১২:১৭ পি.এম
গ্রামের অসচ্ছল ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর রান্নার জন্য কাঠ, খড়কুটো ও ঘুঁটের ব্যবহার কমিয়ে এলপিজিকে সহজলভ্য করার লক্ষ্যে ভর্তুকি দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে সরকার।
এ বিষয়ে সুলভমূল্যে এলপিজি সিলিন্ডার সরবরাহের জন্য নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শিগগিরই সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলির সমন্বয়ে এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন শুরু হতে পারে।
বিশেষজ্ঞ এবং খাতসংশ্লিষ্টদের বরাত দিয়ে আগামীীর সময়-এর একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, সরকারের এই উদ্যোগটি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতি, পরিবেশ রক্ষা এবং জনস্বাস্থ্যের উন্নয়নেও এক নতুন দিগন্তের সূচনা করবে। তাছাড়া প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের জীবনযাত্রার মানও উন্নত হবে।
আরও পড়ুন: জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে গাইবান্ধার স্মৃতি খাতুনের সাফল্য
এ প্রসঙ্গে, আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিকস অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল অ্যানালিসিসে (আইইইএফএ) বাংলাদেশের জ্বালানি খাতবিষয়ক প্রধান বিশ্লেষক শফিকুল আলম বলেছেন, "এটা খুবই ভালো উদ্যোগ। প্রতিবেশী ভারতেও এমন সুবিধা দেওয়া হয় এবং এটি সেখানে বেশ কার্যকর। কিন্তু গ্রামের অসচ্ছল মানুষের পাশাপাশি ঢাকা ও অন্যান্য শহরে বস্তিতে বসবাস করা অনেক দরিদ্র মানুষ রয়েছেন। তাদেরও এই সুবিধার আওতায় আনা দরকার।"
তিনি আরও যোগ করেন, "এই উদ্যোগ সফল করতে সব থেকে আগে প্রকৃত অসচ্ছল পরিবারগুলো নিখুঁতভাবে চিহ্নিত করে স্বচ্ছ ডাটাবেস তৈরি করতে হবে। একই সঙ্গে ভর্তুকির মূল্যে এই সিলিন্ডারগুলো যেন বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে কিংবা কোন চায়ের দোকানে পাচার না হতে পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে কঠোর মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করা।"
দীর্ঘকাল ধরে দেশের একটি বিশাল অংশ রান্নার কাজে প্রথাগত কাঠ, খড়কুটো কিংবা ঘুঁটের ওপর নির্ভরশীল রয়েছে। এর ফলে একদিকে যেমন নির্বিচারে বনাঞ্চল ধ্বংস হচ্ছে, অন্যদিকে চুলার ক্ষতিকর ধোঁয়া গ্রামীণ নারী ও শিশুদের ফুসফুসের মারাত্মক ক্ষতি করছে।
অবশ্য গ্রামের সচ্ছল কিছু মানুষ বর্তমানে এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবহার করছেন, তবে আকাশছোঁয়া দামের কারণে নিয়মিতভাবে এটি ব্যবহার করতে পারছেন না।
আরও পড়ুন: সাভার-আশুলিয়ার শিল্পাঞ্চলে ৮৮ কারখানা কর্মমুখর হয়ে উঠছে
মুখ্যত বাসাবাড়িতে রান্নায়, কারখানা, বাণিজ্যিক ও গাড়ির জ্বালানি হিসেবে (অটো গ্যাস) এলপিজি ব্যবহৃত হচ্ছে। গত ৭ বছরে দেশের এলপিজির ব্যবহার দ্বিগুণের বেশি বেড়ে ১৫ লাখ টন ছাড়িয়েছে। এলপিজির ৮০ শতাংশই ব্যবহৃত হয় বাসাবাড়িতে। বর্তমানে এই জ্বালানির গড় মাসিক বাজার ১ লাখ ৩০ হাজার টন।
বর্তমানে দেশে সরবরাহ করা এলপিজির ৯৮ শতাংশই আসছে বেসরকারিভাবে, আর মাত্র ২ শতাংশ এলপিজি সরকারিভাবে সরবরাহ করা হচ্ছে। কিন্তু সরকারি এলপিজি সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরেই রয়েছে। এলপিজির ১২ কেজি সিলিন্ডার সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় গৃহস্থালির কাজে। বর্তমানে সরকারি কোম্পানি সরবরাহ করা এলপিজির সাড়ে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৮২৫ টাকা এবং এই দাম দীর্ঘদিন ধরে অপরিবর্তিত রয়েছে।
অন্যদিকে, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সরবরাহ করা এলপিজির দাম দ্বিগুণ থেকে কখনও কখনও আরও বেশি হয়ে থাকে। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন প্রতিমাসে এলপিজির দাম নির্ধারণ করে, কিন্তু বাজারে সেই দামে কখনোই এলপিজি পাওয়া যায় না। বিভিন্ন অজুহাতে খুচরা বিক্রেতারা ইচ্ছামতো বাড়তি দাম আদায় করে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশ বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো তাদের প্রান্তিক জনগণের জ্বালানিসংকট সমাধানে নানান মডেল ও বিকল্প প্রযুক্তির ব্যবহার করে আসছে। দরিদ্র পরিবারে সুলভমূল্যে বা বিনা মূল্যে এলপিজি সংযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে ভারত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ও সফল প্রকল্প কার্যকর করেছে।
আরও পড়ুন: ছাত্রীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জের নিন্দা জানালেন এমপি নূরুন্নিসা
ভারতে দারিদ্র্যসীমার নিচে থাকা বহু পরিবারকে বিনা মূল্যে এলপিজি সিলিন্ডার ও রেগুলেটরের সংযোগ দেওয়া হয়েছে। ভারতের এই ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো সরাসরি ব্যাংকে ভর্তুকি দেওয়া। এখানে গ্রাহকরা বাজারমূল্যেই সিলিন্ডার কেনেন, কিন্তু সরকার নির্দিষ্ট পরিমাণ ভর্তুকির টাকা সরাসরি দরিদ্র সুবিধাভোগীদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠায়। যার ফলে মধ্যস্বত্বভোগীদের দুর্নীতি বা কালোবাজারির সুযোগ থাকে না।
অন্যদিকে, পাকিস্তানে শীতকালে প্রত্যন্ত অঞ্চলের অসচ্ছল পরিবারের জন্য মাঝে মাঝে কোটা বা কম দামে সিলিন্ডার সরবরাহের অস্থায়ী ঘোষণা দেওয়া হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন