ঢাকা রবিবার, ০৮ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২৩শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৭শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ০৮ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২৩শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

বিশ্বকাপে বাড়ছে ভিএআরের বিতর্কিত সিদ্ধান্ত


বিশ্বকাপে বাড়ছে ভিএআরের বিতর্কিত সিদ্ধান্ত

বিশ্বকাপের শুরুতে প্রশ্ন উঠেছিল, এবারের আসরে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) কি আগের তুলনায় ভিন্নভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে? এক সপ্তাহের মধ্যেই সেই প্রশ্নটি আরও জোরালো হয়েছে। কারণ, একের পর এক বিতর্কিত সিদ্ধান্তের পর দর্শক, খেলোয়াড় ও বিশ্লেষকদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে যে ঠিক কোন পরিস্থিতিতে ভিএআরের হস্তক্ষেপ করা হবে এবং কোনটিতে করা হবে না।

ঘানার বিপক্ষে ইংল্যান্ডের ম্যাচে পেনাল্টির দাবি, স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ব্রাজিলের বাতিল হওয়া গোল কিংবা ইকুয়েডরের বিপক্ষে জার্মানির প্রথম গোল। সব মিলিয়ে ভিএআরের সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র বিতর্ক চলছে।

পরিসংখ্যান বলছে, এবারের বিশ্বকাপে ভিএআরের ব্যবহারের হার ইংল্যান্ডের শীর্ষ লিগের সঙ্গে প্রায় একই। ইংল্যান্ডে গত মৌসুমে প্রতি ম্যাচে গড়ে ভিএআর ব্যবহার হয়েছিল ০.২৯ বার, আর বিশ্বকাপে তা ০.২৮। মাঠের রেফারিকে পর্দায় গিয়ে সিদ্ধান্ত দেখতে হয়েছে ইংল্যান্ডে গড়ে ০.১৫ বার, বিশ্বকাপে সেই সংখ্যা ০.১৭।

আরও পড়ুন: মাদারীপুরে কৃষককে কুপিয়ে জখম, প্রধান আসামি জাকির গ্রেফতার

আসর যত এগোচ্ছে, ততই স্পষ্ট হচ্ছে যে ভিএআরের ক্ষেত্রে একই মানদণ্ড ধরে রাখা সহজ নয়।

রেফারিদের প্রধান হিসেবে দায়িত্বে থাকা পিয়েরলুইজি কলিনা বলেন, ফুটবল যেন গতি এবং শারীরিক লড়াইয়ের সৌন্দর্য ধরে রাখে। তার মতে, সব ধরনের শারীরিক সংস্পর্শ ফাউল নয়। ফলে মাঠে যদি আরও বেশি কঠিন ট্যাকল খেলার অংশ হিসেবে মেনে নেওয়া হয়, তাহলে ভিএআরকে সেই মানদণ্ডে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। আর তখন কোন ভুলকে ‘স্পষ্ট ও সুস্পষ্ট ভুল’ বলা হবে, সেটি নির্ধারণ করাই কঠিন হয়ে পড়ে।

এই সমস্যার সবচেয়ে বড় উদাহরণ দেখা গেছে চলতি সপ্তাহে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে ঘানার প্রিন্স কওয়াবেনা আদুকে বেপরোয়া ট্যাকল করেছিলেন এজরি কনসা। অনেকের মতে সেটি স্পষ্ট পেনাল্টি হওয়া উচিত ছিল। কিন্তু ভিএআরের ব্যবহার হয়নি। ম্যাচ শেষে ঘানার কোচ কার্লোস কুইরোজ তা নিয়ে ব্যঙ্গ করে বলেন, “মনে হয় ভিএআর তখন কফি খেতে গিয়েছিল।”

পরদিন স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ব্রাজিলের একটি গোল বাতিল হয়। কারণ, গোল হওয়ার পূর্বে ভিনিসিয়াস জুনিয়রের বিরুদ্ধে ফাউলের সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছিল। অথচ রিপ্লেতে দেখা যায়, বরং স্কটল্যান্ডের জ্যাক হেনড্রিই আগে ভিনিসিয়াসকে আঘাত করেছিলেন। অনেক বিশ্লেষকের মতে, এটি ভিএআর ব্যবহারের জন্য যথেষ্ট পরিষ্কার পরিস্থিতি ছিল না।

আরও পড়ুন: সারজিস আলম: গণহত্যাকারী হাসিনার অলীক ডিসেম্বর বাংলাদেশে আসবে না

সবচেয়ে বড় বিতর্ক তৈরি হয় জার্মানি-ইকুয়েডর ম্যাচে। জার্মানির প্রথম গোলের আগে আলেক্সান্দার পাভলোভিচের উঁচু পা সরাসরি পেদ্রো ভিতের মাথায় লাগে। অনেকের মতে, এটি স্পষ্ট ফাউল হওয়া উচিত ছিল এবং গোলটি বাতিল হওয়া উচিত ছিল। কিন্তু তা হয়নি।

ইংল্যান্ডের সাবেক গোলরক্ষক জো হার্ট বলেন, “বিশ্বকাপের প্রতিটি খেলোয়াড়ই এই দৃশ্য দেখে বলবে, এটি প্রতিপক্ষের জন্য বিপজ্জনক ছিল, এটি ফাউল। সিদ্ধান্তটি ভুল হয়েছে।”

সাবেক ইংল্যান্ড ফরোয়ার্ড এলেন হোয়াইটও বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, “আমি অবাক হয়েছি, ঘটনাটি অন্তত পুনরায় দেখা হলো না।”

তবে একই ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে জার্মানিকে দেওয়া একটি পেনাল্টি ভিএআরের পরামর্শে বাতিল করা হয়। কারণ, আক্রমণ শুরুর আগে মাঝমাঠে লেরয় সানের ফাউল ধরা হয়। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে যে যদি সেই ফাউল ধরা যায়, তাহলে পাভলোভিচের বিপজ্জনক ট্যাকল কেন উপেক্ষিত হলো। এমন সিদ্ধান্তগুলো থেকেই অসামঞ্জস্যের অভিযোগ আরও জোরালো হয়েছে।

আরও পড়ুন: জিয়া সেদিন তাহেরের সাথে ক্যান্টনমেন্টের বাইরে গেলে ফিরে আসতেন না: ব্রি. সাখাওয়াত

এখন পর্যন্ত বড় দলগুলোর বিরুদ্ধে ভিএআরের বিতর্কিত সিদ্ধান্ত খুব কমই গিয়েছে। ব্রাজিলের বাতিল হওয়া গোল এবং জার্মানির বাতিল হওয়া পেনাল্টিই একমাত্র উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। অন্যদিকে, সেনেগালের বিপক্ষে ফ্রান্স পেনাল্টি না পেলে ভিএআরের পুনরায় দেখতে বলেছিলেন। শেষ পর্যন্ত মাঠের রেফারিই নিজের সিদ্ধান্ত বহাল রাখেন।

ভিএআর ব্যবহারের মূল নীতি ছিল ‘সর্বনিম্ন হস্তক্ষেপে সর্বোচ্চ সুফল’। কিন্তু সেটি কার্যকর করার জন্য মাঠের রেফারিদের সিদ্ধান্তও হতে হবে নির্ভুল। বিশ্বকাপের সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো অন্তত বলছে, সেই লক্ষ্য এখনও পুরোপুরি অর্জিত হয়নি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এবার পাকিস্তানেও আঘাত হানল ভূমিকম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ২৬শে জুন, ২০২৬ ইং

০৮:৩৬ পি.এম


এবার পাকিস্তানেও আঘাত হানল ভূমিকম্প

পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশের কোহলু জেলায় শুক্রবার (২৬ জুন) ৫ দশমিক ১ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। দেশটির জাতীয় ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র (এনএসএমসি) জানিয়েছে, এর কম্পন ঝোব, বারখান ও রাখনি জেলাতেও অনুভূত হয়েছে।

এনএসএমসির তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা ৪৮ মিনিটে হওয়া ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে ১৭ কিলোমিটার গভীরে এবং এর কেন্দ্রস্থল ছিল কোহলু শহরের ৬০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে।

ভূমিকম্পের পর বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। এর আগে শুক্রবার দুপুরেও কোহলু এলাকায় ভূমিকম্পের কম্পন অনুভূত হয়েছিল।

চলতি মাসের শুরুতে পাকিস্তানের লাহোর ও আশপাশের এলাকায় ৪ দশমিক ৯ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। ওই ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল কাশ্মীর অঞ্চলে এবং এর গভীরতা ছিল ১৮ কিলোমিটার।

ভূতাত্ত্বিক অবস্থানের কারণে পাকিস্তান ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ হিসেবে পরিচিত। দেশটি ভারতীয় ও ইউরেশীয় টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলের কাছে অবস্থিত হওয়ায় প্রায়ই ভূমিকম্পের ঝুঁকির মুখে থাকে।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ৫ দশমিক ৮ মাত্রার একটি ভূমিকম্প ইসলামাবাদ, সোয়াত ও হুনজা অঞ্চলে আঘাত হানে। এছাড়া ২০০৫ সালে আজাদ কাশ্মীরে সংঘটিত ভয়াবহ ভূমিকম্পে ৭৩ হাজারের বেশি মানুষ নিহত এবং লাখো মানুষ গৃহহীন হয়েছিল।

এর আগে স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৬ জুন) সন্ধ্যা ৭টা ৩৪ মিনিটে ফিলিপিন্সের দ্বিতীয় বৃহত্তম দ্বীপ মিনদানাওতে ৬.৪ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে।

জার্মান রিসার্চ সেন্টার ফর জিওসায়েন্সেস (জিএফজেড) এ তথ্য জানিয়েছে। ভূমিকম্পটি ভূপৃষ্ঠের ২৯ কিলোমিটার গভীরে সংঘটিত হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জাপানের জার্সিতে ইতিহাস গড়লেন ইউতো নাগাতোমো

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শুক্রবার, ২৬শে জুন, ২০২৬ ইং

০৮:৩৭ পি.এম


জাপানের জার্সিতে ইতিহাস গড়লেন ইউতো নাগাতোমো

জাপান বিশ্বকাপে ‘গ্রুপ’এফ-এ নিজেদের শেষ ম্যাচে সুইডেনের বিপক্ষে মাঠে নেমেছিল। এই ম্যাচে ইউতো নাগাতোমো, দলটির ডিফেন্ডার, ইতিহাস গড়লেন। তিনি প্রথম এশীয় ফুটবলার হিসেবে পাঁচটি ফিফা বিশ্বকাপ খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছেন।

৩৯ বছর বয়সী এই ডিফেন্ডার এর আগে ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা, ২০১৪ সালে, ২০১৮ সালে রাশিয়া এবং ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে জাপানের হয়ে মাঠে নামেন। সুইডেনের বিপক্ষে ম্যাচে নামার মাধ্যমে তিনি ফুটবল ইতিহাসে মাত্র দশম খেলোয়াড় হিসেবে পাঁচটি বা তার বেশি বিশ্বকাপে খেলার নজির গড়লেন।

লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ৬টি আসরে অংশগ্রহণ করেছেন, সেই সাথে আছেন লুকা মদ্রিচ, লুইস সুয়ারেজ, ম্যানুয়েল নয়্যার, লোথার ম্যাথাউস, আন্দ্রেস গুয়ার্দাদো, রাফায়েল মার্কেজ, আন্তোনিও কারবাহাল এবং ইউতো নাগাতোমো—যারা প্রত্যেকেই পাঁচটি করে আসরে মাঠে নামার সুযোগ পেয়েছেন।

‘গ্রুপ এফ’-এর শেষ ম্যাচে সুইডেনের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে জাপানের ধারাবাহিকতার বিষয়টিও ফুটে উঠেছে। গ্রুপের যোগ্যতার মাপকাঠি অনুযায়ী অবস্থান নিশ্চিত করে উভয় দলই ‘রাউন্ড অফ ৩২’-এ উন্নীত হয়েছে। শেষ ষোলোতে তাদের সামনে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের মুখোমুখি হতে হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মিশর-ইরান ম্যাচকে কেন্দ্র করে বিতর্কের ঝড়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শুক্রবার, ২৬শে জুন, ২০২৬ ইং

০৮:৩৯ পি.এম


মিশর-ইরান ম্যাচকে কেন্দ্র করে বিতর্কের ঝড়

বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে মিশর ও ইরানের ম্যাচকে ঘিরে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। আগামী শুক্রবার সিয়াটলে অনুষ্ঠিত হতে চলা এই ম্যাচে দর্শকদের রংধনু রঙের পতাকা নিয়ে স্টেডিয়ামে ঢোকার অনুমতি দিয়েছে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা (ফিফা)।

তবে এ বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে, কারণ যে দুই দেশ মাঠে নামছে সেখানে সমকামিতা আইনত অপরাধ। অন্যদিকে, ম্যাচের সময়েই সিয়াটলে চলছে ‘প্রাইড’ উদযাপন। ফলে স্থানীয় উৎসব এবং দুই দেশের সামাজিক অবস্থানের মধ্যে এক অস্বস্তিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।

গত বছরের ডিসেম্বরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ড্রয়ের সময় এই দুই দেশ একই গ্রুপে পড়ার পরই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে মিশর ও ইরান।

মিশরের ফুটবল সংস্থা জানিয়েছে, এই ধরনের অনুষ্ঠান তাদের সাংস্কৃতিক এবং ধর্মীয় মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। উল্লেখ্য, মিশর ও ইরান— উভয় দেশেই সমকামী মানুষদের বিরুদ্ধে কঠোর আইন রয়েছে।

ফিফা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ এমন একটি প্রতিযোগিতা যেখানে সব ধরনের মানুষকে স্বাগত জানানো হবে। যৌন পরিচয় বা লিঙ্গ পরিচয় নিয়ে কোন প্রশ্ন নেই, সকল সমর্থকই ম্যাচ দেখতে এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারবেন।

সংস্থার ঘোষণায় আরও বলা হয়েছে, মানবাধিকার, বৈচিত্র্য বা যৌন ও লিঙ্গ পরিচয়ের সমর্থনে ব্যবহৃত রংধনু পতাকা সহ অন্যান্য পতাকা স্টেডিয়ামের ভিতরে প্রদর্শনের অনুমতি থাকবে। তবে সেগুলি অবশ্যই বিশ্বকাপের স্টেডিয়াম আচরণবিধি অনুযায়ী ব্যবহার করতে হবে।

অন্যদিকে, পতাকা বা ব্যানারের আকার নিয়ে কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। পাশাপাশি, স্টেডিয়ামে এমন কোন সামগ্রী আনা যাবে না, যা রাজনৈতিক বার্তা বহন করে বা আচরণবিধির পরিপন্থী বলে মনে করা হয়।

এই ম্যাচকে ঘিরে অনেক জায়গায় ‘প্রাইড ম্যাচ’ বলছেন, তবে ফিফা স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, এর সাথে তাদের কোন সম্পর্ক নেই। সংস্থার দাবি, সিয়াটলে যে প্রাইড উদযাপন হচ্ছে তা স্থানীয় বিশ্বকাপ আয়োজক কমিটির উদ্যোগে হয়েছে, ফিফার নয়।

ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বলেছেন, ‘আমি পরিষ্কার করে বলতে চাই, বিশ্বকাপে কোন ‘প্রাইড ম্যাচ’ নেই। সিয়াটলে একটি বিশ্বকাপের ম্যাচ হবে। একই দিন শহরের বিভিন্ন জায়গায় অন্য সংস্থার আয়োজিত কিছু অনুষ্ঠানও চলবে। কিন্তু সেই অনুষ্ঠানগুলোর সাথে ম্যাচের কোনো সম্পর্ক নেই।’

এই মন্তব্যের মাধ্যমে ফিফা বোঝাতে চেয়েছে, বিশ্বকাপের ম্যাচ এবং স্থানীয় উৎসবকে একত্রিত করে দেখা ঠিক হবে না।

তবে স্থানীয় আয়োজকেরা এই উদযাপন বন্ধ করার কোন প্রশ্নই দেখছেন না। তাদের মতে, এটি বহু দশকের ঐতিহ্য এবং বিশ্বকাপের জন্য তা বদলানো হবে না। সিয়াটলের স্থানীয় বিশ্বকাপ আয়োজক কমিটির সদস্য হেডা ম্যাকলেনডন বলেছেন, ‘এই প্রাইড উদযাপন ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে একই সপ্তাহান্তে হচ্ছে। এ বছরও হবে, আবার বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পরেও চলতে থাকবে।’ তিনি আরও বলেন, এই অনুষ্ঠানকে তারা গ্রহণযোগ্যতা, বৈচিত্র্য এবং সকলের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবে দেখেন।

বিশ্বকাপে এই ধরনের বিতর্ক নতুন নয়। ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপেও ‘ওয়ান লাভ’ বাহুবন্ধনী পরে মাঠে নামার পরিকল্পনা ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। সে সময় ফিফা জানিয়েছিল, নিয়ম ভাঙলে ফুটবলারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। ফলে বিশ্বকাপে সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা নতুন কিছু নয়। তবে মিশর ও ইরানের ম্যাচকে ঘিরে সেই বিতর্ক আবারও সামনে এসেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মিডফিল্ডার হয়েও কেন ২ নম্বর জার্সি পরেন নরওয়ের ফুটবলার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শুক্রবার, ২৬শে জুন, ২০২৬ ইং

০৮:৪২ পি.এম


মিডফিল্ডার হয়েও কেন ২ নম্বর জার্সি পরেন নরওয়ের ফুটবলার

ফুটবল মাঠে জার্সির নম্বর সাধারণত নির্দিষ্ট পজিশনের পরিচিতি বহন করে। যেমন ডিফেন্ডারদের জন্য ২ নম্বর জার্সি পরিচিত, তেমনি মিডফিল্ডার বা ফরোয়ার্ডদের জন্য থাকে আলাদা নম্বরের প্রচলন। কিন্তু নরওয়ের মিডফিল্ডার মর্টেন থর্সবি এই প্রচলিত ধারা ভেঙে এক ভিন্ন রাস্তায় হাঁটছেন। তিনি নিজের জন্য বেছে নিয়েছেন ২ নম্বর জার্সি। যদিও এর পিছনে রয়েছে একটি ব্যতিক্রমী বার্তা।

থর্সবি ছিলেন শুধুমাত্র একজন পেশাদার ফুটবলার নয়, বরং তিনি জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় সক্রিয় একজন ক্রীড়াব্যক্তিত্ব। তার জার্সির ২ নম্বরটি কোনো কাকতালীয় পছন্দ নয়, বরং এটি প্রতীকী হিসেবে ব্যবহার করেন। এই সংখ্যা দিয়ে তিনি বিশ্ববাসীকে জানাতে চান, প্যারিস জলবায়ু চুক্তির লক্ষ্য অনুযায়ী বৈশ্বিক উষ্ণতা ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা আবশ্যক।

মাঠে থর্সবি যেমন লড়াকু, মাঠের বাইরে তেমনি তিনি পরিবেশ সচেতন একজন নাগরিক। তার জীবনযাপনে এর প্রভাব স্পষ্ট দেখা যায়। তিনি নিয়মিত সাইকেল ব্যবহার করে অনুশীলনে যান এবং সম্ভব হলে বিমান ভ্রমণের পরিবর্তে ট্রেনকেই বেছে নেন, যাতে কার্বন নিঃসরণ কম হয়।

তার এই পরিবেশবান্ধব অবস্থান নতুন নয়। নেদারল্যান্ডসের ক্লাব হিরেনভিনে খেলার সময়ও তিনি ক্লাব কর্তৃপক্ষকে স্টেডিয়ামে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের উদ্যোগ নিতে উৎসাহিত করেছিলেন। পরবর্তীতে সেখানে পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ব্যবহারের পথে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা যায়।

২০২৬ বিশ্বকাপে নরওয়ে কঠিন গ্রুপে থাকলেও থর্সবির চিন্তার একটি বড় অংশ ছিল দলের যাতায়াত ও পরিবেশগত প্রভাব। নিউইয়র্ক ও বোস্টনে ম্যাচ থাকায় দীর্ঘ ভ্রমণের সম্ভাবনা ছিল, কিন্তু কম ফ্লাইট ব্যবহারের সুযোগ থাকায় তিনি কিছুটা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।

মর্টেন থর্সবির মতে, খেলাধুলার জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে পরিবেশ নিয়ে সচেতনতা বাড়ানো সম্ভব। তাই জার্সির নম্বরকেও একটি বার্তা হিসেবে ব্যবহার করছেন তিনি। ফুটবলে যে নম্বর সাধারণত ডিফেন্ডাররা পরেন, মর্টেন থর্সবি কেবল পরিবশের জন্য বার্তা দিতেই সেই ২ নম্বর জার্সি গায়ে জড়িয়েছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৭শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫১
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪০
মাগরিব ০৫:১৬
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৮ সূর্যাস্ত : ০৫:১৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%