১০:৫২ পি.এম
রাশিয়ার অভ্যন্তরে অব্যাহত ইউক্রেনের দূরপাল্লার ড্রোন এবং ক্ষেপনাস্ত্র হামলার মুখাবেক্ষণে, রাশিয়া ‘শেষ ব্যবস্থা’ হিসেবে পারমাণবিক হামলা চালাতে পারে বলে সতর্ক করেছেন তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। তিনি তুর্কি সংবাদ সংস্থা আনাদোলুর একটি অনুষ্ঠানে এই মন্তব্য করেন এবং রাশিয়ার পারমাণবিক সক্ষমতার বিষয়টি তুলে ধরেন।
ফিদান বলেন, ‘যখন সম্মুখভাগের যুদ্ধ ক্ষয়িষ্ণু যুদ্ধে রূপ নেয়, তখন প্রশ্নটি জয়-পরাজয়ের নয়, বরং জাতি হিসেবে অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার হয়ে যায়। আপনার হাতে যে শেষ সুযোগ রয়েছে, সেটি ব্যবহার করবেন।’
তিনি পরিস্থিতিকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক হিসেবে উল্লেখ করে জানান, এই বিষয় নিয়ে ইতোমধ্যে পশ্চিমা অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। ফিদান বলেন, ‘আমার রাশিয়া সফরের সময় থেকেই মনে হয় যে প্রশ্নটি সামনে আসতে পারে, কারণ সেখানে জনগণও এমন কিছু দাবি করছে বলে আলোচনা রয়েছে। আমরা পশ্চিমাদের বিষয়টি জানিয়ে দিয়েছি এবং তারাও এটি নিয়ে সচেতন। এটি বিপজ্জনক একটি পরিস্থিতি। মানুষের চিন্তা করে যে বিষয়গুলো ঘটবে না, সেগুলোই শেষ পর্যন্ত ঘটে যায়।’
আরও পড়ুন: তারেক রহমান: বিশ্ববাসী একদিন বাংলাদেশের উদাহরণ দেবে
অন্যদিকে জাতিসংঘের তথ্যানুসারে, চলতি বছরে রাশিয়া এবং ইউক্রেন উভয় পক্ষই একে অপরের ভূখণ্ডে দূরপাল্লার হামলা মারাত্মকভাবে ব্যাপক করেছে, ফলে বেসামরিক প্রাণহানি আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
রাশিয়া এবং ইউক্রেন যুদ্ধের চার বছরের বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে বড় হামলার ঘটনা হিসেবে, রাশিয়ার তাতারস্তান অঞ্চলে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছেন।
এছাড়া, সোমবার রাশিয়া ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রক্তক্ষয়ী হামলা চালিয়েছে। উত্তর-পূর্ব অঞ্চলের খারকিভে একটি গ্রামের কাছে রুশ কামানের গোলার আঘাতে পাঁচজন নিহত হয়েছেন বলেও নিশ্চিত করেছে স্থানীয় ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা ইউক্রেনের ৪৫৬টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। তবে কতগুলি ড্রোন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করেছে, সে সম্পর্কে কিছু জানানো হয়নি মস্কোর পক্ষ থেকে। অন্যদিকে, ইউক্রেনীয় বিমানবাহিনী জানায়, রাশিয়া তাদের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ১২৬টি ড্রোন লক্ষ্য করেছে।
আরও পড়ুন: ভ্যান্সকে গালিবাফের খোঁচা: বসকে এসব বলছেন না কেন?
আরেকদিকে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি দাবি করেছেন যে, ইউক্রেনযুদ্ধে নতুন প্রায় পাঁচ লাখ সেনা পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তিনি জানান, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এই সেনা সমাবেশের পরিকল্পনা রয়েছে।
জেলেনস্কি ইউক্রেনীয় গোয়েন্দা তথ্যের বরাত দিয়ে বলেন, সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে রাশিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য পার্লামেন্ট নির্বাচনের পর এই সেনা সমাবেশের পরিকল্পনা করছেন পুতিন।
জেলেনস্কি ব্রিটিশ একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘পুতিন এই যুদ্ধ থামাতে প্রস্তুত নন। আমাদের গোয়েন্দা প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি নতুন সেনা সমাবেশের পরিকল্পনা করছেন। আগামী ২১ সেপ্টেম্বর পার্লামেন্ট নির্বাচনের পরপরই এটি করতে চান।’
আরও পড়ুন: শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী ধারণায় অর্থায়ন করবে সরকার: মাহদী আমিন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন