০৯:১২ পি.এম
ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার প্রলোভনে এক নারীর ধর্ষণের শিকার হওয়ার ঘটনা নিয়ে জাতীয় সংসদে ব্যাপক হইচই ও বিতর্ক হয়েছে। সরকারি দলের এক সংসদ সদস্যের বক্তব্যের পর অন্য এক সংসদ সদস্যের আপত্তির মুখে তা সংসদীয় কার্যবিবরণী থেকে বাদ (এক্সপাঞ্জ) দেওয়া হয়।
তবে পরে ওই সংসদ সদস্য ধর্ষণের ঘটনার সুনির্দিষ্ট মামলার তথ্য সংসদে উপস্থাপন করেন।
বৃহস্পতিবার (১৭ জুন) সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনা এবং পয়েন্ট অব অর্ডারে আলোচনা চলাকালে এই চিত্র উঠে আসে।
আরও পড়ুন: মাদারীপুরে কৃষককে কুপিয়ে জখম, প্রধান আসামি জাকির গ্রেফতার
বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. তাজউদ্দিন খান বলেন, ‘৪১ লাখ ফ্যামিলিকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। এটা হিসাব করলে ওয়ার্ডপিছু ৯০টি করে পরিবার পাবে।
তাহলে বাকি যে দরিদ্র ফ্যামিলিগুলো আছে, তাদের অবস্থাটা কী হবে?’
ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে মাঠপর্যায়ের অনিয়মের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড পাওয়ার প্রতিযোগিতার কারণে আমরা সংবাদপত্রগুলোতে ইতিমধ্যে দেখেছি—ফ্যামিলি কার্ড দিয়ে ধর্ষণের শিকার হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার প্রলোভনে টাকা নেওয়া হচ্ছে।’
তাজউদ্দিন খানের এই বক্তব্যের পরে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে তীব্র আপত্তি জানান নোয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য এম মাহবুবউদ্দিন খোকন। তিনি বলেন, ‘সংসদ সদস্য বলেছেন ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: সারজিস আলম: গণহত্যাকারী হাসিনার অলীক ডিসেম্বর বাংলাদেশে আসবে না
এটি দুঃখজনক ব্যাপার। সংসদে এভাবে কথা বলা উচিত নয়। সংসদের ভাষা জানতে হবে, সেভাবে বলতে হবে।’ তিনি এই বক্তব্যটি কার্যবিবরণী থেকে এক্সপাঞ্জ করার দাবি জানান।
সংসদ সদস্যের দাবির প্রেক্ষিতে অধিবেশনে সভাপতিত্বকারী ডেপুটি স্পিকার মেহেরপুরের এমপির ওই বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করার ঘোষণা দেন।
ডেপুটি স্পিকারের এই ঘোষণার পর পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে এর প্রতিবাদ জানান সিরাজগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, ‘এক্সপাঞ্জ তো হবে যদি অসত্য তথ্য দিয়ে থাকেন অথবা অসংসদীয় শব্দ যদি ব্যবহার করে থাকেন। আমার ধারণা উনি এ ধরনের (অসংসদীয়) কথা বলেননি। কাজেই উনাকে বক্তব্য রাখার সুযোগ দেওয়া হোক।’
সহকর্মীর এই প্রতিবাদের পর ডেপুটি স্পিকার মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য তাজউদ্দিন খানকে পুনরায় কথা বলার সুযোগ দেন। তখন তাজউদ্দিন খান তার বক্তব্যের সপক্ষে সুনির্দিষ্ট তথ্য ও মামলার বিবরণ তুলে ধরেন।
আরও পড়ুন: জিয়া সেদিন তাহেরের সাথে ক্যান্টনমেন্টের বাইরে গেলে ফিরে আসতেন না: ব্রি. সাখাওয়াত
তিনি সংসদে বলেন, ‘আমার কাছে যে তথ্য ছিল, তা সময়ের অভাবে আগে দিতে পারিনি। ২০২৬ সালের ১০ এপ্রিল ফরিদপুরের সোনাগাজী থানায় ফ্যামিলি কার্ডের প্রলোভনে ধর্ষণের অভিযোগের একটি মামলা হয় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে। ওসি এর প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছেন বলে এটি প্রমাণিত হয়েছে। এ ছাড়া গত ২৫ এপ্রিল রংপুর মিঠাপুকুর উপজেলার ভাঙা ইউনিয়ন পরিষদের বিএনপির সহসম্পাদক এনামুল হককে (অভিযোগের) প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কারণে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।’
দুই সংসদ সদস্যের এই যুক্তি-তর্ক ও তথ্যের পর ডেপুটি স্পিকার বলেন, ফ্যামিলি কার্ড যে প্রজেক্ট, সেটি শুধুমাত্র প্রধানমন্ত্রী বা এই সরকারের না; এটি সারা দেশের মানুষের একটা আকাঙ্ক্ষিত বিষয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন