১০:৪৫ পি.এম
ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বোর্ড অব গভর্নরস-এর চেয়ারম্যান কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ) নির্দেশ দিয়েছেন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মসজিদ ভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রমকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করে শিশুদের সঠিক ধর্মীয় ও নৈতিক সুশিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি রোববার (১ নভেম্বর) বায়তুল মোকাররমস্থ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত বোর্ড অব গভর্নরস-এর ২৩৭তম সভায় সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। ধর্মমন্ত্রী উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেওয়া লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা রেখে আত্মনিয়োগের তাগিদ দেওয়া হয়েছে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার দূরদর্শী ভাবনার উল্লেখ করে তিনি বলেন, শিশুদের সকালবেলায় পবিত্র কোরআন শিক্ষা, আদব-কায়দা, নৈতিকতা এবং ধর্মীয় অনুভূতি সুদৃঢ় করার লক্ষ্যেই মসজিদ ভিত্তিক মক্তব শিক্ষা ব্যবস্থার সূচনা হয়েছিল।
ধর্মমন্ত্রী আরও বলেন, বিগত ১৭ বছরে এই শিক্ষাক্রমকে ব্যাপকভাবে দলীয়করণ করা হয়েছে। তিনি মক্তব শিক্ষাকে যেকোনো রাজনৈতিক দলের প্রভাব থেকে উদ্ধার করে পুনরায় প্রকৃত ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার তাগিদ দেন। দেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার চিত্র তুলে ধরে তিনি জানান, বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে।
আরও পড়ুন: চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে গুলিবিদ্ধ বাংলাদেশিকে আটক করে নিয়ে গেল বিএসএফ
মন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার সঠিক ব্যবস্থা গড়ে ওঠা এবং মক্তব শিক্ষা কার্যক্রম থেকে রাজনৈতিক প্রভাব দূর করার জন্য একটি বিশেষ সংস্কার কমিটি গঠনের বিষয়ে আলোচনা করা হয়। এ সময় কওমি মাদরাসার শিক্ষক ও হাফেজদের নির্ভুল কোরআন শিক্ষাদানের প্রশংসনীয় ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সুনির্দিষ্ট কোনো ভুল ছাড়া ৩০ পারা কোরআন হিফজ করানো এবং শিক্ষার এই অনন্য অবদানকে বড় মন নিয়ে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
সভায় ধর্মমন্ত্রী সরকারি কর্মকর্তাদের ভূমিকা তুলে ধরে বলেন, সরকারি কর্মকর্তাগণ তাঁদের চাকরিজীবনের প্রারম্ভিক পর্যায় থেকে দীর্ঘ প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে দায়িত্ব পালন করে বড় পদে উন্নীত হয়েছেন। তিনি অভিজ্ঞ সরকারি কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের যৌথ সমন্বয়ের মাধ্যমে নির্দিষ্ট নির্দেশনার আলোকে প্রয়োজনীয় প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশ ও জনগণের জন্য বড় সাফল্য অর্জনের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেন।
সভায় মক্তব শিক্ষা কার্যক্রম দলীয় প্রভাবমুক্ত করা, নিজ নিজ এলাকায় তদারকি জোরদার করা এবং প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া রূপকল্প সফলভাবে বাস্তবায়নে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানোর আহ্বান জানান তিনি। ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার বলেন, বর্তমান সরকার চলতি মেয়াদে দেশব্যাপী ১ কোটি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।
এ লক্ষ্য অর্জনে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের নিয়োগ কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করার মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে। ফলে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের উদ্যোগ আরও বেগবান হবে। সভায় কক্সবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বোর্ড অব গভর্নরস-এর সদস্য সচিব ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক মুফতি মুহাম্মদ মুহিববুল্লাহিল বাকী, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বোর্ড অব গভর্নরস এর সদস্য মুফতি শরীফ উল্লাহ ও মুফতি আজহারুল ইসলামসহ গভর্নরবৃন্দ গুরুত্বপূর্ণ মতামত ব্যক্ত করেন।
আরও পড়ুন: বৃষ্টির নামাজে অংশগ্রহণ করলেন কাতারের আমির
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন