০৮:৫২ পি.এম
ভারতের জম্মু-কাশ্মীরের গান্দেরবাল জেলার একটি ঘটনা লক্ষ্য করা গেছে, যেখানে এক নববিবাহিত যুবককে মাদক মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগে তার স্ত্রীর সাবেক প্রেমিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশের তরফ থেকে জানানো হয়েছে যে, ওই ব্যক্তি নিজেই মাদকের পার্সেল পাঠানোর ব্যবস্থা করেছিলেন এবং পরবর্তীতে অন্যদের মাধ্যমে পুলিশকে খবর দিয়ে যুবককে গ্রেপ্তার করানোর পরিকল্পনা করেছিলেন।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের খবরে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার শুরু চলতি মাসের প্রথম দিকে। জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ অবগত হয় একটি মাদক চালান গান্দেরবাল এলাকায় পাঠানো হচ্ছে। মাদক পাচারের বিরুদ্ধে পুলিশের কঠোর অভিযানের মধ্যে, তারা বিষয়টিকে গুরুত্ব সহকারে গ্রহণ করে।
পুলিশ পার্সেলটি আটক করার পর, সেটি যে ঠিকানায় পাঠানো হয়েছিল, সেখানে উপস্থিত হয়। প্রাপক ছিলেন কয়েক মাস আগে বিয়ে করা এক সাধারণ পোলট্রি খামারি। তিনি পুলিশকে জানান, পার্সেলটিতে পোলট্রির খাবার থাকার কথা ছিল এবং ভেতরে মাদক আছে—এ বিষয়ে তার কোনও ধারণা ছিল না। তবে তিনি একটি অস্বাভাবিক ফোনকলের কথা উল্লেখ করেছেন। চলতি বছরের শুরুর দিকে, সৌদি আরবের একটি নম্বর থেকে তাকে ফোন করে ওই ব্যক্তি বিয়ের পরিকল্পনা থেকে সরে দাঁড়ানোর জন্য সতর্ক করেছিলেন।
আরও পড়ুন: মাদারীপুরে কৃষককে কুপিয়ে জখম, প্রধান আসামি জাকির গ্রেফতার
এই ঘটনার পর, পুলিশ তার স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। তদন্তের সময় শ্রীনগরের জাইনাকোট এলাকার তারিক আহমেদ সোফির নাম উঠে আসে। পুলিশের দাবী অনুযায়ী, সোফি ছিলেন ওই নারীর সাবেক প্রেমিক এবং তিনিই নববিবাহিত যুবককে মাদক মামলায় ফাঁসানোর পরিকল্পনা করেছিলেন। তার পর ৯ আগস্ট তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, ৮ আগস্ট বাইরে থেকে জম্মু-কাশ্মীরে মাদক পাঠানোর খবর পেয়ে পুলিশ বিষয়টিকে গুরুত্বের সাথে নেয়। গান্দেরবালের ডাকঘর থেকে পার্সেলটি আটক করা হয় এবং ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে সেটি খোলা হয়। পার্সেলের ভেতরে ছিল চার কেজি কোকেন, ৮০ গ্রাম গাঁজা এবং কিছু সাইকোট্রপিক মাদক। উল্লেখ্য, পার্সেলটি উত্তর প্রদেশের কানপুর থেকে পাঠানো হয়েছিল এবং গান্দেরবাল থেকে কানপুরের দূরত্ব প্রায় ১ হাজার ৩০০ কিলোমিটার।
ওই পোলট্রি খামারি পুলিশকে জানান, হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে একজন ব্যক্তি তার সাথে যোগাযোগ করেছিলেন, যিনি পোলট্রির খাবারের নমুনা পাঠানোর প্রসঙ্গে কথা বলেছিলেন। এই কারণেই তিনি তাকে নিজের ফোন নম্বর ও ঠিকানা দিয়েছিলেন। তদন্তে দেখা যায়, যোগাযোগকারী নম্বরটি সৌদি আরবের।
এর পর, আগের ফোনকলের বিষয়টি তদন্তকারীদের সামনে আসায় তদন্ত নতুন মোড় নেয়। এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, তখনই আমরা ষড়যন্ত্রের দিকটি এবং যুবককে ফাঁসানোর পরিকল্পনাটি খতিয়ে দেখা শুরু করি। পুলিশের দাবি, সোফি জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন, কানপুরের আরিব নামের একজন ব্যক্তি তার বন্ধু। সোফির অনুরোধ অনুযায়ী, আরিবই মাদকের পার্সেলটি পাঠিয়েছিলেন।
আরও পড়ুন: সারজিস আলম: গণহত্যাকারী হাসিনার অলীক ডিসেম্বর বাংলাদেশে আসবে না
এক জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, সোফিই প্রথমে তার বন্ধুর মাধ্যমে পার্সেল পাঠানোর ব্যবস্থা করেন এবং পরে পুলিশকে খবর দেন। কারণ সতর্ক থাকার সুবাদে তিনি সরাসরি পুলিশকে খবর দেননি; বরং অন্য কয়েকজনের মাধ্যমে তথ্যটি পৌঁছে দেন। পুলিশ জানিয়েছে, আরিব কানপুরের বাসিন্দা হলেও বর্তমানে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন। তবে তিনি কিভাবে মাদক সংগ্রহ করে ওই যুবকের ঠিকানায় পাঠানোর ব্যবস্থা করেছিলেন, তা তদন্ত করা হচ্ছে।
আরিব পুরো ষড়যন্ত্র সম্পর্কে জানতেন কি না, সেটিও পুলিশ খতিয়ে দেখছে। একজন কর্মকর্তা বলেন, সোফি নিজে পার্সেলটি পাঠিয়ে বন্ধুকে কানপুর থেকে গান্দেরবালের ঠিকানায় পাঠাতে বলেছিলেন, নাকি আরিব নিজেকে মাদক সংগ্রহ ও পাঠানোর ব্যবস্থা করেছিলেন— তা এখনো নিশ্চিত নয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন