ঢাকা বুধবার, ০৪ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৯ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৩শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ০৪ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৯ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতির সময়ে স্বল্প বেতনে শ্রমিকদের জীবনযাপন অসম্ভব: ডা. শফিকুর রহমান


নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতির সময়ে স্বল্প বেতনে শ্রমিকদের জীবনযাপন অসম্ভব: ডা. শফিকুর রহমান

দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতির এই কঠিন সময়ে স্বল্প বেতনে পোশাক শ্রমিকদের পক্ষে বেঁচে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়েছে, এমন মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদীয় বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন যে, সংকট নিরসনে উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে জরুরি ভিত্তিতে শ্রমিকদের বেতন কাঠামো পুনর্বিন্যাস করা উচিত।

বুধবার দলের অফিশিয়াল প্ল্যাটফর্মে প্রচারিত এক ভিডিও বার্তায় পোশাক শিল্পে চলমান শ্রমিক আন্দোলন ও সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

ভিডিও বার্তায় জামায়াত আমির উল্লেখ করেন, বেশ কয়েক দিন ধরে দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চল এলাকায় পোশাক শ্রমিকরা বেতন বৃদ্ধিসহ নানা দাবিতে আন্দোলন করছেন। এই আন্দোলনের ফলে অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে এবং কিছু জায়গায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাও ঘটেছে।

আরও পড়ুন: দুদকের সংবাদ সম্মেলন চ্যালেঞ্জে আসিফ মাহমুদ রিট শুনানি শেষ, আদেশ ১১ নভেম্বর

গাজীপুরের শ্রীপুরে পোশাক শ্রমিক নিহত হওয়ার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা লক্ষ্য করেছি গতকাল গাজীপুরের শ্রীপুরে গাইবান্ধার সন্তান পোশাক শ্রমিক তৌফিককে হত্যা করা হয়েছে। আমি এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং দ্রুত সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের আইনের আওতায় আনার দাবি করছি।’

দেশের প্রধান রপ্তানি খাতের গুরুত্ব স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, যদি তৈরি পোশাক খাতে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসে, তবে দেশের পুরো অর্থনীতি মুখ থুবড়ে পড়বে। সরকার এখনো সংকট নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নিতে পারেনি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করেছিলাম সরকার দ্রুত এই সমস্যার যৌক্তিক সমাধানে পৌঁছাবে। কারণ, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই সময়ে স্বল্প বেতনে শ্রমিকদের পক্ষে জীবন ধারণ করা সত্যিই অসম্ভব। উভয় পক্ষের সাথে আলোচনা করে অবিলম্বে বেতন কাঠামো পুনর্বিন্যাস করা প্রয়োজন ছিল।’

তিনি আরও বলেন, ‘এটা ঠিক যে শিল্প বাঁচলে দেশ বাঁচবে, কিন্তু এটাও সমভাবে সত্য যে শ্রমিক বাঁচলে শিল্প বাঁচবে। শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা নিশ্চিত করতে সরকারকে কালক্ষেপণ না করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সিদ্ধান্ত নিতে যত দেরি হবে, ক্ষতির পরিমাণ ততই বাড়বে।’

অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে কোনো তৃতীয় পক্ষ বা সুযোগসন্ধানীরা যেন ফায়দা লুটতে না পারে, সেজন্য সরকার ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও আন্তরিকতা প্রদর্শনের আহ্বান জানান জামায়াত আমির।

আরও পড়ুন: রাজবাড়ীতে সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী কাজী কেরামত আলী নতুন মামলায় শ্যোন অ্যারেস্ট

একই সঙ্গে শ্রমিক ভাই-বোনদের নিজেদের প্রতিষ্ঠান রক্ষায় সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা আপনাদের ন্যায্য অধিকারের পক্ষে আছি, তবে নিজেদের প্রতিষ্ঠানকে অক্ষত রাখুন। কারণ শিল্প বেঁচে থাকলেই আপনারাও বেঁচে থাকবেন।’ পাশাপাশি কারখানা মালিকদের উদ্দেশে তিনি শ্রমিকদের পরিবারের সদস্য হিসেবে বিবেচনা করে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে সিদ্ধান্ত গ্রহণের অনুরোধ জানান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিদ্যা বিকাশ পাঠাগার: সহপাঠীর বাইরে শিশুর নতুন সঙ্গী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৩৩ পি.এম


বিদ্যা বিকাশ পাঠাগার: সহপাঠীর বাইরে শিশুর নতুন সঙ্গী

ক্লাস শুরু হতে তখনো কিছু সময় বাকি। বিদ্যালয়ের এক কোণে রাখা বইয়ের আলমারি। তার সামনে জড়ো হয়েছে উম্মে হাবিবা, সাদিয়া, আহনাফ তাহমিদ, নওরিনসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী। শিক্ষার্থীরা চতুর্থ এবং পঞ্চম শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে।

আলমারির মধ্যে সাজানো রয়েছে বিভিন্ন ধরনের বই। সেখান থেকে কেউ বেছে নিচ্ছে রূপকথার গল্প, কেউ খুঁজছে বিজ্ঞানবিষয়ক বই। কেউ পছন্দের বইটি বাড়িতে নিয়ে যেতে নিজের নাম লিখছে রেজিস্ট্রার খাতায়। পছন্দের বইটি হাতে পেয়ে শিশুদের চোখেমুখে ফুটে উঠছে আনন্দ। বিদ্যা বিকাশ পাঠাগার শিশুদের এই আনন্দ এনে দিয়েছে।

শহর থেকে দূরে

কুমিল্লা সদর থেকে প্রায় ১৩ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে লালমাই অবস্থিত। মেঠোপথ, সবুজ প্রকৃতি আর হিমেল হাওয়ায় ঘেরা এ উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার আলো ছড়ানোর জন্য একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এই উদ্যোগটির নাম বিদ্যা বিকাশ পাঠাগার।

উপজেলার ৬৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ১৭ হাজার ৪৭৬ শিক্ষার্থীর হাতে বই পৌঁছে দিয়েছে এই পাঠাগার। পাঠ্যবইয়ের বাইরেও শিশুদের আরেকটি জগৎ চিনতে, কল্পনাশক্তি বাড়াতে এবং বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে প্রথমে উদ্যোগটি গ্রহণ করেন যুক্তরাজ্যপ্রবাসী সাইফ মিঠু।

প্রবাসে থেকেও দেশের শিশুদের জ্ঞানচর্চার সুযোগ বাড়াতে কাজ করছেন মিঠু। নিজের এবং বন্ধুদের অর্থায়নে পরিচালিত হচ্ছে বিদ্যা বিকাশ পাঠাগার। তার সঙ্গে কাজ করছেন আরও ১০ স্বেচ্ছাসেবী। যুক্তরাজ্যে বসেই পাঠাগারের খোঁজখবর রাখেন তিনি। এ জন্য ৬৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও ১০ স্বেচ্ছাসেবীকে নিয়ে গড়ে তুলেছেন একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ।

গ্রুপের মাধ্যমে পাঠাগারের কার্যক্রম পরিচালনা, প্রয়োজনীয় নির্দেশনা ও পরামর্শ পেয়ে থাকেন সংশ্লিষ্ট সবাই। দেশে থাকা স্বেচ্ছাসেবীরা সেসব নির্দেশনা অনুযায়ী বিদ্যালয়গুলোতে পাঠাগারের কার্যক্রম বাস্তবায়ন করেন।

কুমিল্লার লালমাই উপজেলার জামুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ছবি: কালের কণ্ঠ

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানায়, প্রতি সপ্তাহেই তারা পাঠাগার থেকে বই নিয়ে যায়। পাঠাগারে বিভিন্ন মজার বই রয়েছে। পড়া শেষ হলে বই রেখে নতুন আরেকটি বই নিয়ে যায়। এমন সুযোগ করে দেওয়ার জন্য বিদ্যা বিকাশকে ধন্যবাদও জানায় শিশুরা।

যেভাবে দাঁড়াল বিদ্যা বিকাশ

২০২৪ সালের মার্চ মাস। সাইফ মিঠুর মেয়ে আরিয়া তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী তখন। ইংল্যান্ডের কেন্ট (মেডওয়ে) অঞ্চলের গিলিংহামে অবস্থিত একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ুয়া আরিয়া প্রতি সপ্তাহে স্কুল থেকে বই নিয়ে আসত বাসায়। গল্প, রূপকথা, ইতিহাস, বিজ্ঞান ও বিভিন্ন মনীষীর জীবনীসহ নানা বিষয়ের বই। পড়া শেষে ফেরত দেওয়ার সময় স্কুলের দেওয়া ‘রিডিং রেকর্ডে’ অভিভাবকের স্বাক্ষর নিতে হতো। সেখানে স্বাক্ষর করতেন সাইফ মিঠু ও তার স্ত্রী।

মিঠুর ভাষ্য অনুযায়ী, মেয়ের বই পড়ার এই অভ্যাস দেখে প্রশ্ন ওঠে তার মনে, বিশ্বের অগ্রগামী একটি শহরের বিদ্যালয়ের শিশুদের মতো তার নিজের দেশের গ্রামের শিশুরা কী বই পড়ার এমন সুযোগ পায়? তাদের হাতেও কী প্রতি সপ্তাহে নতুন বই পৌঁছায়? ভাবনাগুলো আচ্ছন্ন করে রাখে তাকে। একপর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে কাজ শুরু করেন মিঠু। শুরু হয় দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিশুদের হাতে বই পৌঁছে দিতে বিদ্যা বিকাশ পাঠাগারের যাত্রা।

কুমিল্লার লালমাই উপজেলার যুক্তিখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ছবি: কালের কণ্ঠ

মিঠু জানান, প্রথমে লালমাই উপজেলার ১৫টি বিদ্যালয়ের প্রত্যেকটিতে ১৫০টি করে বই দেওয়া হয়। এর মধ্য দিয়ে শুরু হয় বিদ্যা বিকাশ পাঠাগারের যাত্রা। পরে আরো ৫২টি বিদ্যালয়ে ১০০টি করে বই দেন তিনি। সব মিলিয়ে ৬৭টি বিদ্যালয়ে সরবরাহ করা হয় সাত হাজার ৪৫০টি বই।

পেছনে ১০ স্বেচ্ছাসেবী

বিদ্যা বিকাশ পাঠাগারের কার্যক্রম পরিচালনা করছে বাংলাদেশে থাকা ১০ জন স্বেচ্ছাসেবী। মাঠপর্যায়ে তারা বিদ্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ, পাঠাগার গড়ে তোলার প্রস্তুতি, নতুন বই পৌঁছে দেওয়া, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত, সেরা পাঠক নির্বাচন, পুরস্কার বিতরণ, পাঠাগার উদ্বোধনসহ নানা কাজ করেন তারা।

এসব কাজে স্বেচ্ছাসেবী ছাড়াও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, অভিভাবক এবং শিক্ষকরা সহযোগিতা করেন।

একটি উদ্যোগ থেকে বড় স্বপ্ন

ছোট পরিসরে শুরু হওয়া বিদ্যা বিকাশ পাঠাগারের কার্যক্রম এখন অনেক বিস্তৃত; কুমিল্লার লালমাই উপজেলার ৬৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে এখানেই থেমে থাকতে চান না প্রতিষ্ঠাতা সাইফ মিঠু। তার পরিকল্পনা পর্যায়ক্রমে উপজেলার মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাদরাসা এবং বিভিন্ন জনগুরুত্বপূর্ণ স্থানে পাঠাগার গড়া।

উপজেলার বাগমারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শুরু থেকেই পাঠাগারের সার্বিক দায়িত্বে রয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষক মো. আহসান হাবীব। বিদ্যালয়ের প্রায় সাড়ে ৩৫০ শিক্ষার্থীর মধ্যে বই বিতরণ, বই বিতরণ রেজিস্টার সংরক্ষণসহ পাঠাগারের যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালনা করছেন তিনি নিজেই। শিক্ষার্থীদের বই পড়তে নানাভাবে উৎসাহিত করেন তিনি।

আহসান হাবীবের ভাষ্য, ‘আমার খুবই ভালো লাগে, যখন দেখি শিক্ষার্থী সিরিয়ালে রেজিস্ট্রারে নাম তুলে বই নিয়ে যায়। মোবাইল ফোনের এই যুগেও শিক্ষার্থীরা পাঠাগার থেকে বই নিয়ে পড়ে- এটি সত্যি প্রশংসনীয়।’

তিনি বলেন, ‘এই স্কুলের শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবইয়ের বাইরেও নানা বিষয়ে জ্ঞান বেশি। কারণ তারা এখন নিয়মিত বই পড়ে। এটি তাদের এখন পাঠ্যভ্যাসে পরিণত হয়েছে।’

বিদ্যাবিকাশ পাঠাগারের মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম সমন্বয়কের করছেন কাজী ইয়াকুব আলী নিমেল। প্রান্তিক শিশুদের মধ্যে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দিতে বিদ্যাবিকাশের হয়ে কাজ করার স্বীকৃতিস্বরূপ গত ১ নভেম্বর তাকে ‘বসুন্ধরা শুভসংঘ যুব সংগঠক সম্মাননা’ দেওয়া হয়।

কালের কণ্ঠকে নিমেল বলেন, বিদ্যা বিকাশ পাঠাগারের কার্যক্রম শুধু প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, পর্যায়ক্রমে উপজেলার মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদরাসার শিক্ষার্থীদের মধ্যেও ছড়িয়ে দেওয়া হবে।

নিমেল জানান, বই পড়ার প্রতি শিশুদের আগ্রহ ধরে রাখতে প্রতিবছর সেরা পাঠক সমাবেশ করা হয়। এতে অংশ নেয় পাঠাগারের বই পড়া শিক্ষার্থীরা। পাঠ্যাভ্যাস, আগ্রহ ও মূল্যায়নের ভিত্তিতে নির্বাচিত সেরা পাঠকদের দেওয়া হয় পুরস্কার। এর মাধ্যমে শিশুদের মধ্যে বই পড়ার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি হচ্ছে।

উদ্যোক্তার ভাষ্য

বিদ্যা বিকাশ পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা যুক্তরাজ্যপ্রবাসী সাইফ মিঠু কালের কণ্ঠকে বলেন, বিদ্যা বিকাশ পাঠাগার প্রতিষ্ঠার পরই কাজ শেষ হয়নি। পাঠাগার পরিচালনার জন্য ১০ জনের একটি স্বেচ্ছাসেবক দল রয়েছে।

স্বেচ্ছাসেবীরা বইয়ের তালিকা সংরক্ষণ, নতুন বইয়ের তালিকা প্রস্তুত, স্কুলে স্কুলে বিতরণ, রেজিস্ট্রার খাতায় বিলি, সেরা পাঠক নির্বাচনসহ নানা কাজ করেন। এ ছাড়া এ কাজে এখন এলাকার শিক্ষক, জনপ্রতিনিধিও যুক্ত।

লন্ডনের হাই সিকিউরিটি কারাগার এইচএমপি বেলমার্শ-এর খাদ্য বিভাগে প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত সাইফ মিঠু আরো বলেন, পরিবার নিয়ে আমি যুক্তরাজ্যে থাকি। এখানকার একটি স্কুলে পড়ে আমার মেয়ে আরিয়া। বই পড়ার প্রতি তার আগ্রহ থেকে নিজের দেশের গ্রামের স্কুলগুলোতে পাঠাগার গড়ে তোলার চিন্তা মাথায় আসে।

মিঠু বলেন, ২০২৪ সালে প্রথমে আমরা সীমিত আকারে শুরু করি। দুই বছরের মাথায় ২০২৬ সালে এসে আমরা ৬৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠাগার গড়ে তুলতে পেরেছি। এই কাজে সহযোগিতায় আমার অনেক বন্ধু, পরিচিতজন ও শুভানুধ্যায়ীও এগিয়ে এসেছেন।

মিঠু জানান, পাঠাগারের জন্য সাহিত্য, বিজ্ঞান, ইতিহাস, জীবনী, দর্শন, ভ্রমণ, মুক্তিযুদ্ধ, সমাজ ও সংস্কৃতি- বিভিন্ন বিষয়ের বৈচিত্রময় ও রুচিশীল বইয়ের তালিকা প্রস্তুত ও সংগ্রহ করার কাজ চলছে এখন। প্রথমে এত বই কেনার জন্য অর্থ কোথায় পাবো- তা নিয়ে চিন্তায় ছিলাম।

মিঠুর ভাষ্য, শুরুতে আমার কাছে এত বই কেনার জন্য তহবিল ছিল না। পরে সিদ্ধান্ত আমার পড়া ও ব্যায়ামের ঘরটি অনলাইন মার্কেটপ্লেস এয়ারবিএনবিতে অতিথিদের জন্য ভাড়া দিলাম। পরে ভাড়ার সেই অর্থ দিয়ে বিদ্যা বিকাশ পাঠাগারের জন্য বই কেনা শুরু করি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশে ৭ দিনের সফরে আসছেন মাওলানা সায়্যিদ মাসউদ আসআদ মাদানি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৩৪ পি.এম


বাংলাদেশে ৭ দিনের সফরে আসছেন মাওলানা সায়্যিদ মাসউদ আসআদ মাদানি

ভারতের বিশিষ্ট আলেম এবং জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের সাবেক সভাপতি, আমিরুল হিন্দ ও আওলাদে রাসুল (সা.) মাওলানা সায়্যিদ আসআদ মাদানী (রহ.)-এর সুযোগ্য সাহেবজাদা, মাওলানা সায়্যিদ মাসউদ আসআদ মাদানী (হাফি.) বাংলাদেশে এক সপ্তাহের সফরে আসছেন।

ভারতের উত্তরাখণ্ড প্রদেশের সাবেক মন্ত্রী মাওলানা সায়্যিদ মাসউদ আসআদ মাদানী (হাফি.) উপমহাদেশের প্রখ্যাত ইসলামী মনীষী ফিদায়ে মিল্লাত মাওলানা সায়্যিদ আসআদ মাদানী (রহ.)-এর সন্তান। তিনি ভারতের ধর্মীয় ও সামাজিক অঙ্গনে একটি পরিচিত নাম হিসেবে পরিচিত।

বাংলাদেশ সফরের কারণে দেশে আলেম-উলামা ও ধর্মীয় অঙ্গনে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে। এই এক সপ্তাহের সফরের সময় তিনি দেশের বিভিন্ন ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব, আলেম-উলামা এবং সংশ্লিষ্ট মহলের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মাওলানা সায়্যিদ মাসউদ আসআদ মাদানী (হাফি.)-এর পিতা, মাওলানা সায়্যিদ আসআদ মাদানী (রহ.) ছিলেন উপমহাদেশের অন্যতম প্রভাবশালী ইসলামী মনীষী। তিনি জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের সভাপতি ও আমিরুল হিন্দ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর দ্বীনি, সামাজিক ও সাংগঠনিক অবদান উপমহাদেশের ইসলামী অঙ্গনে বিশেষভাবে স্মরণীয়।

এছাড়া, মাওলানা সায়্যিদ মাসউদ আসআদ মাদানী (হাফি.)-এর দাদা, মাওলানা সায়্যিদ হুসাইন আহমদ মাদানী (রহ.) বৃটিশবিরোধী আন্দোলনের অগ্রসৈনিক এবং শায়খুল আরব ওয়াল আজম হিসেবে পরিচিত একজন প্রখ্যাত ইসলামী মনীষী ছিলেন।

ধর্মীয় অঙ্গনের পাশাপাশি রাজনৈতিক ক্ষেত্রে দায়িত্ব পালন করেছেন মাওলানা সায়্যিদ মাসউদ আসআদ মাদানী (হাফি.)। তিনি ২০০২ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত ভারতের উত্তরাখণ্ড রাজ্য সরকারের মন্ত্রী পদমর্যাদায় দায়িত্ব পালন করেছেন।

এই বাংলাদেশ সফর দুই দেশের আলেম-উলামা ও ধর্মীয় অঙ্গনের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ, সৌহার্দ্য এবং মতবিনিময়ের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল আশা প্রকাশ করছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চট্টগ্রামে নির্মাণাধীন সড়কে চাঁদাবাজদের ভাঙচুর, ঠিকাদারের স্কেভেটর ক্ষতিগ্রস্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৩৪ পি.এম


চট্টগ্রামে নির্মাণাধীন সড়কে চাঁদাবাজদের ভাঙচুর, ঠিকাদারের স্কেভেটর ক্ষতিগ্রস্ত

চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার জৈষ্ঠপুরা ভানদালজুরি-সরফভাটা-গুদামঘর নির্মাণাধীন পাহাড়ি সড়কে দুর্বৃত্তরা ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের স্কেভেটার ভাঙচুর ও মালামাল তছনছ করেছে। এলাকাবাসীর সূত্রে জানা যায়, গত ১ লা নভেম্বর ভোররাতে পাহাড়ে নির্মাণাধীন সড়কের ১৮ মোরা স্থানে সড়কের কাজে নিয়োজিত স্কেভেটর ভাঙচুর করে এবং বিভিন্ন যন্ত্রাংশ খুলে মালামাল তছনছ করা হয়।

এ ঘটনার পর বোয়ালখালী থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী জালাল আহমেদ সুমন। তিনি জানান, জ্যেষ্ঠপুরা -গুদামঘর -সরফভাটা সড়কটি তাদের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নির্মাণের কাজ পায়। এ প্রেক্ষিতে গত ২৬ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম ৮ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ এরশাদুল্লাহ আনুষ্ঠানিকভাবে নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন। নির্মাণ কাজ শুরু করার পর থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা বিভিন্ন মাধ্যমে তাদের কাছ থেকে চাঁদা দাবি করে এবং হুমকি প্রদান করে। চাঁদা না দেওয়ায় মূলত তাদের স্কেভেটর ভাঙচুর ও মালামাল তছনছ করা হয়েছে। এতে তারা ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে।

বোয়ালখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোজাফফর হোসেন জানান, খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং নির্মাণাধীন সড়কে পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে। ক্যাপিটাল স্কেভেটার ভাঙচুরকারী চাঁদাবাজ ও দুর্বৃত্তদের শনাক্ত করতে পুলিশ আইনগতভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

এমএইচ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নিউ মেক্সিকোর প্রথম আদিবাসী নারী গভর্নর হলেন ডেব হাল্যান্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৩৪ পি.এম


নিউ মেক্সিকোর প্রথম আদিবাসী নারী গভর্নর হলেন ডেব হাল্যান্ড

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যে গভর্নর হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী ডেব হাল্যান্ড। এর ফলে তিনি দেশের ইতিহাসে প্রথম আদিবাসী নারী গভর্নর হওয়ার রেকর্ড স্থাপন করেছেন।

বুধবার (৪ নভেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) পূর্বাভাস অনুযায়ী, ৯৮ শতাংশ ভোট গণনা সম্পন্ন হওয়ার পর দেখা যায়, ডেব হাল্যান্ড ৫৭ দশমিক ২৫ শতাংশ ভোট পেয়েছেন, যা ৪ লাখ ১২ হাজার ৮৩৪ ভোটের সমান। তার প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান প্রার্থী ও সাবেক মেয়র গ্রেগরি ডি. হাল ৪২ দশমিক ৭৫ শতাংশ ভোট অর্জন করেছেন, যা ৩ লাখ ৮ হাজার ৩১৫ ভোটের সমান।

ডেব হাল্যান্ড ২০১৮ সালে লেগুনা পুয়েবলো জনগোষ্ঠীর সদস্য হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে নির্বাচিত হন, যেখানে তিনি প্রথম দুই আদিবাসী নারীর একজন ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর মাধ্যমে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম আদিবাসী মন্ত্রিসভার সদস্য হওয়ার ইতিহাসও তৈরি করেন।

সূত্র: স্ক্রাইপস নিউজ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৩শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৯
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪২
মাগরিব ০৫:১৮
ইশা ০৬:৩০
সূর্যোদয় : ০৬:০৬ সূর্যাস্ত : ০৫:১৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%