ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে যুবদল প্রায় ৫০০ মানুষকে বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা দিয়েছে


প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে যুবদল প্রায় ৫০০ মানুষকে বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা দিয়েছে

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত একটি দিনব্যাপী মেডিক্যাল ক্যাম্প থেকে প্রায় ৫০০ জন সাধারণ মানুষ বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করেছেন।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচে এই মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনের স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. বেলাল হোসেন নাজিম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প ও রক্তদান কর্মসূচিতে প্রায় ৫০০ জন সাধারণ মানুষ বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা পেয়েছেন এবং এসময় ৩৫ ব্যাগ রক্ত সংগ্রহ করা হয়েছে। চিকিৎসা সেবার পাশাপাশি বিনামূল্যে ওষুধও প্রদান করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: জলবায়ু পরিবর্তনে বছরে ৫ লাখের বেশি মৃত্যু, স্বাস্থ্যঝুঁকি বিশ্বজুড়ে

যুবদলের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা এই রক্তদান কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এর আগে, রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে প্রধান অতিথি হিসেবে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প ও রক্তদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, "মানবিক বাংলাদেশ গঠনে জাতীয়তাবাদী যুবদলকে উৎপাদন ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হতে হবে। খাল খনন, বৃক্ষরোপণ এবং ডেঙ্গু ও এডিস মশা নিধনসহ জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে সংগঠনটিকে ভূমিকা রাখতে হবে।"

তিনি আরও বলেন, "শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় যুবকদের হাতের কাজ, টাইপিং ও ওয়েল্ডিংয়ের মতো কারিগরি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। এর মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়। যুবদলও দেশের পুনর্গঠন ও উৎপাদনমুখী কর্মকাণ্ডে ভূমিকা রেখেছে।"

আরও পড়ুন: স্বাস্থ্যখাতের টেন্ডারে দুর্নীতি বরদাস্ত করা হবে না: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত

এসময় যুবদলের সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না, সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, যুবদলের সহ-সভাপতি ডা. লোহানী মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. গালিব হাসান এবং সহ-স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. মাহমুদুল হাসান খান সুমন, সহ-স্বাস্থ্য সম্পাদক আল মামুন হাসান খান এমিল উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আজ সোনার ভরি মূল্য নির্ধারণ করেছে বাজুস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৩২ এম


আজ সোনার ভরি মূল্য নির্ধারণ করেছে বাজুস

গত ২৫ অক্টোবর সোনার দাম সমন্বয় করেছিল বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। সেই সময় ৩ হাজার ৩২৪ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেট সোনার দাম নির্ধারণ করা হয় ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা।

নতুন কোনো ঘোষণা না আসায় বুধবার (২৮ অক্টোবর) আগের নির্ধারিত দামে বিক্রি হবে সোনা।

সবশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বর্তমানে সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার গহনা ভ্যাটসহ বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা। ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনার গহনা বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ১০ হাজার ৯৪৩ টাকা। এছাড়া ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার গহনা বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ৮১ হাজার ২০০ টাকা। আর সনাতন পদ্ধতির এক ভরি সোনা বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ৪৮ হাজার ১৬ টাকা।

অন্যদিকে, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার গহনার দাম রাখা হচ্ছে ৩ হাজার ৮৪৯ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের রুপা প্রতি ভরি ৩ হাজার ৬৭৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের রুপা ৩ হাজার ১৪৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা প্রতি ভরি ২ হাজার ৩৯১ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বাজুসের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিংয়ের বৈঠকে সোনার দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীনের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, আন্তর্জাতিক বাজারে পিওর গোল্ড বা তেজাবি সোনার দাম কমে যাওয়ায় দেশের বাজারে সোনার বিক্রয়মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। ঘোষিত নতুন দাম ২৫ অক্টোবর সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়।

সংস্থাটির নির্দেশনা অনুযায়ী, মজুরি ও পাথরের মূল্য বাদ দিয়ে অলংকারের ক্ষেত্রে ১২ শতাংশ এবং পারচেজের ক্ষেত্রে ১৮ শতাংশ বাদ দিতে হবে। অলংকার ও পারচেজের ক্ষেত্রে আলাদাভাবে ভ্যাট বাদ দেওয়ার সুযোগ নেই। পরবর্তী সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে বাজুসের নির্ধারিত বিক্রয়মূল্য কার্যকর থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ডা. জুবাইদা রহমানের উদ্যোগে অপসারিত হলো ইমাম হোসেনের পিঠের দুই কেজির টিউমার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৩২ এম


ডা. জুবাইদা রহমানের উদ্যোগে অপসারিত হলো ইমাম হোসেনের পিঠের দুই কেজির টিউমার

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্ত্রী এবং জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমানের উদ্যোগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার শারীরিক প্রতিবন্ধী ইমাম হোসেনের পিঠ থেকে প্রায় দুই কেজি ওজনের টিউমার অপসারণ করা হয়েছে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ইমাম হোসেনের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিতে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে যান জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের পরিচালক (প্রোগ্রাম) অধ্যাপক ডা. শাহ মুহাম্মদ আমান উল্লাহ। তিনি রোগীর চিকিৎসার অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন এবং রোগীর পাশে থাকার আশ্বাস প্রদান করেন।

ইমাম হোসেন জন্মগতভাবে স্নায়ুর টিউমারজনিত জটিলতায় আক্রান্ত। দীর্ঘদিন ধরে তিনি অসহনীয় শারীরিক কষ্টের মধ্যে জীবনযাপন করছেন। দিনমজুর বাবার আট সন্তানের মধ্যে সপ্তম ইমাম হোসেন প্রায় ১৭ বছর আগে সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হন। পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার অভাবে তার চলাচলের সক্ষমতা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। জন্মগত প্লেক্সিফর্ম নিউরোফাইব্রোমা রোগের কারণে তার পিঠের টিউমার ক্রমেই বড় হতে থাকে। টিউমারের কারণে গত প্রায় ১০ বছর ধরে তিনি ঠিকমতো ঘুমাতে পারছিলেন না। শারীরিক অক্ষমতার কারণে উপার্জন করতে না পারায় নিজের দৈনন্দিন খাবারের সংস্থান করাও তার জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। এই অবস্থায় ব্যয়বহুল চিকিৎসার ব্যবস্থা করা ছিল প্রায় অসম্ভব।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইমাম হোসেনের দুর্দশার একটি ভিডিও ডা. জুবাইদা রহমানের দৃষ্টিগোচর হলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সংযুক্তিতে কর্মরত চিকিৎসক ও জেডআরএফের পরিচালক (প্রোগ্রাম) অর্থোপেডিক সার্জন অধ্যাপক ডা. শাহ মুহাম্মদ আমান উল্লাহকে নির্দেশনা দেন ইমাম হোসেনের চিকিৎসার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য।

এরপর অধ্যাপক ডা. আমান উল্লাহর নির্দেশনায় ডা. এম আর হাসান ইমাম হোসেনের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং তাকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করার ব্যবস্থা করেন। ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসির উদ্দিন আহমেদের অধীনে তার চিকিৎসা শুরু হয়।

ইমাম হোসেনের জটিল শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়। বোর্ডে ভাস্কুলার সার্জন, অর্থোপেডিক সার্জন, অ্যানেসথেসিওলজিস্টসহ সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তাদের তত্ত্বাবধানে ২৫ অক্টোবর প্রাথমিক অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার পিঠ থেকে প্রায় দুই কেজি ওজনের টিউমার অপসারণ করা হয়।

ডা. আমান উল্লাহ বলেন, "জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন অতীতেও দলমত ও ধর্মনির্বিশেষে অসহায়, নিরীহ মানুষের কল্যাণে কাজ করে এসেছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।"

ইমাম হোসেনের চিকিৎসায় সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ডা. অভিজিত সরকার, সহকারী অধ্যাপক ডা. শাওন বিন রহমান, সহকারী অধ্যাপক ডা. শাহীন, অ্যানেসথেসিয়া বিভাগের ডা. তাজিন আহসান, সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. ফজলে রাব্বি, রেজিস্ট্রার ডা. সুলতান মাহমুদ সিকদার এবং আবাসিক সার্জন ডা. মো. শফিকুল আলম সুমন, নিউরোসার্জন ডা. রবার্ট আহমেদ খান, ডা. দেওয়ান সামসুল আসিফসহ আরও অনেকে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মরক্কোর সাত শতাব্দীর প্রাচীন বু ইনানিয়া মাদ্রাসা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৩৪ এম


মরক্কোর সাত শতাব্দীর প্রাচীন বু ইনানিয়া মাদ্রাসা

মরক্কোর প্রাচীন নগরী ফেজের আঁকাবাঁকা অলিগলি পেরিয়ে তালাআ কাবিরা সড়কে পৌঁছালে দর্শকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এক অসাধারণ স্থাপত্যের প্রবেশদ্বার। ঘোড়ার নালের আকৃতির খিলান, দেয়ালে সূক্ষ্ম স্টাকোর কারুকাজ, সিডার কাঠে খোদাই করা নান্দনিক নকশা এবং জ্যামিতিক নকশার মোজাইক—এসব দেখে মনে হয়, যেন কোনো রাজপ্রাসাদের দরজায় এসে দাঁড়িয়েছেন দর্শনার্থী। কিন্তু এটি কোনো রাজপ্রাসাদ নয়; বরং ইসলামী শিক্ষা, ধর্মীয় জ্ঞানচর্চা ও মরক্কোর ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্যকলার এক অনন্য নিদর্শন—ঐতিহাসিক বু ইনানিয়া মাদরাসা।

বু ইনানিয়া মাদরাসার ইতিহাস মরক্কোর মারিনিদ রাজবংশের রাজনৈতিক উত্থান-পতনের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে। চতুর্দশ শতকে এই রাজবংশ উত্তর আফ্রিকার অন্যতম প্রভাবশালী শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়। তাদের শাসনামলে ফেজ শহর ধর্মীয় শিক্ষা, সাহিত্য, শিল্পকলা ও বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হয়। বিশেষত মাদরাসা নির্মাণের মাধ্যমে শাসকরা ধর্মীয় জ্ঞানচর্চার প্রসার ঘটানোর পাশাপাশি নিজেদের রাজনৈতিক কর্তৃত্ব ও ধর্মীয় বৈধতাও সুদৃঢ় করতে চেয়েছিলেন।

এই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটেই উঠে আসে সুলতান আবু ইনান ফারিসের নাম। তিনি মারিনিদ শাসক আবুল হাসানের পুত্র ছিলেন। ১৩৪৮ সালে পিতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে তিনি ক্ষমতা দখল করেন এবং নিজেকে সুলতান ঘোষণা করেন। তাঁর শাসনামলে রাজ্য পরিচালনা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর পৃষ্ঠপোষকতা এবং ফেজের মর্যাদা বৃদ্ধির নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়। বু ইনানিয়া মাদরাসা নির্মাণও ছিল সেই বৃহত্তর প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

বু ইনানিয়া মাদরাসার নির্মাণকাজ শুরু হয় ৭৫১ হিজরির ২৮ রমজান, আনুমানিক ১৩৫০ খ্রিস্টাব্দে। নির্মাণকাজ শেষ হয় ৭৫৬ হিজরিতে, অর্থাৎ ১৩৫৫ খ্রিস্টাব্দের কাছাকাছি সময়ে। প্রায় পাঁচ বছরের এই নির্মাণযজ্ঞে তৎকালীন মরক্কোর দক্ষ কারিগর ও স্থপতিরা অসাধারণ নৈপুণ্যের পরিচয় দেন। মাদরাসাটির নির্মাণে বিপুল অর্থ ব্যয় হয়েছিল। কথিত আছে, নির্মাণকাজ শেষে ব্যয়ের হিসাব দেখে সুলতানের সামনে তা পেশ করা হলে তিনি হিসাবের খাতা ছিঁড়ে ফেলে মন্তব্য করেন, ‘যা সুন্দর, তা কখনো বেশি দামি নয়; খরচ যত বেশিই হোক।’

বু ইনানিয়া মাদরাসার ভেতরে প্রবেশ করলে প্রথমেই চোখে পড়ে একটি আয়তাকার উন্মুক্ত প্রাঙ্গণ। মার্বেল পাথরে সজ্জিত এই উঠানের মাঝখানে রয়েছে ফোয়ারা। প্রাঙ্গণকে ঘিরে থাকা গ্যালারি, ওপরের তলায় শিক্ষার্থীদের আবাসিক কক্ষ এবং দুই পাশে অবস্থিত বড় বড় পাঠকক্ষ মাদরাসাটির পরিকল্পিত স্থাপত্যের পরিচয় বহন করে। প্রাঙ্গণের দেয়ালে রয়েছে একাধিক স্তরের অলংকরণ। নিচের দিকে জেলিজ নামে পরিচিত রঙিন জ্যামিতিক নকশার মোজাইক টাইলস, তার ওপরে আরবি ক্যালিগ্রাফির শৈল্পিক বিন্যাস এবং আরো ওপরে খোদাই করা স্টাকোর নকশা। কোথাও আরাবেস্ক অলংকরণ, কোথাও মুকারনাসের সূক্ষ্ম কারুকাজ, আবার কোথাও কোরআনিক বাণী ও শৈল্পিক লিপির সমন্বয়। সবশেষে সিডার কাঠের ছাদে খোদাই করা নকশা পুরো স্থাপত্যকে দিয়েছে এক অনন্য মাত্রা।

এখানে প্রতিটি উপাদান যেন আলাদা আলাদা শিল্পকর্ম, অথচ সব মিলিয়ে তৈরি হয়েছে এক সুসংহত নান্দনিক পরিবেশ। পাথর, কাঠ, প্লাস্টার ও রঙিন টাইলসের সমন্বয়ে নির্মিত এই স্থাপত্য মরক্কোর ঐতিহ্যবাহী শিল্পকলার উচ্চমানের সাক্ষ্য বহন করে। মাদ্রাসাটির পাঠকক্ষগুলোর আকার ও বিন্যাসও উল্লেখযোগ্য। কিছু গবেষক এর স্থাপত্য পরিকল্পনার সঙ্গে কায়রোর সুলতান হাসান মাদরাসার ইওয়ানভিত্তিক স্থাপত্যের তুলনা করেছেন।

মাদরাসার ঠিক বিপরীতে অবস্থিত দার আল-মাগানা বা ‘ঘড়ির ঘর’ ফেজের আরেকটি ঐতিহাসিক বিস্ময়। একসময় ভবনটির সম্মুখভাগে একটি জটিল যান্ত্রিক ঘড়ি স্থাপন করা হয়েছিল বলে জানা যায়। কথিত আছে, ঘড়িটির নির্দিষ্ট সময়ে ধাতব গোলক পিতলের পাত্রে পড়ে শব্দ সৃষ্টি করত এবং একই সঙ্গে জানালার মতো কিছু অংশ খুলে যেত।

বু ইনানিয়া মাদরাসার পাঠ্যক্রমের কেন্দ্রে ছিল ইসলামী জ্ঞানচর্চা। মারিনিদ শাসকদের অনুসৃত মালেকি মাজহাবের ফিকহ ছিল এর শিক্ষার অন্যতম ভিত্তি। কোরআন, ইসলামী আইনশাস্ত্র এবং ধর্মীয় বিষয়াবলির পাশাপাশি ভাষা, ব্যাকরণ, অলংকারশাস্ত্র, যুক্তিবিদ্যা ও অন্যান্য জ্ঞানশাখার চর্চাও মধ্যযুগীয় ফেজের শিক্ষাব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ স্থান অধিকার করেছিল।

সাত শতকেরও বেশি সময় ধরে নানা রাজনৈতিক পরিবর্তন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও নগরজীবনের রূপান্তরের মধ্য দিয়ে বু ইনানিয়া মাদরাসা টিকে আছে। বিভিন্ন সময়ে ভবনটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং একাধিকবার সংস্কার করা হয়েছে। বিশেষ করে ভূমিকম্প ও দীর্ঘদিনের ক্ষয়ক্ষতির কারণে এর বিভিন্ন অংশে মেরামত ও পুনরুদ্ধারের প্রয়োজন দেখা দেয়।

পরবর্তী শতকগুলোতে পরিচালিত সংস্কারকাজের লক্ষ্য ছিল ভবনের মূল স্থাপত্যরীতি ও কারুকাজ যথাসম্ভব সংরক্ষণ করা। আধুনিক সংরক্ষণ কার্যক্রমের ফলে এর জেলিজ মোজাইক, কাঠের অলংকরণ, স্টাকোর নকশা ও অন্যান্য স্থাপত্য উপাদানের উল্লেখযোগ্য অংশ আজও দর্শনার্থীদের সামনে উন্মুক্ত রয়েছে। ১৯৮১ সালে ফেজের প্রাচীন মদিনা ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়।

মরক্কোর বু ইনানিয়া মাদরাসা এমন একটি ঐতিহাসিক স্থাপনা, যেখানে শিক্ষা, ধর্মীয় জীবন, রাজনীতি ও শিল্পকলার ইতিহাস একসূত্রে গাঁথা। এর নির্মাণের পেছনে যেমন ছিল মারিনিদ শাসকদের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় আকাঙ্ক্ষা, তেমনি এর প্রতিটি খিলান, মোজাইক, কাঠের খোদাই ও ক্যালিগ্রাফিতে ফুটে উঠেছে তৎকালীন মুসলিম কারিগরদের অসাধারণ সৃজনশীলতা। কিংবদন্তি ও ঐতিহাসিক তথ্যের পার্থক্য বিবেচনায় রেখেও বলা যায়, এই মাদরাসা মধ্যযুগীয় ফেজের জ্ঞানচর্চা ও স্থাপত্য ঐতিহ্যের এক অনন্য সাক্ষী।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে প্রথমবার ভিএআর প্রযুক্তির ব্যবহার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৩৪ এম


সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে প্রথমবার ভিএআর প্রযুক্তির ব্যবহার

প্রথমবারের মতো সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে ভিডিও অ্যাসিসটেন্স রেফারি (ভিএআর) প্রযুক্তি যুক্ত করা হচ্ছে। সাউথ এশিয়ান ফুটবলের (সাফ) সাধারণ সম্পাদক পুরুষোত্তম কাট্টেল জানিয়েছেন, টুর্নামেন্টের শুরুতে সম্ভব না হলেও সেমিফাইনাল এবং ফাইনালে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। ভারত সাফে অংশগ্রহণ নিয়ে যে অনিশ্চয়তা ছিল, তা কাট্টেল উড়িয়ে দিয়ে বলেন, নির্ধারিত সময়েই আসবে টিম ইন্ডিয়া।

আধুনিক ফুটবলের কোনো টুর্নামেন্টে ভিএআর ছাড়া চিন্তা করাও কঠিন। মাঠে ঘটে যাওয়া ভুল ত্রুটি-সংশোধন এবং অনাকাঙ্খিত ঘটনার যথাযথ সমাধানে ভিএআর অপরিহার্য। যদিও কিছু ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে বিতর্ক রয়েছে, তবে এবার সাউথ এশিয়ার ফুটবল ভিএআর প্রযুক্তির সাক্ষী হতে যাচ্ছে।

এখন পর্যন্ত ভিএআর সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সব কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে সাফ। আনুষ্ঠানিক চুক্তি দু এক দিনের মধ্যে সম্পন্ন হবে। টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচ থেকেই পরীক্ষামূলকভাবে ভার প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে সেমিফাইনাল এবং ফাইনালে ভিডিও অ্যাসিসটেন্স রেফারির মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেবেন ম্যাচ অফিসিয়ালরা।

সাফের সাধারণ সম্পাদক পুরুষোত্তম কাট্টেল বলেন, "আমরা সব কার্যক্রম গুছিয়ে এনেছি। দুই এক দিনের মধ্যেই ভিএআর সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক চুক্তি হবে। এটা ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত হতে চলেছে। প্রথমবারের মতো সাফে দেখা যাবে ভিডিও অ্যাসিসটেন্স রেফারি। তবে আমরা সবগুলো ম্যাচে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারবো না। সেমিফাইনাল এবং ফাইনালে ভার ব্যবহার করা হবে তা নিশ্চিত।"

এদিকে, গত কয়েকদিন ধরে গুঞ্জন উঠেছে যে আসন্ন সাফ থেকে ভারত নাম প্রত্যাহার করে নিতে পারে। টুর্নামেন্ট চলাকালীন ফিফা উইন্ডোতে টিম ইন্ডিয়া নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ম্যাচ খেলতে যাবে। বাংলাদেশে পাঠানো হতে পারে অনূর্ধ্ব-২৩ দল। তবে ফলাফল বিপর্যয়ের আশঙ্কা থেকেই অল ইন্ডিয়া ফুটবল সাফে না খেলার পক্ষে। কিন্তু সেই গুঞ্জন উড়িয়ে দিয়ে সাফ সাধারণ সম্পাদক দাবি করেছেন, ভারত নির্ধারিত সময়েই আসবে।

কাট্টেল বলেন, "আমি আসলে বুঝতে পারছি না এই খবর কারা ছড়ালো। কারণ এর কোন ভিত্তি নেই। অল ইন্ডিয়া ফুটবল ফেডারেশনের সঙ্গে আমার প্রতিনিয়ত যোগাযোগ হচ্ছে। তারা কখনোই বলেনি ভারত সাফ খেলতে আসবে না। তবে এটা ঠিক ফিফা উইন্ডোতে তাদের মূল দল নিউজিল্যান্ড খেলতে যাবে। সাফের জন্য তারা বিকল্প দলও তৈরি রেখেছে। সুতরাং ভারত আসছে এবং তা নির্ধারিত সময়েই।"

আগামী ২৯ অক্টোবর থেকে সাফের টিকিট বিক্রি কার্যক্রম শুরু হবে। তবে সরাসরি সাউথ এশিয়ান ফুটবল টিকিট বিক্রি না করে একটি অনলাইন প্লাটফর্মের কাছে ছেড়ে দিয়েছে। সাফের ম্যাচ দেখতে গুনতে হবে সর্বনিম্ন ১ হাজার টাকা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%