১২:৫৩ এম
আম হলো গ্রীষ্মের একটি রসালো ফল। গ্রীষ্মের এই সময়ে পাকা আমের মিষ্টি গন্ধ এবং স্বাদ আমাদের আকর্ষণ করে। আম দিয়ে তৈরি বিভিন্ন পানীয় যেমন ম্যাঙ্গো শেক, স্মুদি, জুস এবং ডেজার্ট গ্রীষ্মকালকে আরও আনন্দময় করে তোলে। কিন্তু এই সম্পদের আনন্দ বেশি দিন স্থায়ী হয় না। মৌসুম শেষ হলে বাজার থেকে আম সহজেই উধাও হয়ে যায়, ফলে আমাদের পরবর্তী গ্রীষ্মের জন্য অপেক্ষা করতে হয়।
তবে একটি সঠিক পদ্ধতিতে আম সংরক্ষণ করে আমরা अनेक মাস ধরে আমের স্বাদ উপভোগ করতে পারি। ফ্রিজে সঠিকভাবে রাখলে আমের টুকরোগুলো ৬ থেকে ৮ মাস পর্যন্ত ভালো থাকে এবং গুণগত মানও অনেকটাই বজায় থাকে।
সংরক্ষণের জন্য প্রথমেই ভালো মানের আম নির্বাচন করা দরকার। এমন আম বেছে নিন যা পুরোপুরি পাকা, মিষ্টি এবং সতেজ। অতিরিক্ত নরম, পচা অথবা কালচে দাগযুক্ত আম ব্যবহার না করাই ভালো। ভালো মানের ফলগুলি দীর্ঘদিনের জন্য সংরক্ষণ করলে অনেক ভালো থাকে।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশের পোশাকশিল্প: সংকট ও উত্তরণের জন্য জাতীয় কর্মপরিকল্পনার প্রয়োজন
এরপর, আমগুলোর প্রথমে পরিষ্কার পানিতে ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে। ধোয়ার পর, একটি শুকনো সুতির কাপড় দিয়ে ভালোভাবে মুছে নিতে হবে। খোসায় পানি থাকলে আর্দ্রতা ফ্রিজে বরফের স্তর জমে ফলের স্বাদ ও গঠন নষ্ট করতে পারে।
এরপর, আমের খোসা ছাড়িয়ে আঁটি থেকে শাঁস আলাদা করে ছোট বা মাঝারি আকারের সমান টুকরো করে কাটুন। একই আকারের টুকরো হলে সেগুলো সমানভাবে জমে যাবে এবং পরে ব্যবহারে সুবিধা হবে।
কাটা আমের টুকরোগুলো একটি ট্রে বা বড় প্লেটে সাজাতে হবে, এতে যেন টুকরোগুলো একে অপরের সাথে না লেগে থাকে। পরে ট্রেটি ফুড গ্রেড প্লাস্টিক র্যাপ বা পরিষ্কার পলিথিন দিয়ে ঢেকে ফ্রিজারে রেখে দিন।
৪ থেকে ৫ ঘণ্টা, অথবা সারা রাত ফ্রিজারে রাখলে প্রতিটি টুকরো আলাদা আলাদাভাবে জমে যাবে। এতে পরে প্রয়োজনমতো টুকরো বের করতে সুবিধা হবে এবং সবগুলো একসঙ্গে আটকে যাবে না।
আরও পড়ুন: ৬ নভেম্বর: ইতিহাসের এই দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য ঘটনা
টুকরোগুলো শক্ত হয়ে গেলে সেগুলো একটি জিপ-লক ব্যাগ বা বায়ুরোধী (এয়ারটাইট) পাত্রে ভরুন। ব্যাগে যতটা সম্ভব কম বাতাস রাখুন। এতে আমের সতেজতা ও স্বাদ দীর্ঘদিন বজায় থাকবে।
এই নিয়ম মেনে আমের টুকরোগুলি সাধারণত ৬ থেকে ৮ মাস পর্যন্ত ভালো থাকে এবং এ সময়ের মধ্যে সহজেই ম্যাঙ্গো শেক, স্মুদি, আইসক্রিম, ফলের সালাদ বা বিভিন্ন মিষ্টান্ন তৈরিতে ব্যবহার করা যাবে।
একটি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ হচ্ছে, যতটুকু প্রয়োজনে কেবল ততটুকু আম ফ্রিজার থেকে বের করুন। অবশিষ্ট অংশ দ্রুত আবার ফ্রিজে রেখে দিন। প্রায় পাঁচ মিনিট আগে আম বের করে স্বাভাবিক তাপমাত্রায় রাখলে স্বাদ ও টেক্সচার আরও ভালো থাকে।
আরও পড়ুন: সেন্টমার্টিনে পর্যটকে প্রাণ ফিরেছে, দ্বীপবাসী স্বস্তিতে
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন