০৭:০৮ এম
দক্ষিণ-পূর্ব ভারত মহাসাগরের গভীর অংশে বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেছেন বিশ্বের সবচেয়ে বড় এবং সবচেয়ে প্রাচীন ‘তিমির গোরস্তান’, যা মূলত তিমির মৃতদেহ ও জীবাশ্মের বিশাল সমাহার। এই অঞ্চলটির নাম ডায়ামেন্টিনা ফ্র্যাকচার জোন এবং এটি সমুদ্রতল থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার গভীরে অবস্থিত। গবেষকদের মতে, এই অঞ্চলটি প্রায় ১ হাজার ২০০ কিলোমিটারজুড়ে বিস্তৃত এবং এখানে অন্তত ৫৩ লাখ বছর ধরে তিমির দেহাবশেষ জমা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক গবেষকদল সাবমার্সিবল ব্যবহার করে ৩২টি অভিযান পরিচালনা করে এই আবিষ্কার করেছেন। অভিযানের সময় তারা ৪৮৫টি তিমির জীবাশ্ম এবং আধুনিক তিমির দেহাবশেষের অবস্থান শনাক্ত করেন। গবেষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর এবং সবচেয়ে বিস্তৃত তিমি-জীবাশ্ম অঞ্চল।
গবেষণায় দেখা গেছে যে, এই অঞ্চলের কিছু জীবাশ্মের বয়স প্রায় ৫৩ লাখ বছর। এছাড়া, জীবাশ্মগুলোর মধ্যে একটি নতুন প্রজাতির ঠোঁটওয়ালা তিমির সন্ধানও পাওয়া গেছে, যার নাম রাখা হয়েছে টেরোসিটাস বেঙ্গুয়েলি।
আরও পড়ুন: সমবায় আন্দোলনকে যুগোপযোগী করার তাগিদ রাষ্ট্রপতির
বিজ্ঞানীদের মতে, মৃত তিমির দেহ সমুদ্রের তলদেশে পড়ে থেকে এক বিশেষ বাস্তুতন্ত্র সৃষ্টি করে, যা ‘হোয়েল ফল’ হিসেবে পরিচিত। এসব দেহাবশেষকে ঘিরে বিভিন্ন প্রাণী যেমন হাড়-খেকো কৃমি, ভঙ্গুর তারামাছ, ঝিনুক ও অন্যান্য গভীর সমুদ্রের প্রাণী বাস করছে। আবিষ্কৃত অঞ্চলটিতে এমন পাঁচটি সক্রিয় হোয়েল ফল বাস্তুতন্ত্রও রয়েছে।
গবেষণাটি বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী নেচারে প্রকাশিত হয়েছে। গবেষকদের ধারণা এই এলাকার বিশেষ ভৌগোলিক গঠন এবং তিমির অভিবাসনপথের অবস্থান বিপুল সংখ্যক তিমির দেহাবশেষ জমা হওয়ার পেছনে ভূমিকা রেখেছে।
গবেষণা দলের অন্যতম সদস্য শিয়াওতং পেং বলেন, এই আবিষ্কার গভীর সমুদ্রের জীববৈচিত্র্য, তিমির বিবর্তন এবং কোটি কোটি বছর ধরে চলমান সামুদ্রিক পরিবেশগত পরিবর্তন সম্পর্কে নতুন তথ্য উন্মোচনের সুযোগ সৃষ্টি করবে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, দুর্গম এই অঞ্চল এখনও অনেকটাই অনাবিষ্কৃত, যা ভবিষ্যতে আরও নতুন প্রজাতি এবং চমকপ্রদ বৈজ্ঞানিক তথ্যের আবিষ্কারের সম্ভাবনা সৃষ্টি করে।
আরও পড়ুন: তথ্যের স্বচ্ছতা নিয়ে সংশয় না রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন সরকারপ্রধান: অর্থমন্ত্রী
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন