০৯:৪২ পি.এম
এই গল্পটি শুধু সাহসিকতার নয়, এটি অসম্ভবকে জয় করার এবং বিশ্বাসের একটি জাদুকরী উপাখ্যান। এক পায়ে ভর দিয়ে, হাতে ক্রাঞ্চ আর লাঠি নিয়ে যিনি রুখে দাঁড়িয়েছিলেন দুর্বৃত্তদের দলের বিরুদ্ধে, সেই বীরের নাম শেখ রহিমুল্লাহ। নেপালের রৌহতহাট জেলার রামপুরের এই ৩২ বছর বয়সী মানুষটি হয়তো কল্পনাও করতে পারেননি যে, তাঁর জীবনের এই মুহূর্তটি একদিন তাকে নিয়ে যাবে সোজা পবিত্র মক্কায়।
মাসকয়েক আগে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হঠাৎ করে ছড়িয়ে পড়ে। যেখানে দেখা যায়, এক প্রতিবন্ধী মুসলিম যুবক জীবনকে ঝুঁকিতে ফেলে মসজিদটি রক্ষার চেষ্টা করছেন। এক পা নেই তো কি হয়েছে, তবে তাঁর মনোবল তো পাহাড়সম! এই ভিডিওটি মুহূর্তেই গোটা মুসলিম বিশ্বে ভাইরাল হয়ে যায়। সৌদি আরবের সাধারণ কর্মী ও অ্যাক্টিভিস্টদের হৃদয়ে গভীর রেখাপাত করে ওই দৃশ্য। তারা সিদ্ধান্ত নেন, এই বীরকে খুঁজে বের করতেই হবে। ডিজিটাল দুনিয়ায় শুরু হয় বিরল এক সন্ধান।
অবশেষে সেই খোঁজ সফল হয়! গত ৫ আগস্ট, ২০২৬। সৌদি দাতা এবং আয়োজকদের উদ্যোগে অলৌকিক এক স্বপ্ন বাস্তব হয়ে ওঠে। যখন শেখ রহিমুল্লাহ তাঁর বাবা-মাকে সঙ্গে নিয়ে সৌদি আরবের মাটিতে পা রাখেন, তখন সেখানে মক্কা ও মদিনার সাধারণ মানুষ এবং বাসিন্দারা তাঁকে উপচে পড়া ভালোবাসা ও উপহারের ডালি দিয়ে শ্রদ্ধা প্রদর্শন করেন। এসময় কৃতজ্ঞতা ও ওমরাহ পালনের পবিত্র মুহূর্তগুলোর কথা মনে করে আজও এই বীরের চোখে জল আসে।
আরও পড়ুন: সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধের হাতিয়ার হতে পারে ‘চীন-পাকিস্তান তথ্য করিডর’
তবে এখানেই শেষ নয়। কেরালার তরুণ কনটেন্ট ক্রিয়েটর মোহাম্মদ রফির কথায়, সৌদি যুবকদের এই উদ্যোগ কেবল ওমরাহর মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। বদর অ্যাসোসিয়েশন স্বেচ্ছায় রহিমুল্লাহর পাশে এসেছে। হারানো একটি পায়ের বদলে খুব শীঘ্রই রহিমুল্লাহকে একটি আধুনিক কৃত্রিম অঙ্গ বা প্রোস্টেটিক লিম্ব দেওয়া হবে। যা তাঁর বাকি জীবনটা পরিবর্তন করে দেবে।
গত ১৪ আগস্ট, বুকভরা কৃতজ্ঞতা নিয়ে রহিমুল্লাহ এবং তাঁর পরিবার নেপালে ফিরে গেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন