০১:৪৮ পি.এম
ইউরোপজুড়ে মারাত্মক তাপদাহে প্রতিদিন একের পর এক তাপমাত্রার রেকর্ড ভেঙে যাচ্ছে। বিভিন্ন দেশে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। তীব্র গরমের কারণে স্কুলগুলো বন্ধ রাখা হচ্ছে, যাতায়াতে বিধিনিষেধ আরোপ করা হচ্ছে এবং জনস্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ বেড়ে চলেছে। কিছু এমন কিছুর জন্য আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান তথ্য প্রকাশ করেছে।
বুধবার (২৪ জুন) ইতালির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় রোম ও মিলানসহ মোট ১৬টি শহরে লাল সতর্কতা জারি করেছে। একই সঙ্গে যুক্তরাজ্যের কিছু এলাকার তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে চরম গরমের সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
তীব্র গরমের ফলে যুক্তরাজ্যে কিছু স্কুল বন্ধ রাখা হচ্ছে। প্রয়োজন ছাড়া মানুষের জন্য ভ্রমণ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়া কর্মকর্তাদের মতে, উচ্চ তাপমাত্রার সাথে বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় গরম আরও অসহনীয় হয়ে উঠছে।
আরও পড়ুন: আরাগচির সঙ্গে ১২ দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ৪৮ ঘণ্টার আলোচনা
এদিকে, মঙ্গলবার (২৩ জুন) ফ্রান্সে ইতিহাসের সবচেয়ে উষ্ণ দিনের রেকর্ড তৈরি হয়েছে। দেশটিতে গত কয়েকদিনে নজরদারিবিহীন জলাশয়ে সাঁতার কাটতে গিয়ে অন্তত ৪০ জনের মৃত্যু ঘটেছে। সরকারি তথ্যে দেখা যায়, ফ্রান্সের ৯০ শতাংশের বেশি মানুষ বর্তমানে তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যে রয়েছে। সেখানে বিভিন্ন অঞ্চলে ৩৯ থেকে ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
নেদারল্যান্ডসে বুধবার থেকে অন্তত শুক্রবার পর্যন্ত চরম গরমের সতর্কতা জারি করা হয়েছে। রাজধানী আমস্টারডামের কিছু উন্মুক্ত সুইমিংপুলে বিশেষ সুবিধা প্রদান করা হয়েছে। অতিরিক্ত গরমের কারণে কয়েকটি রুটে ট্রেন চলাচল কমিয়ে আনা হচ্ছে।
আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, আগামী কয়েকদিনের মধ্যে তাপপ্রবাহ পূর্ব ইউরোপেও ছড়িয়ে পড়বে। পোল্যান্ডে রেকর্ড ভাঙা তাপমাত্রার আশঙ্কা থাকায় উচ্চমাত্রার সতর্কতা জারি করা হয়েছে। একইভাবে ক্রোয়েশিয়ার উপকূলীয় অঞ্চল ও হাঙ্গেরিতেও সর্বোচ্চ সতর্কতা ঘোষণা করা হয়েছে।
ফ্রান্সের পরিবেশমন্ত্রী মনিক বারবু জানিয়েছেন, দেশটিতে তাপদাহ আগামী ১৪ জুলাই পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। যদিও আগামী সপ্তাহে সাময়িক স্বস্তি মিলতে পারে, এরপর আবারও চরম গরম ফিরে আসার ব্যাপারে আশঙ্কা রয়েছে।
আরও পড়ুন: বিয়ে না করায় প্রেমিকাকে গোকাক জলপ্রপাতে হত্যা করলেন কনস্টেবল
বিশেষজ্ঞরা জানান, বায়ুমণ্ডলের বিশেষ অবস্থা ও বায়ুপ্রবাহের কারণে গরম বাতাস দীর্ঘ সময় ধরে একই স্থানে আটকে আছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এই পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ করে তুলেছে।
তীব্র গরমের প্রভাবে লন্ডনে বায়ুদূষণের উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এছাড়া সৈন্য ও ঘোড়ার নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে রাজধানী লন্ডন ও উইন্ডসরে সেনাবাহিনীর কিছু আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমও বাতিল করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন