০৫:২৭ পি.এম
যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশিদের সংখ্যা সাড়ে ছয় লাখের বেশি, এবং তাদের বড় একটি অংশ সিলেটি। সাম্প্রতিক আদমশুমারি ও গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, দেশটির ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ বাংলাদেশি আসলে সিলেটি বংশোদ্ভূত। এই হিসেবে বর্তমানে ব্রিটেনে প্রায় ৫ থেকে ৬ লাখ মানুষ সিলেটি বংশের।
ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের ২০২১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী, বাংলাদেশি জাতিগোষ্ঠীর সংখ্যা প্রায় ৬ লাখ ৪৫ হাজার। স্কটল্যান্ড এবং নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের বাংলাদেশি জনগণের অন্তর্ভুক্তি করলে এই সংখ্যা আরো বৃদ্ধি পাবে। অভিবাসন গবেষকদের মত অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশিদের একটি বিশাল অংশের পূর্বপুরুষ সিলেট বিভাগের বিভিন্ন উপজেলা থেকে কয়েক দশক পূর্বে অভিবাসন করেছেন।
গবেষণা বলছে, উনিশ শতকের শেষভাগে ব্রিটিশ জাহাজে কর্মরত সিলেটি নাবিকদের মাধ্যমে সিলেটিদের যুক্তরাজ্যে যাত্রা শুরু হয়। তবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর শ্রমিক সংকট মোকাবেলার কারণে সিলেটি অভিবাসনের ধারা দ্রুতগতিতে বৃদ্ধি পায়। পরবর্তী সময়ে পরিবার পুনর্মিলন কর্মসূচির আওতায় স্ত্রী ও সন্তানদের যুক্তরাজ্যে নিয়ে আসানো হলে স্থায়ী সিলেটি কমিউনিটি গঠিত হয়। এটি বর্তমানে ব্রিটিশ বাংলাদেশি সমাজের সবচেয়ে বড় অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আরও পড়ুন: ডিসেম্বরে দেশে আসার সুযোগ নেই: নাহিদ ইসলাম
যুক্তরাজ্যে সিলেটিদের প্রধান আবাসস্থল হলো পূর্ব লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটস, ব্রিক লেন, হোয়াইটচ্যাপেল, বেথনাল গ্রিনসহ আশপাশের এলাকা, যা দীর্ঘদিন ধরে ব্রিটিশ বাংলাদেশিদের সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। এছাড়া নিউহ্যাম, রেডব্রিজ, লুটন, বার্মিংহাম, ম্যানচেস্টার, ওল্ডহাম, লিডস, গ্লাসগো এবং অন্যান্য শহরেও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক সিলেটি পরিবার বসবাস করছে।
শুধু জনসংখ্যার দিক থেকেই নয়, বরং যুক্তরাজ্যের অর্থনীতিতেও সিলেটিদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাজ্যের ‘কারি শিল্প’ গড়ায় সিলেটি উদ্যোক্তাদের সবচেয়ে বড় অবদান রয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে দেশটির অধিকাংশ বাংলাদেশি মালিকানাধীন রেস্তোরাঁ পরিচালনা করছেন সিলেটি ব্যবসায়ীরা। এছাড়াও খুচরা ব্যবসা, পরিবহন, নির্মাণ, সম্পত্তি খাত, স্বাস্থ্যসেবা, তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিভিন্ন ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা কার্যক্রমে তাদের একটি শক্তিশালী অবস্থান রয়েছে।
রাজনীতিতেও সিলেটি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণ ক্রমাগত বাড়ছে। তারা স্থানীয় কাউন্সিল, মেয়র পদ, স্কুল গভর্নিংবডি এবং ব্রিটিশ পার্লামেন্টসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে প্রতিনিধিত্ব করেন। পাশাপাশি আইন, চিকিৎসা, শিক্ষা, সাংবাদিকতা, ব্যাংকিং এবং সরকারি প্রশাসনের ক্ষেত্রে নতুন প্রজন্মের সিলেটিরা শক্তিশালী অবস্থান দখল করছেন।
বিশ্লেষকদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, সিলেটি ভাষা ও সংস্কৃতি এখনও যুক্তরাজ্যের বাংলাদেশি কমিউনিটির পরিচয়ের অন্যতম ভিত্তি রূপে কাজ করছে। শেখানে শতাধিক মসজিদ, বাংলা স্কুল, সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং আঞ্চলিক সমিতির মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের কাছে ভাষা, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। বৈশাখ, একুশে ফেব্রুয়ারি, স্বাধীনতা দিবস এবং অন্যান্য জাতীয় অনুষ্ঠানে সিলেটি সম্প্রদায়ের ব্যাপক অংশগ্রহণ ব্রিটেনের বহুসাংস্কৃতিক সমাজে বাংলাদেশি পরিচিতিকে আরও শক্তিশালী করছে।
আরও পড়ুন: চসিকের প্রতিটি ওয়ার্ডে ৮২টি খেলার মাঠ গড়ার উদ্যোগ : প্রশাসক
অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, একসময় শ্রমনির্ভর অভিবাসী হিসেবে তাদের যাত্রা শুরু হলেও বর্তমানে সিলেটি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ বাংলাদেশিরা যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি, ব্যবসা, রাজনীতি, শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারে পরিণত হয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন