১২:০৭ এম
> বিশ্ব
হিন্দু শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রতিশ্রুতি এবং মুসলিমদের বিতাড়নের ঘোষণা করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
প্রকাশ : ২৫ আগস্ট ২০২৬, ২৩: ৩৯
আরও পড়ুন: হুথিদের হামলায় সৌদির আরামকো টাওয়ার ক্ষতিগ্রস্ত
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ছবি : সংগৃহীত
কেন্দ্রের নির্দেশনা অনুসরণ করে সীমান্ত সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, সীমান্ত সুরক্ষার স্বার্থে যেকোনো কঠোর পদক্ষেপ নিতে তিনি প্রস্তুত।
মঙ্গলবার জি ২৪ ঘণ্টার মেগা কনক্লেভে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘হিন্দু শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেব আর মুসলিম অনুপ্রবেশকারীদের ঘাড়ধাক্কা দেব।’
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন: আইনমন্ত্রী: নেতৃত্ব কারো কাছে চিরকাল বন্দি থাকে না
ক্ষমতায় আসার পর তিনি নিজের ‘টু-ডু লিস্টে’ থাকা কাজগুলোর মধ্যে দেশের নিরাপত্তাকে প্রথমে গুরুত্ব দেওয়ার কথা উল্লেখ করেন। ইতিমধ্যে সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার জন্য জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
নাগরিকত্ব ইস্যুতে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, হিন্দু শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে, কিন্তু বাংলাদেশ থেকে আসা মুসলিম অনুপ্রবেশকারীদের দেশ থেকে বের করে দেওয়া হবে।
শুভেন্দু অধিকারী আরও বলেন, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও স্বামী প্রণবানন্দের অবদান ছাড়া পশ্চিমবঙ্গ ভারতের অংশ হত না। তিনি উল্লেখ করেন, আমরা কেউ এত বড় বড় ভাষণ দিতে পারতাম না।
আরও পড়ুন: ফারুক আহমেদ এসআরবি মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন
মুখ্যমন্ত্রী জানান, সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ কাজ। দুই বছর পর রাজ্যে বিএনএস চালু হয়েছে। কেন্দ্রের সব প্রকল্পের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গকে যুক্ত করা সাংবিধানিক দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী যেসব কাজ করতে পারেননি, বর্তমান বিজেপি সরকার নতুন বিমানবন্দরের জন্য ২ হাজার একর জমি চিহ্নিত করেছে।
কেন্দ্রের সঙ্গে সহযোগিতা করাও সরকারের অন্যতম লক্ষ্য বলে উল্লেখ করেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, চিকেন নেককে সুরক্ষিত রাখতে কেন্দ্র প্রাক্তন সরকারের কাছে সাতটি রাস্তা চেয়েছিল। সেই সাতটি রাস্তা কেন্দ্রকে দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া কেন্দ্রের রেল প্রকল্পের জন্য হিলি, লালগড়, গোপীবল্লভপুর, এগরা, দাঁতন, দিঘা, জলেশ্বর, করিমপুর ও তেহট্টের জমি দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। তার দাবি, পূর্বতন সরকারের আমলে প্রায় ৫০০টি রাস্তা ও সেতু তৈরির জন্য জমি আটকে রাখা হয়েছিল। সেই জমিও কেন্দ্রকে দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া আয়ুষ্মান ভারত, প্রধানমন্ত্রী সূর্য ঘর, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনাসহ বিভিন্ন কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ যুক্ত হয়েছে বলেও জানান শুভেন্দু অধিকারী।
আরও পড়ুন: ট্রেনযাত্রীর ব্যাগ ছিনতাই, লঞ্চ টার্মিনালের পন্টুন থেকে ১৮ ভরি স্বর্ণ উদ্ধার
সরকারের চতুর্থ দায়িত্ব জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা বলে জানান তিনি। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাজ্যের ১ কোটি ৪৫ লাখ নারী অন্নপূর্ণা যোজনার অনুদান পাচ্ছেন। আরও ২০ থেকে ৩০ লাখ নারীকে এই সুবিধার আওতায় আনা হবে। স্বচ্ছতা যাচাই করেই এই অনুদান দেওয়া হবে।
স্কুল সার্ভিস কমিশনকে নিয়োগ দুর্নীতির বাইরে রাখতে রামকৃষ্ণ মিশনের আচার্যদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন শুভেন্দু। একইভাবে একজন সৎ আইএএস কর্মকর্তাকে পাবলিক সার্ভিস কমিশনের শীর্ষ পদে রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি।
সরকারের পঞ্চম কাজ শিল্পায়ন, বিনিয়োগ ও বাণিজ্যিকীকরণ। যুবকদের নিজেদের পায়ে দাঁড় করানোর জন্য এসব কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ বলে দাবি করেন শুভেন্দু অধিকারী।
সরকারের ষষ্ঠ কাজ হলো বাম ও তৃণমূল আমলে হওয়া দুর্নীতির শ্বেতপত্র প্রকাশ করা। এ জন্য মন্ত্রিগোষ্ঠীর মাধ্যমে তিনটি কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানান তিনি। ভোট ঘোষণার ছয় মাস আগে পর্যন্ত এবং গত তিন মাসে পূর্ববর্তী সরকার যেসব ক্ষতি করেছে, সেগুলোও খতিয়ে দেখা বর্তমান সরকারের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে বলে উল্লেখ করেন শুভেন্দু।
আরও পড়ুন: মার্কিন রাষ্ট্রদূত: ইরান যুদ্ধের বিরোধিতাকারীদের ‘শয়তান নিয়ন্ত্রণ করছে’
রাজ্যে ক্ষমতায় আসার ১০০ দিনের মধ্যে এই ছয় দফা কর্মসূচির ‘সিক্সার’ বাস্তবায়নের কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন