০৫:১৬ পি.এম
নাটোরের বড়াইগ্রামে শিক্ষকতা করে দুই যুগ পার করেও এমপিওভুক্ত না হওয়া এবং ঋণের চাপের কারণে আত্মহত্যা করেছেন কলেজ শিক্ষক শ্রী শৈলেন্দ্র কুমার চৌধুরী মানিক (৫৬)। সোমবার রাতে তিনি ইঁদুর মারার বিষাক্ত ট্যাবলেট গ্রহণ করে আত্মহত্যা করেন। নিহত মানিক কালিকাপুর-বনপাড়া কৃষি ও কারিগরি কলেজের প্রভাষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি বড়াইগ্রামের বনপাড়া পৌরসভার দিয়ারপাড়া মহল্লার মৃত শ্যামা প্রসাদ চৌধুরীর পুত্র।
সূত্রে জানা যায়, ২০০৩ সালের ২৩ মার্চ তিনি কলেজের উচ্চ মাধ্যমিকের সাধারণ শাখায় পদার্থবিদ্যা বিভাগের প্রভাষক পদে যোগদান করেন এবং সেই থেকে বিনা বেতনে পাঠদান করে আসছিলেন। কলেজের কারিগরি শাখা এমপিওভুক্ত হলেও সাধারণ শাখা দীর্ঘ সময় ধরে এমপিওভুক্ত না হওয়ায় তিনি সরকারি আর্থিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিলেন। সংসার চালানো এবং দৈনন্দিন জীবিকার খরচ মেটাতে গিয়ে তিনি বিপুল পরিমাণ ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে ঋণের বোঝা মেটাতে তিনি বাড়ি-ভিটা বিক্রি করে স্ত্রী ও একমাত্র ছেলেকে নিয়ে ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করেন। দীর্ঘদিন ধরে উপার্জনহীন থাকার কারণে এবং দেনাদারদের চাপের ফলে তিনি চরম মানসিক হতাশায় ভুগছিলেন।
সোমবার সন্ধ্যায় ভাড়া বাসায় স্ত্রী ও সন্তানের অনুপস্থিতির সুযোগে তিনি ইঁদুর মারার বিষাক্ত ট্যাবলেট সেবন করেন। পরে প্রতিবেশীরা বিষয়টি বুঝতে পেরে তাঁকে দ্রুত নাটোর সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে তিনি মারা যান।
আরও পড়ুন: ডাকতে গিয়ে যাত্রী দেখেন রংপুরের অটোরিকশাচালক শরিফুল ইসলাম মারা গেছেন
এ ঘটনার পর নিহতের সহকর্মী (নন-এমপিও) প্রভাষক সোহেল রানা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “তিনি হয়তো মরে গিয়ে রক্ষা পেলেন, আমরা তো সেটাও পারছি না। দুই দশক ধরে বিনা বেতনে সেবা দেওয়ার পরও রাষ্ট্র একজন শিক্ষকের ন্যূনতম জীবিকার নিশ্চয়তা দিতে পারেনি, এটা অত্যন্ত দুঃখজনক।”
বড়াইগ্রাম থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাহবুবুর রহমান জানান, এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহতের লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন