১০:৪৫ পি.এম
পটুয়াখালীর আলীপুর-মহিপুরের অন্যতম প্রধান মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের প্রবেশপথ খাপড়াভাঙা নদীর নাব্যতা সংকট নিরসনে ড্রেজিংয়ের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান। একই সঙ্গে বৈরী আবহওয়ায় সমুদ্রে থাকা জেলেদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে এলাকায় একটি লাইটিং হাউস (বাতিঘর) স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান তিনি।
রবিবার (২৩ আগস্ট) পটুয়াখালীর মহিপুরে ‘নৌযান শুমারি-২০২৬’ পরিদর্শন ও জেলেদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। পরে প্রতিমন্ত্রী খাপড়াভাঙা নদী ও জেলেদের বিভিন্ন মাছ ধরার ট্রলার পরিদর্শন করেন।
আরও পড়ুন: গাজীপুর শিল্পাঞ্চলে শ্রমিকরা কাজে ফিরেছেন, নতুন মজুরি ডিসেম্বর থেকে কার্যকর
পরিদর্শনের এক পর্যায়ে নির্দিষ্ট সময় আসলে দুপুরের ভাত খাওয়ার সময় জেলেরা ট্রলারে রান্না করা খাবার খাওয়ার প্রস্তাব দিলে প্রতিমন্ত্রী খেতে রাজি হয়ে যান। পরে তিনি জেলেদের সঙ্গেই ট্রলারে তাদের রান্না করা ভাত তরকারি খান।
এতে জেলেদের সঙ্গে তাঁর সরাসরি মতবিনিময়ের পাশাপাশি তাদের জীবনযাপন ও নৌযান চলাচলের বাস্তব সমস্যাগুলো কাছ থেকে জানার সুযোগ হয়।
মতবিনিময় সভায় ট্রলিং ট্রলারের প্রসঙ্গ তুলে প্রতিমন্ত্রী জানান, ট্রলিং ট্রলারের বিষয়টি নিয়ে সবার আরো সচেতন হওয়া উচিত। দিন শেষে অভিযোগের দিকে রাজনৈতিক দলের দিকেই আঙুল উঠতি থাকে। ট্রলিং ট্রলার বন্ধ না হলে দেশের ক্ষতি, মানুষের ক্ষতি, নেতৃত্বের ক্ষতি, সর্বোপরি ভোটের ক্ষতি হতেও পারে।
তিনি আরো বলেন, সামনে বেশ কয়েকটি নির্বাচন আছে। মানুষের কাছে ভোট চাইতে হবে। জেলেদের ক্ষতি করে এমন কোনো কর্মকাণ্ড চলতে দেওয়া হলে ভবিষ্যতে মানুষের কাছে যাওয়ার পরিস্থিতি কঠিন হয়ে পড়বে। তাই মানুষের অনুভূতি ও প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দিয়েই সবাইকে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
আরও পড়ুন: খুলনায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন
প্রতিমন্ত্রী বলেন, মানুষের অনুভূতিগুলো নিয়ে আমরা কাজ করব।
আশা করি, বিষয়টি সবাই গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবেন।
জেলেদের দীর্ঘদিনের দাবির বিষয় খাপড়াভাঙা নদীর নাব্যতা সংকট প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জেলেদের সুবিধার্থে খাপড়াভাঙা নদীতে ড্রেজিংয়ের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি সমুদ্রে বৈরী আবহাওয়ার সময় জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি লাইটিং হাউস নির্মাণের উদ্যোগও নেওয়া হবে।
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীন নৌপরিবহন অধিদপ্তরের ‘নৌযানের ডাটাবেইজ তৈরি ও নৌযান ব্যবস্থাপনায় সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় সারাদেশে নৌযান শুমারি-২০২৬ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এর মাধ্যমে নৌযানের হালনাগাদ তথ্য সংগ্রহ করে একটি সমন্বিত ডাটাবেইজ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এর ফলে নৌযান ব্যবস্থাপনা আরো কার্যকর ও সুশৃঙ্খল হবে এবং নৌখাতের উন্নয়ন, জেলেদের নিরাপত্তা ও নৌযান চলাচল ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আরও পড়ুন: বাকেরগঞ্জে শীতকালীন সবজির সহজলভ্যতায় স্বস্তিতে ক্রেতারা
এদিন একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমডোর মো. শফিউল বারী। এ সময় পায়রা বন্দরের সদস্য কমডোর তারেক, মহিপুর থানা বিএনপির সভাপতি আ. জলিল হাওলাদার, আলীপুর-মহিপুর মৎস্য আড়ত মালিক সমিতির নেতা, স্থানীয় জেলে ও ট্রলার মালিকসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক দলের নেতা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
মতবিনিময় সভা শেষে প্রতিমন্ত্রী খাপড়াভাঙা নদী পরিদর্শন করেন এবং নদীর নাব্যতা, জেলেদের ট্রলার চলাচল ও মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের বিভিন্ন সমস্যা সম্পর্কে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন