০৯:১৯ এম
চার দশক ধরে চলা রক্তক্ষয়ী সংঘাতের ইতি টানতে তুরস্ক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
নিষিদ্ধ ঘোষিত সশস্ত্র গোষ্ঠী কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টি (পিকেকে)-কে আনুষ্ঠানিকভাবে বিলুপ্তি করার এবং এর সদস্যদের সাধারণ জীবনে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে দেশটির সংসদ একটি নতুন আইন পাস করেছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) রাতে ব্যাপক রাজনৈতিক সমর্থনে এই বিলটি অনুমোদিত হয়।
আরও পড়ুন: গৃহবন্দির শর্ত পূরণে জরিমানা পরিশোধ করলেন মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক
নতুন আইনি কাঠামোর অধীনে যেসব প্রাক্তন জঙ্গি সরাসরি কোনো অপরাধ বা সহিংসতায় জড়িত ছিলেন না, তাদের আইনি সুরক্ষা প্রদান করা হবে।
এ ছাড়া শুধু পিকেকে-র সদস্য হওয়ার অপরাধে যারা কারাদণ্ড ভোগ করেছিলেন, তাদের সাজা স্থগিত করা হবে।
এটি সশস্ত্র পথ ছেড়ে আসা হাজার হাজার সদস্যের সমাজে পুনর্বাসনের পথ সুগম করছে। তুরস্কের ৬০০ আসনের আইনসভায় ৪৬৮টি বিপুল ভোটে বিলটি পাস হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের ক্ষমতাসীন একে পার্টি, জাতীয়তাবাদী জোটসঙ্গী এমএইচপি ও কুর্দিপন্থী ডিইএম পার্টি—রাজনৈতিকভাবে ভিন্ন মেরুর এই দলগুলো বিলে যৌথ সমর্থন প্রদান করে।
আরও পড়ুন: কিউবায় সাংবাদিক ইয়োয়ানি সানচেজ ও দুই মানবাধিকারকর্মী মুক্তি পেলেন
দীর্ঘ চার দশকের সংঘাত নিরসনে এটি আঙ্কারার নেওয়া সবচেয়ে বড় আইনি পদক্ষেপ, যার সূচনা ২০২৪ সালের অক্টোবরে জাতীয়তাবাদী নেতা দেভলেত বাহচেলির আহ্বানে নতুন করে শান্তি আলোচনা শুরু হওয়ার মাধ্যমে ঘটেছিল।
পরে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ১৯৯৯ সাল থেকে কারারুদ্ধ পিকেকে নেতা আবদুল্লাহ ওকালান সংগঠন নিরস্ত্রীকরণের আহ্বান জানালে মে মাসে পিকেকে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের সশস্ত্র সংগ্রামের অবসান ঘোষণা করে।
জুলাই মাসে উত্তর ইরাকে একটি প্রতীকী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পিকেকে যোদ্ধারা অস্ত্র পুড়িয়ে ফেলে এই প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত রূপ দেয়।
১৯৮৪ সাল থেকে শুরু হওয়া এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতে চল্লিশ হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু ঘটেছে।
আরও পড়ুন: ট্রাম্প: ইউক্রেন ইস্যুতে রাশিয়ার সঙ্গে চুক্তির কাছাকাছি যুক্তরাষ্ট্র
এই সংঘাতে তুরস্কের কুর্দি অধ্যুষিত দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে মারাত্মক অর্থনৈতিক ধ্বস নেমে আসে।
তুর্কি সরকার এই বিলের পাসকে ‘সন্ত্রাসমুক্ত তুরস্ক’ গড়ার একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে বর্ণনা করেছে।
কিন্তু কুর্দি রাজনৈতিক দলগুলোর মতে, পূর্ণাঙ্গ ও স্থায়ী শান্তির জন্য রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক অধিকার নিশ্চিত করে আরো বিস্তৃত আইনি সংস্কার প্রয়োজন।
আরও পড়ুন: ঢাকায় ২৪ ঘণ্টার অভিযানে আটক ৫৪৪ জন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন