১০:০৯ এম
বন সংরক্ষক এবং বন কর্মকর্তাদের যোগসাজশ দ্বারা পটুয়াখালী উপকূলের সংরক্ষিত বনাঞ্চল ঘিরে লাখ লাখ টাকার বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। এতে প্রভাবশালীদের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছেন জেলে এবং পশুপালনকারীরা। সরকারের আদেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে প্রবাহমান খালে বাঁধ প্রদান করা হচ্ছে।
অনিয়ম যেন একপ্রকার নিয়মে পরিণত হয়েছে পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার চর হায়দর, লাল চর ও আগলা চরের সংরক্ষিত বনাঞ্চলে। এই তিনটি চোরের আয়তন মোট ২২৯৫ একর।
অর্থ এবং বন কর্মকর্তাদের ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এসব বনাঞ্চল ব্যবহার করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বনখেঁকোরা। দশমিনা বন বিভাগের রেঞ্জ অফিসার মো. জাহাঙ্গীর হোসেন এবং চর হায়দরের বিট অফিসার রওশন হাসান থেকে মৌখিকভাবে টাকা দিয়ে নেছার রাড়িসহ কয়েকজন দশমিনার বাসিন্দা এই বনগুলো অবৈধভাবে লিজ নিয়ে থাকেন। তারা বনের গাছ ও মাটি কেটে দেশের উন্মুক্ত বনাঞ্চলের ভেতরে অবস্থিত খালে শতাধিক বাঁধ দিয়ে নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার করে মাছ ধরার জন্য জেলেদের কাছ থেকে বিপুল টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। টাকা না দিলে জেলেদের মাছ ধরার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না, ফলে অসংখ্য জেলে তাদের পেশা হারাচ্ছেন।
আরও পড়ুন: বরিশালে টিকটক করতে নিষেধ করায় ১৩ বছর বয়সী মাদরাসা ছাত্রীর আত্মহত্যা
এছাড়া এই বনাঞ্চলে মহিষ চড়ানোর জন্যও ২ হাজার টাকা করে নেয়া হচ্ছে। এতে পশু পালকদেরও ক্ষতিগ্রস্ত হতে হচ্ছে। প্রতিবাদ করতে গেলে হামলা-মামলাসহ নানান হয়রানির শিকার হচ্ছেন জেলে, পশুপালক এবং সাধারণ মানুষদের। এসব বনখেকোদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্থানে ধরনা দিলেও মিলছে না কোন প্রতিকার।
এই বিষয়ে দশমিনা উপজেলার রেঞ্জ অফিসার মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, কাউকে বনাঞ্চল লিজ দেয়া হয়নি। তবে যারা কেউ দলীয় প্রভাব বিস্তার করছে, তারা অভিযোগ করেন যে, গাছ কেটেছে। এ ব্যাপারে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পটুয়াখালী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিজন কুমার নন্দী বলেছেন, বনাঞ্চলের মধ্যে চাইসহ অন্যান্য অবৈধ জাল দিয়ে মাছ ধরার ফলে মৎস্য সম্পদের ক্ষতি হচ্ছে।
উপকূলীয় বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষণ কর্মকর্তা মোসা. নুরুন্নাহার বলেন, সংরক্ষিত বনভূমি লিজ দেয়া সম্ভব নয়। খালগুলো দ্রুত অবমুক্ত করাসহ অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আরও পড়ুন: রংপুরে ইয়াবাসহ যুবদল নেতাকে আটক করে পুলিশে দিল জনতা
পটুয়াখালী জেলার মোট ভূমির প্রায় ২% বনাঞ্চল রয়েছে। জেলার মোট আয়তন ৩,২২১.৩১ বর্গকিলোমিটার, যার মধ্যে সরকারি বনাঞ্চল প্রায় ৬০ থেকে ৬৫ বর্গকিলোমিটার বা তাও কম। এই বনাঞ্চলের বেশিরভাগই সমুদ্র তীরবর্তী সংরক্ষিত ম্যানগ্রোভ বা শ্বাসমূলীয় বন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন