ঢাকা রবিবার, ০১ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৬ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ০১ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৬ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

কক্সবাজারে এইচএসসির ফল বিপর্যয়: পাসের হার ৪৩.৯৩%, জিপিএ-৫ পেয়েছে মাত্র ৫৩ জন, ২৬ কলেজে নেই জিপিএ-৫


কক্সবাজারে এইচএসসির ফল বিপর্যয়: পাসের হার ৪৩.৯৩%, জিপিএ-৫ পেয়েছে মাত্র ৫৩ জন, ২৬ কলেজে নেই জিপিএ-৫

কক্সবাজার জেলায় এবারের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ভয়াবহ ফল বিপর্যয় ঘটেছে। জেলায় পাসের হার ৪৩ দশমিক ৯৩ শতাংশে নেমে এসেছে, যা গত ১৩ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। প্রায় অর্ধেক পরীক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে। জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে, এবারে মাত্র ৫৩ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে, গত বছর এই সংখ্যা ছিল ২০৬ জন।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) প্রকাশিত চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের ফলাফল বিশ্লেষণে এসব তথ্য উঠে এসেছে। ফলাফলে দেখা যায়, জেলায় ২৬টি কলেজের মধ্যে ১৯টিতে কোনো শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পায়নি। বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের কোনো পরীক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। অন্যদিকে, একমাত্র রামু ক্যান্টনমেন্ট ইংলিশ স্কুল অ্যান্ড কলেজ শতভাগ পাসের কৃতিত্ব অর্জন করেছে।

জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মান্নান ফল বিপর্যয়ের কারণ হিসেবে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখায় অমনোযোগিতা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর নানা সমস্যার কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, "শিক্ষার্থীরা ভালোভাবে পড়ালেখা করেনি।"

আরও পড়ুন: কচুয়ায় লন্ডন প্রবাসীর বাড়ির গাছ ও পুকুরের মাছ লুটে নিলো স্বেচ্ছাসেবকদলের সহ-সভাপতি

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যেও নানা সমস্যা ছিল। ইংরেজিসহ কয়েকটি বিষয়ে খারাপ ফলের কারণে সামগ্রিক ফলাফল খারাপ হয়েছে। তিনি জানান, আগামী বছর যাতে ফলাফল ভালো হয়, সে জন্য শিক্ষার মান বজায় রাখা এবং শিক্ষার্থীদের ভালো ফল অর্জনে শিক্ষা প্রশাসন সচেষ্ট থাকবে।

জেলায় পরীক্ষার্থী ও ফলাফলের চিত্র অনুযায়ী, এবার কক্সবাজার জেলায় মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১২ হাজার ৮৪৩ জন। এর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেয় ১১ হাজার ৪৫৮ জন। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৫ হাজার ১৬২ জন ছেলে এবং ৭ হাজার ৫৩৬ জন মেয়ে। মোট উত্তীর্ণ হয়েছে ৫ হাজার ৩৪ জন। জেলায় গড় পাসের হার ৪৩ দশমিক ৯৩ শতাংশ।

ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা পাসের হারে এগিয়ে রয়েছে। ছেলেদের পাসের হার ৪১ দশমিক ৩৭ শতাংশ, আর মেয়েদের ৪৪ দশমিক ৪৫ শতাংশ। সব মিলিয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছে মাত্র ৫৩ জন।

গত বছর জেলায় পাসের হার ছিল ৪৫ দশমিক ৩৯ শতাংশ। সে বছর জিপিএ-৫ পেয়েছিল ২০৬ জন। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যা কমেছে ১৫৩ জন।

আরও পড়ুন: রাসিকের এ্যাসফল্ট প্লান্ট পরিদর্শনে প্রশাসক রিটন

ভালো ফল করা কলেজ

শতভাগ পাস করা রামু ক্যান্টনমেন্ট ইংলিশ স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এবার ৬ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সবাই উত্তীর্ণ হয়েছে।

এ ছাড়া পাসের হারে জেলার শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান কক্সবাজার সরকারি কলেজ। এ কলেজের ১ হাজার ২২৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ৯৪৭ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪৪ জন। পাসের হার ৭৭ দশমিক ৪৩ শতাংশ।

রামু ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ২৯ জনের মধ্যে পাস করেছে ২২ জন। পাসের হার ৭৫ দশমিক ৮৬ শতাংশ। কক্সবাজার ডিসি কলেজে ১৮৮ জনের মধ্যে পাস করেছে ১২১ জন। পাসের হার ৬৪ দশমিক ৩৬ শতাংশ।

আরও পড়ুন: মিয়ানমারে পাচারের সময় ৪০ হাজার কেজি সিমেন্টসহ ৪ জন আটক

কক্সবাজার সরকারি মহিলা কলেজে ৯৬৫ জনের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৫৮১ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ জন। পাসের হার ৬০ দশমিক ২১ শতাংশ।

চকরিয়া শহীদ জিয়াউর রহমান উপকূলীয় কলেজে ৫৯৯ জনের মধ্যে পাস করেছে ৩০৬ জন। পাসের হার ৫১ দশমিক ৯ শতাংশ। রামু সরকারি কলেজে ১ হাজার ৬২ জনের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৫৩৯ জন। পাসের হার ৫০ দশমিক ৭৫ শতাংশ।

উত্তরণ মডেল কলেজে ৬৪ জনের মধ্যে পাস করেছে ৩০ জন। পাসের হার ৪৬ দশমিক ৮৮ শতাংশ। চকরিয়া সরকারি কলেজে ১ হাজার ৯৭ জনের মধ্যে পাস করেছে ৫০০ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে একজন। পাসের হার ৪৫ দশমিক ৫৮ শতাংশ।

উখিয়া সরকারি মহিলা কলেজে ৬১০ জনের মধ্যে পাস করেছে ২৭৩ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে একজন। পাসের হার ৪৪ দশমিক ৭৫ শতাংশ। মহেশখালী ডিগ্রি কলেজে ৩৭২ জনের মধ্যে পাস করেছে ১৬০ জন। পাসের হার ৪৩ দশমিক ১ শতাংশ।

আরও পড়ুন: বাঘারপাড়া ডিগ্রি কলেজে গাছের ডাল ছাঁটাইয়ের নামে লগ কাটার অভিযোগে মানববন্ধন

বেশির ভাগ কলেজে হতাশাজনক ফল

জেলার অন্যান্য কলেজের ফলাফল আরও হতাশাজনক। মহেশখালী সরকারি মহিলা কলেজে ৪৬৬ জনের মধ্যে পাস করেছে ১৮১ জন। পাসের হার ৪০ দশমিক ৫৮ শতাংশ।

চকরিয়া আবাসিক মহিলা কলেজে ৪৬৬ জনের মধ্যে পাস করেছে ১৮২ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে একজন। পাসের হার ৩৮ দশমিক ২৬ শতাংশ। ডুলাহাজারা কলেজে ৪২৬ জনের মধ্যে পাস করেছে ১৬৩ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে একজন। পাসের হার ৩৮ দশমিক ২৬ শতাংশ।

কুতুবদিয়া সরকারি কলেজে ৫৩৬ জনের মধ্যে পাস করেছে ১৯২ জন। পাসের হার ৩৫ দশমিক ৮২ শতাংশ। ঈদগাঁও রশিদ আহমদ কলেজে ৩৪৩ জনের মধ্যে পাস করেছে ১০৪ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ জন। পাসের হার ৩০ দশমিক ৩২ শতাংশ। উখিয়া ডিগ্রি কলেজে ৫০২ জনের মধ্যে পাস করেছে মাত্র ১৪৪ জন। পাসের হার ২৮ দশমিক ৬৯ শতাংশ।

আরও পড়ুন: কিশোরগঞ্জে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের ৪ সদস্য দেশীয় অস্ত্রসহ গ্রেফতার

কক্সবাজার সিটি কলেজে ৯৩৭ জনের মধ্যে পাস করেছে মাত্র ২৪৭ জন। কোনো শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পায়নি। পাসের হার ২৬ দশমিক ৩৬ শতাংশ। টেকনাফ সরকারি কলেজে ৭৪১ জনের মধ্যে পাস করেছে ১৯২ জন। কোনো শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পায়নি। পাসের হার ২৫ দশমিক ৯১ শতাংশ।

বদরখালী কলেজে ১৭৩ জনের মধ্যে পাস করেছে মাত্র ৪৩ জন। পাসের হার ২৪ দশমিক ৮৬ শতাংশ। কক্সবাজার কমার্স কলেজে ১৫৭ জনের মধ্যে পাস করেছে ৩৫ জন। পাসের হার ২২ দশমিক ২৯ শতাংশ। মহেশখালীর হোয়ানক কলেজে ৮৮ জনের মধ্যে পাস করেছে ১৯ জন। পাসের হার ২১ দশমিক ৫৯ শতাংশ।

কুতুবদিয়া মহিলা কলেজে ১১৪ জনের মধ্যে পাস করেছে ২১ জন। পাসের হার ১৮ দশমিক ৪২ শতাংশ। কক্সবাজার হাভার্ড কলেজে ৮১ জনের মধ্যে পাস করেছে মাত্র ১০ জন। পাসের হার ১২ দশমিক ৩৫ শতাংশ। কুতুবদিয়া ধুরুং স্কুল অ্যান্ড কলেজে ৭৯ জনের মধ্যে পাস করেছে মাত্র ৭ জন। পাসের হার ৮ দশমিক ৮৬ শতাংশ।

জেলার সবচেয়ে খারাপ ফল করেছে চকরিয়া সিটি কলেজ। এ কলেজের ১৩৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে মাত্র ৯ জন। পাসের হার ৬ দশমিক ৭২ শতাংশ।

আরও পড়ুন: জামালপুরে কৃষক লীগ নেত্রী পুতুল রাণী গ্রেপ্তার, কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ

গত এক দশকের ফলাফল

জেলার গত এক দশকের এইচএসসি ফলাফল পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০২৩ সালে পাসের হার ছিল ৭০ দশমিক ৩৮ শতাংশ। ২০২২ সালে ৭৪ দশমিক ৯২ শতাংশ এবং ২০২১ সালে ৮৬ দশমিক ৮৮ শতাংশ। ২০২০ সালে করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে পরীক্ষা ছাড়াই সব পরীক্ষার্থীকে উত্তীর্ণ ঘোষণা করা হয়।

এর আগে ২০১৯ সালে পাসের হার ছিল ৫৪ দশমিক ৩৯ শতাংশ, ২০১৮ সালে ৬১ দশমিক ৬৬ শতাংশ, ২০১৭ সালে ৫৫ দশমিক ৩২ শতাংশ এবং ২০১৬ সালে ৬৪ দশমিক ৮০ শতাংশ।

সার্বিক ফলাফল বলছে, কক্সবাজারের উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষায় এবার বড় ধরনের ধস নেমেছে। বিশেষ করে অধিকাংশ কলেজে জিপিএ-৫ না পাওয়া এবং কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে পাসের হার ১০ শতাংশের নিচে নেমে আসা শিক্ষার মান নিয়ে নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঠদান, শিক্ষক-শিক্ষার্থী উপস্থিতি, নিয়মিত মূল্যায়ন ও শিক্ষা প্রশাসনের তদারকি বাড়ানোর দাবি উঠেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

লঘুচাপ নিম্নচাপে পরিণত, সমুদ্র বন্দরে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৩৬ পি.এম


লঘুচাপ নিম্নচাপে পরিণত, সমুদ্র বন্দরে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত

দক্ষিণপূর্ব বঙ্গোপসাগর এবং তৎসংলগ্ন আন্দামান সাগরে অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপটি আরও ঘনীভূত হয়ে নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। এই পরিস্থিতির কারণে চারটি সমুদ্র বন্দরকে ১ নম্বর দূরবর্তী সতর্ক সংকেত প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাতে আবহাওয়া অধিদফতরের বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, নিম্নচাপটি দুপুর ১২টায় চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দর থেকে ১ হাজার ৩৭৫ কিলোমিটার দক্ষিণে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ২৯৫ কিলোমিটার দক্ষিণে, মোংলা সমুদ্র বন্দর থেকে ১ হাজার ৩৯৫ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং পায়রা সমুদ্র বন্দর থেকে ১ হাজার ৩৪৫ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছিল। এটি পশ্চিম উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে আরও ঘণীভূত হতে পারে।

নিম্নচাপ কেন্দ্রের ৪৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৪০ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। নিম্নচাপ কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় সাগর উত্তাল রয়েছে। এই কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরকে ১ নম্বর দূরবর্তী সতর্ক সংকেত প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া, উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত গভীর সাগরে বিচরণ না করতে বলা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নিজগাঁও গ্রামে দুই পক্ষের সংঘর্ষে নিহত ১, এলাকায় উত্তেজনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শাল্লা (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৩৬ পি.এম


নিজগাঁও গ্রামে দুই পক্ষের সংঘর্ষে নিহত ১, এলাকায় উত্তেজনা

সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায় জায়গা-জমি নিয়ে বিরোধ ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে মন্নার মিয়া (৬০) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ১৬ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার আটগাঁও ইউনিয়নের নিজগাঁও গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নিহত মন্নার মিয়া ওই গ্রামের আব্দুল হেকিমের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিজগাঁও গ্রামের আজব আলী ও রুপ মিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জায়গা-জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এর সঙ্গে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের দ্বন্দ্বও জড়িয়ে পড়ে বলে স্থানীয়দের দাবি।

শনিবার দুপুরে বিরোধপূর্ণ একটি জায়গায় রুপ মিয়া বেড়া দিলে আজব আলীর পক্ষের লোকজন তা তুলে ফেলতে যান। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে প্রথমে বাগ্‌বিতণ্ডা ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে দুই পক্ষের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।

সংঘর্ষে রূপ মিয়ার পক্ষের মন্নার মিয়া গুরুতর আহত হন। পরে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

এ বিষয়ে আটগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আন নোমানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আজব আলী ও রুপ মিয়ার পক্ষের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে প্রায় ১৬ জন আহত হয়েছেন। রুপ মিয়ার পক্ষের একজন মারা গেছেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে শাল্লা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সোহেল বলেন, ‘আমি ঘটনাস্থলে আছি। বিস্তারিত পরে জানাচ্ছি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জামায়াত ছাড়লেন অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির, চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে সমর্থন চাইলেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৩৬ পি.এম


জামায়াত ছাড়লেন অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির, চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে সমর্থন চাইলেন

কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার রাজাখালী ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্টের মাধ্যমে তিনি এই ঘোষণা দেন।

অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির চট্টগ্রাম দায়রা জজ আদালতের আইনজীবী হিসেবে পরিচিত। তিনি পেকুয়া উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর রোকন সদস্য এবং রাজাখালী ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।

২০১৬ এবং ২০২১ সালের রাজাখালী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তিনি জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন।

ফেসবুক পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, ‘আজকে থেকে জামায়াতে ইসলামী থেকে বিদায় নিলাম। রাজাখালী জামায়াতে ইসলামী ন্যায়-ইনসাফ টাকার বিনিময়ে প্রতিষ্ঠা করেছে। টাকার বিনিময়ে বিক্রি হওয়া ব্যক্তিরা ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করবে।’

অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, দলের রাজনৈতিক পরিস্থিতির কঠিন সময়ে যখন অনেকে নিজেদের জামায়াত পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক ছিলেন, তখন তিনি ভয়-ভীতি উপেক্ষা করে সংগঠনের হয়ে মাঠে সক্রিয় ছিলেন। সেই সময় তাকে সামনে রেখেই রাজাখালীতে জামায়াতের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে তাকে অবমূল্যায়ন করা হয়েছে, তাই তিনি স্বেচ্ছায় জামায়াতের রাজনীতি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

তিনি আরো বলেন, আমি জনগণের মনোনীত রাজাখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ইনশাআল্লাহ। আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সকলের দোয়া ও সমর্থন কামনা করছি।

অন্যদিকে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা ইমতিয়াজ উদ্দিন বলেন, হুমায়ুন কবিরের দল ছাড়ার বিষয়টি তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত হতে পারে। সংগঠনের নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে জেলা আমির অধ্যক্ষ নুর আহমদ আনোয়ারী এবং সাংগঠনিক সেক্রেটারি দেলোয়ার হোসাইন ও আল আমিন মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলামের উপস্থিতিতে চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। এখানে ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ, অর্থ বা প্রভাবের কোনো বিষয় নেই।

তিনি আরো বলেন, ‘সংগঠনের পক্ষ থেকে যোগ্যতা, সাংগঠনিক অবস্থান, জনসম্পৃক্ততা ও নির্বাচনী সার্বিক সক্ষমতাসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করেই প্রার্থী নির্ধারণ করা হয়েছে। এ নিয়ে কারও কোনো অভিযোগ বা বক্তব্য থাকার কথা নয়।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফয়’স লেকে চসিকের অভিযান, অবৈধ স্থাপনা ও দোকানপাট উচ্ছেদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৩৭ পি.এম


ফয়’স লেকে চসিকের অভিযান, অবৈধ স্থাপনা ও দোকানপাট উচ্ছেদ

চট্টগ্রাম, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬ : শহরের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র ফয়’স লেক এলাকায় ফুটপাত মুক্ত করার উদ্দেশ্যে, পরিবেশের সৌন্দর্য রক্ষা এবং জনগণের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) একটি বিশেষ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছে। অভিযানে ফুটপাত দখল করে গড়ে ওঠা বিপুলসংখ্যক অবৈধ স্থাপনা ও দোকানপাট উচ্ছেদ করা হয়েছে।

আজ শনিবার সকালে, চসিক প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেনের উপস্থিতিতে ফয়’স লেক-চিড়িয়াখানা এলাকায় এই অভিযান ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু হয়।

অভিযানের সময়, প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেন মন্তব্য করেন, ‘ফুটপাত পথচারীদের নির্বিঘ্নে চলাচলের জন্য, অবৈধ দখলদারদের ব্যবসা পরিচালনার জন্য নয়। নগরীর ফুটপাত ও সড়ক দখল করে জনসাধারণের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করলে তা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। নগরবাসীর চলাচলের সুবিধা নিশ্চিত করতে অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে।’

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ফয়’স লেক চট্টগ্রামের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্র। এই এলাকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, পরিবেশ ও পরিচ্ছন্নতা রক্ষায় সকলকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। একটি পরিচ্ছন্ন, দৃষ্টিনন্দন ও বাসযোগ্য নগরী গড়ে তুলতে চসিকের পাশাপাশি নগরবাসীকেও সচেতন হতে হবে।

প্রশাসক জানান, নগরীর ফুটপাত ও জনসাধারণের চলাচলের স্থান দখলমুক্ত রাখা, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং পর্যটন কেন্দ্রগুলোর পরিবেশ ও সৌন্দর্য সংরক্ষণে চসিকের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৭
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৩
মাগরিব ০৫:২০
ইশা ০৬:৩২
সূর্যোদয় : ০৬:০৪ সূর্যাস্ত : ০৫:২০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%