০৭:২১ পি.এম
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার কচাকাটা কলেজে ল্যাব সহকারী ও কর্মচারীসহ চারটি পদে নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ তুলে কলেজের অধ্যক্ষ এবং পরিচালনা কমিটির সভাপতির অপসারণ দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন করেছে নিয়োগ বঞ্চিত প্রার্থীসহ এলাকাবাসীরা।
রোববার (১ নভেম্বর) দুপুরে কচাকাটা হাই স্কুল থেকে একটি মিছিল বের হয়ে কচাকাটা বাজার ঘুরে কলেজ গেটে বিক্ষোভ প্রদর্শন করা হয়। এ সময় পুলিশি পাহারায় কলেজ গেট তালাবদ্ধ থাকলে বিক্ষোভকারীরা গেট ভেঙে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করেন। পরে গেটের সামনে কলেজ সভাপতি ডা. মো. ইউনুস আলী ও কলেজের অধ্যক্ষ রফিকুল ইসলাম জুয়েলের ছবি ও কুশপুত্তলিকায় আগুন দিয়ে তারা তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করেন। কলেজের গেট খুলে দেওয়ার পর মাঠে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে নিয়োগবঞ্চিতরা অভিযোগ করেন, মেধা তালিকায় থাকা প্রার্থীদের বাদ দিয়ে পরীক্ষার চারদিন পর ফল প্রকাশ করে মোটা পরিমাণ অর্থের বিনিময়ে কলেজ কমিটির সভাপতি ডা. ইউনুস আলী ও অধ্যক্ষ রফিকুল ইসলাম কম মেধাবীদের নিয়োগ প্রদান করেছেন। তারা নিয়োগকে অবৈধ উল্লেখ করে নতুন করে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক নিয়োগের দাবি জানান।
আরও পড়ুন: শরিফুল রাজকে আইনি নোটিশ পাঠালো রিয়েল এনার্জি প্রোডাকশন
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ২৪ অক্টোবর সকাল ১০টায় কচাকাটা কলেজের কম্পিউটার কাম অফিস সহকারী, ল্যাব সহকারী, নৈশ প্রহরী ও আয়া পদে নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। এসব পদে ৪৫ চাকরিপ্রত্যাশী আবেদন করেন। ওইদিন যথাসময়ে লিখিত পরীক্ষায় অংশ নিতে সবাই উপস্থিত থাকলেও পরীক্ষা নেওয়া হয় দুপুরের পর। এছাড়া লিখিত পরীক্ষা শেষে ফলাফল প্রকাশ না করে সবার ভাইভা নেওয়া হয়। ভাইভা শেষে পরীক্ষার ফল প্রকাশ না করে চারদিন পর ফল প্রকাশ করার কথা বললে নিয়োগ সংশ্লিষ্টরা তোপের মুখে পড়েন। পরে কচাকাটা থানা পুলিশের সহায়তায় অধ্যক্ষসহ অন্যরা কলেজ ত্যাগ করেন।
প্রার্থীরা অভিযোগ করেন, মেধাক্রম অনুসরণ করে ফল ঘোষণা করে ভাইভা পরীক্ষা নেওয়া হয়। চূড়ান্ত ফল ঘোষণা না করে রাত আটটার দিকে কলেজ ছাড়েন পরীক্ষক ও কলেজ সংশ্লিষ্টরা। পরে ২৭ তারিখ সকালে পরীক্ষার ফলাফল কলেজের নোটিশ বোর্ডে ঝুলিয়ে দেন অধ্যক্ষ। তবে ফলাফল পত্রে ২৪ অক্টোবর তারিখে স্বাক্ষর দেখা যায়। লিখিত পরীক্ষার মেধাক্রমে উপরে থাকা প্রার্থীরা চাকরি পাননি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করে কর্মসূচি নেন বঞ্চিত নিয়োগ প্রার্থী ও স্থানীয়রা।
এ সময় বক্তব্যে অনিছূর রহমান তোলা ব্যাপারী বলেন, "নিয়োগ বাণিজ্য করার উদ্দেশ্যে ডা. ইউনুস ফ্যাসিবাদী কায়দায় উড়ে এসে সভাপতি হয়েছেন। মাত্র ১০ মাসের মাথায় অবৈধভাবে নিয়োগ বাণিজ্য করেছেন। কলেজটিকে মেধাশূন্য করার পাঁয়তারা করতেন। অবৈধ নিয়োগ বাতিল করে নতুন করে নিয়োগের দাবি জানান তিনি।
আরও পড়ুন: গাজীপুরে শ্রমিক আন্দোলনে উসকানির অভিযোগে ছাত্রলীগ-শ্রমিক লীগের ৩০ নেতাকর্মী গ্রেফতার
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন