে থেকেও মামলার আসামি হওয়ার অভিযোগ করেছেন এক যুবদল নেতা। প্রতিবাদ হিসেবে তিনি হাসপাতালেই সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করেছেন।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টায় টঙ্গীর গুটিয়ায় ইন্টারন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে এরশাদনগর এলাকায় মারামারির ঘটনা ঘটে এবং পরদিন টঙ্গী পূর্ব থানায় মামলা দায়ের করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনটি আয়োজন করেন টঙ্গী এরশাদনগর ৪৯ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আনোয়ার হোসেন মোল্লা।
আরও পড়ুন: সোনাপাহাড় ও তেমুহানীতে জোরারগঞ্জ পুলিশের অভিযান: চোলাইমদ ও চোরাই অটোরিকশাসহ গ্রেফতার ৫
তিনি সংবাদ সম্মেলনে জানান, "আমি গত ২৬ অক্টোবর ডেঙ্গু জ্বর নিয়ে অত্যন্ত সংকটাপন্ন অবস্থায় ইন্টারন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ গুটিয়ায় ভর্তি হই। অসুস্থতার কারণে মোবাইল ফোন চালাতেও পারিনি। এরই মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি থাকা অবস্থায় ২৯ অক্টোবর রাতে এরশাদনগরে মারামারি হয়। পরদিন থানায় মামলা হলে জানতে পারি আমি মামলার এক নম্বর আসামি। ওই মামলায় ষড়যন্ত্রমূলকভাবে আরো কয়েকজন নির্দোষ ব্যক্তির নাম রয়েছে। মামলার প্রধান কলকাঠি নেড়েছেন এরশাদনগরের চিহ্নিত সন্ত্রাসী ইয়াবার ডিলার হত্যা, অস্ত্র ও মাদক মামলার এক গডফাদার। তিনি ৫ আগস্টের আগে আওয়ামী লীগ করতেন। এলাকার আওয়ামী লীগ নেতা জলিল গাজীর সঙ্গে তিনি আওয়ামী লীগের জন্য ভোট চেয়েছেন। অথচ সেই ব্যক্তির কথায় আমরা যারা দীর্ঘ ১৭ বছর সংগ্রাম করেছি তাদের মতো লোকের নামে অনুসন্ধান ছাড়াই কিভাবে মামলা হয়। থানা পুলিশের এমন কর্মকাণ্ডে আমরা হতভাগ হয়েছি। তদন্ত ছাড়া যাতে কোনো নির্দোষ ব্যক্তিকে পুলিশ ফাঁসাতে না পারে সেজন্য প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানাই।"
থানায় দায়েরকৃত মামলার সূত্রে জানা যায়, ২৯ আগস্ট রাতে এরশাদনগর বেড়িবাঁধ এলাকায় মারামারির ঘটনা ঘটে। মারামারিতে রিফাত দেওয়ান (২৫) ও জুম্মন (২৪) নামের দুজন আহত হন। ওই ঘটনায় রিফাতের বড় ভাই ফরহাদ হোসেন বাদী হয়ে টঙ্গী পূর্ব থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় শনাক্ত আসামি রয়েছেন ১৩ জন এবং অজ্ঞাতনামা আসামি ১০-১২ জন। মামলার এক নম্বর আসামি আনোয়ার ওরফে টিভি আনোয়ার এবং দুই নম্বর আসামি জাহিদুল ইসলাম মঞ্জুকে হুকুমের আসামি করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ৪৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মিজানুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক চাঁন মিয়া, সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুরুল হক বাচ্চু, ওয়ার্ড বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি হেলাল উদ্দিন, টঙ্গী পূর্ব থানা বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিরাজ মিয়া, ৪৯ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম বাবু, গাজীপুর মহানগর মহিলা দলের শ্রমবিষয়ক সম্পাদক ফেরদৌসী বেগম, টঙ্গী পূর্ব থানা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক রাবেয়া খাতুন প্রমুখ।
এ বিষয়ে টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাকছুদুল আলম বলেন, "থানায় মামলা হয়েছে। মামলায় যুবদল নেতা প্রধান আসামি। তবে অধিকতর তদন্তে তিনি যদি এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত না থাকেন, তাহলে অব্যাহতি দেওয়া হবে।"
আরও পড়ুন: বাপাজসের গবেষণা ও প্রশিক্ষণ সম্পাদক হলেন নোবিপ্রবির ইফতেখার হোসাইন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন